কোমরব্যথা অবহেলা নয়: এল৫–এস১ ডিস্ক বাল্জ ও হার্নিয়েশনের সতর্কসংকেত
কোমরব্যথা অবহেলা নয়: এল৫–এস১ ডিস্ক বাল্জ ও হার্নিয়েশনের সতর্কসংকেত
ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
কোমরব্যথা আমাদের সমাজে অত্যন্ত পরিচিত একটি স্বাস্থ্যসমস্যা। দীর্ঘসময় বসে থাকা, ভুল ভঙ্গিতে কাজ করা, ভারী জিনিস তোলা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, আঘাত কিংবা বয়সজনিত পরিবর্তনের কারণে কোমরে ব্যথা হতে পারে। তবে কোমরব্যথার সঙ্গে যদি নিতম্ব বা পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা, ঝিনঝিন, অবশভাব কিংবা পেশিশক্তি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ যুক্ত হয়, তখন মেরুদণ্ডের আন্তঃকশেরুকা ডিস্কের সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
৩৩ বছর বয়সী একজন পুরুষের কোমরের মেরুদণ্ডের। এতে এল৫–এস১ পর্যায়ে ডিস্কের ক্ষয়জনিত পরিবর্তন, ডিস্কের পানির পরিমাণ কমে যাওয়া, ডিফিউজ ডিস্ক বাল্জ এবং কেন্দ্রীয় ডিস্ক হার্নিয়েশন দেখা গেছে। এর ফলে থিকাল স্যাকের ওপর চাপ এবং সংশ্লিষ্ট স্নায়ুমূলে চাপের উল্লেখ রয়েছে। দুই পাশের নিউরাল ফোরামিনেও মৃদু সংকোচন রয়েছে। রিপোর্টের চূড়ান্ত মতামতে ডিজেনারেটিভ ডিস্ক ডিজিজের কথা বলা হয়েছে।
তবে এমআরআইতে পরিবর্তন দেখা গেলেই রোগের তীব্রতা নির্ধারণ করা যায় না। রোগীর উপসর্গ, স্নায়ুর শারীরিক পরীক্ষা এবং দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে সমস্যার মাত্রার সঙ্গে রিপোর্ট মিলিয়ে চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
ডিস্ক বাল্জ ও হার্নিয়েশন কী?
মেরুদণ্ডের দুটি কশেরুকার মাঝখানে থাকা কুশনের মতো অংশকে আন্তঃকশেরুকা ডিস্ক বলা হয়। এটি মেরুদণ্ডের ওপর চাপ শোষণ করে এবং শরীরের নড়াচড়ায় সহায়তা করে।
ডিস্কের বাইরের অংশ তুলনামূলক বিস্তৃতভাবে ফুলে উঠলে তাকে ডিস্ক বাল্জ বলা হয়। অন্যদিকে ডিস্কের ভেতরের অংশ বাইরের আবরণ দুর্বল বা ছিঁড়ে নির্দিষ্ট দিকে বেরিয়ে এলে তাকে ডিস্ক হার্নিয়েশন বলা হয়। বেরিয়ে আসা অংশটি কাছের স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করলে কোমর থেকে পায়ের দিকে ব্যথা, অবশভাব বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
এল৫–এস১ হলো কোমরের পঞ্চম কশেরুকা ও স্যাক্রামের প্রথম কশেরুকার মধ্যবর্তী অংশ। কোমরের ডিস্ক সমস্যার ক্ষেত্রে এই স্থানটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।
এমআরআই রিপোর্টে কী বলা হয়েছে?
রিপোর্টের প্রধান বিষয়গুলো হলো—
* কোমরের স্বাভাবিক বাঁক বা লাম্বার লর্ডোসিস বজায় রয়েছে।
* এল৫–এস১ ডিস্কে ক্ষয়জনিত পরিবর্তন এবং পানির পরিমাণ কমে যাওয়ার লক্ষণ রয়েছে।
* একই পর্যায়ে ডিফিউজ ডিস্ক বাল্জের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ডিস্ক হার্নিয়েশন রয়েছে।
* থিকাল স্যাকের ওপর চাপ পড়ছে।
* সংশ্লিষ্ট স্নায়ুমূলে চাপের উল্লেখ রয়েছে।
* দুই পাশে নিউরাল ফোরামিন সামান্য সংকুচিত হয়েছে।
* কশেরুকাগুলোর উচ্চতা ও অবস্থান স্বাভাবিক রয়েছে।
* দৃশ্যমান স্পাইনাল কর্ড ও কনাস মেডুলারিসে উল্লেখযোগ্য অস্বাভাবিকতা নেই।
* আশপাশে টিউমার বা অস্বাভাবিক ভরের মতো পরিবর্তন উল্লেখ করা হয়নি।
অর্থাৎ, রিপোর্টের মূল সমস্যা হলো এল৫–এস১ ডিস্কের ক্ষয়জনিত পরিবর্তনের সঙ্গে বাল্জ ও কেন্দ্রীয় হার্নিয়েশন এবং এর ফলে সম্ভাব্য স্নায়ুচাপ।
কেন হয় ডিস্ক বাল্জ ও হার্নিয়েশন?
