বর্ষায় পাইকগাছার জলাশয়ে ফুটেছে প্রকৃতির সৌন্দর্য শাপলা
বর্ষায় পাইকগাছার জলাশয়ে ফুটেছে প্রকৃতির সৌন্দর্য শাপলা
এম জালাল উদ্দীন, পাইকগাছা (খুলনা):
বর্ষা এলেই খুলনার পাইকগাছার খাল-বিল, পুকুর, বাঁওড় ও জলাশয়গুলো ছেয়ে যায় নানা রঙের শাপলা ফুলে। পানির ওপর ভেসে থাকা সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা সাদা, গোলাপি ও বেগুনি শাপলা যেন প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য ছড়িয়ে দেয়। আর সেই সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে জলাশয়ে নেমে শাপলা তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে গ্রামের শিশুরা।
সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের জলাশয়ে দেখা গেছে, ছোট ছোট শিশুরা দলবেঁধে পানিতে নেমে শাপলা তুলছে। কারও হাতে একগুচ্ছ শাপলা, কেউ আবার ডাঁটি ধরে ফুল সংগ্রহ করছে। শাপলা হাতে নিয়ে তাদের উচ্ছ্বাস আর আনন্দে মুখর হয়ে উঠছে জলাশয়ের পাড়।
শাপলা বা নাল এক ধরনের জলজ সপুষ্পক উদ্ভিদ। বাংলার গ্রাম-গঞ্জে অনেক জায়গায় এটি নালফুল নামেও পরিচিত। সাধারণত বর্ষা ও শরৎকালে খাল-বিল, বাঁওড়, দিঘি ও জলাশয়ে বেশি শাপলা ফুটতে দেখা যায়। ভোরবেলায় শাপলা ফুল ফোটে এবং দিনের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাপড়ি বুজে আসে।
শাপলার পাতা গোল ও সবুজ রঙের। পাতার নিচের অংশ সাধারণত কালচে এবং পাতাগুলো পানির ওপর ভেসে থাকে। ফুলের ডাঁটি পানির নিচে থাকা মূলের সঙ্গে যুক্ত থাকে। শাপলা ফুল সাদা, গোলাপি, নীল, বেগুনি ও হালকা হলুদসহ বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে।
শাপলা শুধু সৌন্দর্যের প্রতীকই নয়, গ্রামীণ মানুষের জীবন ও খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গেও এর রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। শাপলার ডাঁটি অনেক এলাকায় সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। পূর্ণবিকশিত ফুলের গর্ভাশয়ে থাকা বীজ থেকেও তৈরি হয় জনপ্রিয় গ্রামীণ খাবার ‘ঢ্যাপের খৈ’। এছাড়া শাপলার গোড়ায় থাকা কন্দ, যা ‘শালুক’ নামে পরিচিত, সেটিও অনেকে খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করেন।
বাংলাদেশের জাতীয় ফুল সাদা শাপলা। বর্ষায় পাইকগাছার জলাশয়ে ফুটে থাকা শাপলা ফুল আর তা তুলতে ছুটে চলা শিশুদের দৃশ্য তাই গ্রামীণ প্রকৃতির এক চিরচেনা ছবি। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি জলাশয়ে নামার সময় শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়েও অভিভাবকদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের আগষ্ট মাসে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মশ্বিমনগর ইউনিয়নের হাজরাকাটি গ্রামের পারখাজুরা বাঁওড়ে শাপলা তুলতে গিয়ে মোছা. ইয়াসমিন (৬) ও মফিজুর রহমানের ছেলে মো. জিসান (১০), নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

Leave a Reply