ডিস্কের এই পরিবর্তনের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে ডিস্কে পানির পরিমাণ কমে তার নমনীয়তা হ্রাস পেতে পারে। দীর্ঘদিন ভারী কাজ করা, ভুল কৌশলে ভার তোলা, বারবার কোমরের ওপর চাপ পড়া এবং দীর্ঘসময় একটানা বসে থাকার মতো অভ্যাসও ঝুঁকি বাড়াতে পারে।এ ছাড়া পড়ে যাওয়া বা দুর্ঘটনার মতো আঘাত, বংশগত প্রবণতা এবং ধূমপানের সঙ্গে ডিস্কের ক্ষয় ও হার্নিয়েশনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি কারণ চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না।
লক্ষণ কেমন হতে পারে?
ডিস্ক বাল্জ বা হার্নিয়েশন থাকলেও সবার উপসর্গ একই হয় না। কারও শুধু কোমরে ব্যথা বা শক্তভাব থাকতে পারে, আবার স্নায়ুতে চাপ পড়লে ব্যথা কোমর থেকে নিতম্ব হয়ে পায়ের দিকে ছড়িয়ে যেতে পারে।
সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
* কোমরে ব্যথা বা শক্তভাব
* নিতম্বে ব্যথা
* পায়ের দিকে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা
* পায়ে ঝিনঝিন বা অবশভাব
* পায়ের কোনো অংশে অনুভূতি কমে যাওয়া
* পেশিশক্তি কমে যাওয়া
* দীর্ঘসময় বসা, দাঁড়ানো বা হাঁটার সময় ব্যথা বাড়া
* কাশি বা হাঁচির সময় ব্যথা বেড়ে যাওয়া
* কোমর থেকে নিতম্ব ও পায়ের দিকে স্নায়ুর পথ অনুসরণ করে ব্যথা ছড়িয়ে পড়লে স্নায়ুচাপের সম্ভাবনা চিকিৎসকের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
ডিস্ক সমস্যার প্রকারভেদ
ডিস্কের পরিবর্তনকে সাধারণভাবে কয়েকটি ভাগে বর্ণনা করা হয়।
* বাল্জ: ডিস্কের বাইরের অংশ তুলনামূলক বিস্তৃতভাবে বাইরে ফুলে ওঠে।
* প্রোট্রুশন: ডিস্কের একটি নির্দিষ্ট অংশ বাইরে এগিয়ে আসে, তবে বেরিয়ে আসা অংশের গোড়ার সংযোগ তুলনামূলক প্রশস্ত থাকে।
* এক্সট্রুশন: ডিস্কের বেরিয়ে আসা অংশের সঙ্গে মূল অংশের সংযোগ অপেক্ষাকৃত সরু হতে পারে।
* সিকোয়েস্ট্রেশন: বেরিয়ে আসা ডিস্কের অংশ মূল ডিস্ক থেকে আলাদা হয়ে যেতে পারে।
কোন ধরনের পরিবর্তন হয়েছে, তার চেয়ে রোগীর স্নায়ুর ওপর কতটা প্রভাব পড়েছে এবং উপসর্গ কতটা গুরুতর—চিকিৎসার ক্ষেত্রে সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কী কী জটিলতা হতে পারে?
অনেক ডিস্ক হার্নিয়েশনের উপসর্গ সময়ের সঙ্গে কমে যেতে পারে এবং সব রোগীর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। তবে দীর্ঘসময় স্নায়ুর ওপর চাপ থাকলে দীর্ঘস্থায়ী কোমর বা পায়ের ব্যথা, অবশভাব, পেশিশক্তি কমে যাওয়া এবং হাঁটা বা দৈনন্দিন কাজকর্মে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী স্নায়ু ক্ষতিও হতে পারে।
যেসব লক্ষণে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন
কোমরব্যথার সঙ্গে মূত্র বা পায়খানা নিয়ন্ত্রণে নতুন সমস্যা, যৌনাঙ্গ বা উরুর ভেতরের অংশে অনুভূতি কমে যাওয়া, অথবা দ্রুত বাড়তে থাকা পায়ের দুর্বলতা দেখা দিলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। এগুলো গুরুতর স্নায়ুচাপের লক্ষণ হতে পারে।
রোগ নির্ণয় কীভাবে করা হয়?
রোগ নির্ণয়ের শুরুতে চিকিৎসক রোগীর ব্যথার ইতিহাস, ব্যথার স্থান, পায়ে ছড়িয়ে পড়ছে কি না, অবশভাব বা দুর্বলতা আছে কি না—এসব জানতে চান। এরপর পায়ের পেশিশক্তি, অনুভূতি, রিফ্লেক্স এবং স্নায়ুর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজন হলে সোজা পা ওঠানোর পরীক্ষাও করা হতে পারে।
এমআরআই কোমরের ডিস্ক, স্নায়ু এবং আশপাশের কাঠামোর অবস্থা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তবে এমআরআইয়ের ফলাফলকে রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হয়। কারণ অনেক মানুষের এমআরআইতে ডিস্কের পরিবর্তন থাকলেও তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে।
নারী, পুরুষ ও শিশু—কারা বেশি ঝুঁকিতে?
সাধারণ কোমরব্যথা নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই ব্যাপক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে ২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬১৯ মিলিয়ন মানুষ কোমরব্যথায় আক্রান্ত ছিলেন।
অন্যদিকে, লাম্বার ডিস্ক হার্নিয়েশন সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং ৩০–৫০ বছর বয়সে এর প্রবণতা উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন গবেষণায় পুরুষদের মধ্যে এর হার তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে। এল৪–এল৫ ও এল৫–এস১ পর্যায়েও হার্নিয়েশন বেশি দেখা যায়।
শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে কোমরের ডিস্ক হার্নিয়েশন তুলনামূলক বিরল। তাদের কোমরব্যথা হলে আঘাত, জন্মগত সমস্যা, প্রদাহসহ অন্যান্য কারণও বিবেচনা করতে হয়।
এল৫–এস১ ডিস্ক বাল্জ ও হার্নিয়েশন: হোমিওপ্যাথিক ব্যবস্থাপনা
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাদর্শনে রোগীকে শুধু রোগের নাম দিয়ে মূল্যায়ন না করে তাঁর সামগ্রিক শারীরিক বৈশিষ্ট্য, ব্যথার প্রকৃতি, ব্যথার স্থান ও বিস্তার, কোন অবস্থায় ব্যথা বাড়ে বা কমে, নড়াচড়ার সঙ্গে উপসর্গের সম্পর্ক এবং ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা হয়। এল৫–এস১ ডিস্ক বাল্জ ও হার্নিয়েশনের ক্ষেত্রে কোমরব্যথার পাশাপাশি নিতম্ব বা পায়ের দিকে ব্যথা ছড়ানো, ঝিনঝিন, অবশভাব, পেশিশক্তির পরিবর্তন এবং চলাফেরায় অসুবিধার মতো উপসর্গগুলোও মূল্যায়নের অংশ হতে পারে।
হোমিওপ্যাথিক ব্যবস্থাপনায় রোগীর উপসর্গের স্বাতন্ত্র্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই ধরনের ডিস্ক সমস্যা থাকলেও একজন রোগীর ব্যথা নড়াচড়ায় বাড়তে পারে, অন্যজনের বিশ্রামে বাড়তে পারে; কারও ব্যথা টান ধরার মতো, কারও জ্বালাপোড়া বা বিদ্ধ করার মতো অনুভূত হতে পারে। এসব বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ব্যবস্থাপনা নির্ধারণের কথা বলা হয়।
যেসব হোমিওপ্যাথিক ওষুধ বিবেচনায় আসতে পারে
উপসর্গের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের বিবেচনায় আর্নিকা মন্টানা, ব্রায়োনিয়া, রাস টক্সিকোডেনড্রন, রুটা গ্রেভিওলেন্স, কালকারিয়া ফ্লোরিকা, কালকারিয়া কার্বোনিকা, কলোসিন্থিস, ম্যাগনেশিয়া ফসফোরিকা, নাক্স ভমিকা, বেলাডোনা, গ্নাফালিয়াম, হাইপেরিকাম, সিম্ফাইটাম, সেপিয়া, লাইকোপোডিয়াম, সালফার, ফসফরাস, আর্সেনিকাম অ্যালবাম, ক্যামোমিলা ও কস্টিকাম।তবে এগুলো রোগের জন্য নির্দিষ্ট বা সবার জন্য প্রযোজ্য ওষুধ নয়; রোগীর পূর্ণাঙ্গ উপসর্গচিত্র অনুযায়ী নির্বাচন করার বিষয়টি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাপদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ব্যক্তিকেন্দ্রিক মূল্যায়ন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এল৫–এস১ ডিস্ক বাল্জ বা হার্নিয়েশনের রোগীর ক্ষেত্রে শুধু কোমরব্যথা আছে কি না তা দেখলেই যথেষ্ট নয়। ব্যথা কোথা থেকে শুরু হচ্ছে, পায়ের কোন অংশে যাচ্ছে, অবশভাব আছে কি না, হাঁটতে সমস্যা হচ্ছে কি না, পেশিশক্তি কমেছে কি না এবং কোন অবস্থায় উপসর্গ বাড়ছে—এসব বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।এমআরআই রিপোর্টে হার্নিয়েশন থাকলেও রোগীর উপসর্গ কম হতে পারে। আবার তুলনামূলক সীমিত পরিবর্তনেও কারও স্নায়বিক উপসর্গ বেশি হতে পারে। তাই রোগীর শারীরিক পরীক্ষা ও এমআরআইয়ের ফল একসঙ্গে মূল্যায়ন করা জরুরি।
জীবনযাপন ও সহায়ক পরিচর্যা
হোমিওপ্যাথিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাপনে কিছু সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘসময় একটানা বসে থাকা এড়িয়ে চলা, কাজের সময় সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা, ভুলভাবে ভারী জিনিস না তোলা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা প্রয়োজন। ব্যথা থাকলে নিজের ইচ্ছায় অতিরিক্ত ব্যায়াম বা কোমরে জোর দিয়ে টান দেওয়ার পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত নয়।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে সতর্কতা
হোমিওপ্যাথিক ওষুধকে এল৫–এস১ ডিস্ক হার্নিয়েশন বা স্নায়ুচাপ সারানোর প্রমাণিত চিকিৎসা হিসেবে দাবি করা উচিত নয়। বর্তমানে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণে হোমিওপ্যাথি ডিস্ক হার্নিয়েশনজনিত স্নায়ুচাপ দূর করতে পারে—এমন প্রতিষ্ঠিত প্রমাণ নেই। তাই রোগী হোমিওপ্যাথিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে চাইলে তা যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, স্নায়ু পরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শের বিকল্প না হয়।বিশেষ করে পায়ের দুর্বলতা দ্রুত বাড়া, মূত্র বা পায়খানা নিয়ন্ত্রণে নতুন সমস্যা, কিংবা যৌনাঙ্গ ও উরুর ভেতরের অংশে অনুভূতি কমে যাওয়া দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে জরুরি মূল্যায়ন প্রয়োজন। এসব লক্ষণে চিকিৎসা নিতে দেরি করা উচিত নয়।সুতরাং এল৫–এস১ ডিস্ক বাল্জ ও হার্নিয়েশনের ক্ষেত্রে রোগীর ব্যক্তিগত উপসর্গ ও সামগ্রিক শারীরিক বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে হোমিওপ্যাথিক ব্যবস্থাপনা নিতে চাইলে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। একই সঙ্গে রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, স্নায়বিক মূল্যায়ন এবং প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা-পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখা জরুরি।
ঝুঁকি কমাতে করণীয়
কোমরের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমানো, নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা, দীর্ঘসময় একটানা বসে না থাকা এবং ভারী জিনিস তোলার সময় সঠিক কৌশল অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। ধূমপান পরিহার করাও উপকারী।
তবে এমআরআইতে ডিস্ক বাল্জ বা হার্নিয়েশন ধরা পড়লে নিজের ইচ্ছায় ব্যায়াম, কোমরে টান দেওয়ার পদ্ধতি বা ওষুধ শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ একই রিপোর্টের রোগীদের উপসর্গ ও চিকিৎসার প্রয়োজন একরকম নাও হতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, এল৫–এস১ ডিস্ক বাল্জ ও হার্নিয়েশন একটি পরিচিত মেরুদণ্ডজনিত সমস্যা, তবে এমআরআই রিপোর্টের শব্দ দেখে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। উপস্থাপিত রিপোর্টে এল৫–এস১ পর্যায়ে ডিজেনারেটিভ ডিস্ক পরিবর্তন, ডিফিউজ বাল্জ ও কেন্দ্রীয় হার্নিয়েশনের পাশাপাশি থিকাল স্যাক ও সংশ্লিষ্ট স্নায়ুমূলে চাপের উল্লেখ রয়েছে। দুই পাশের নিউরাল ফোরামিনেও মৃদু সংকোচন রয়েছে। অন্যদিকে কশেরুকা ও দৃশ্যমান স্পাইনাল কর্ডে বড় কোনো অস্বাভাবিকতা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রিপোর্ট নয়, রোগীর উপসর্গ ও স্নায়ুর অবস্থার সঙ্গে রিপোর্টের মিল। তাই কোমরব্যথার সঙ্গে পায়ে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা, অবশভাব বা দুর্বলতা থাকলে যথাযথ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর মূত্র-পায়খানা নিয়ন্ত্রণে নতুন সমস্যা কিংবা দ্রুত বাড়তে থাকা পায়ের দুর্বলতা দেখা দিলে তা জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
লেখক : কলাম লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান : জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি
ইমেইল :drmazed96@gmail.com

Leave a Reply