বাঁশদহায় ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বিভ্রান্তি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
বাঁশদহায় ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বিভ্রান্তি ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিনিধি: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণা আর ভোটারদের কাছে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিশ্রুতি দিতে শুরু করেছেন প্রার্থীরা। তবে এবার প্রচার-প্রচারণায় গিয়ে ভোটারদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদহা ইউনিয়নের এক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ভোটারদের অভিযোগ বাঁশদহা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম বিভিন্ন ধরনের বিতর্কিত কর্মকান্ড করছেন। বিতর্কিত কর্মকান্ডের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের নামে ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ, নির্বাচনী প্রচারণায় কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি ব্যবহার এবং প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ওই প্রার্থীর এসব বিতর্কিত কর্মকান্ডে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে পাশাপাশি স্থানীয় মহলে তীব্র ক্ষোভের দানা বেঁধেছে।
স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বেলে জানা গেছে, ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ডা. নজরুল ইসলাম সাধারণ মানুষকে ফ্যামিলি কার্ড তৈরি করে দেওয়ার কথা বলে তাদের ব্যক্তিগত ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সংগ্রহ করছেন। সরকারি কোনো অনুমোদন বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই তিনি নিজেই এ কার্ড দিতে পারবেন বলে এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন।
সচেতন মহলের মতে, সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের আশ্বাস সাধারণ মানুষের মধ্যে মারাত্মক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য এভাবে সংগ্রহের ফলে তথ্যের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভোটারদের অভিযোগ, ডা. নজরুল ইসলাম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও থানা প্রশাসনের সঙ্গে বিশেষ সখ্য ও যোগাযোগের কথা বলে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছেন। প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে নির্বাচনী মাঠে ভোটার ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রভাবিত করার এই প্রবণতা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে ভোটাররা মনে করছেন।
এদিকে, তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির জাতীয় পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতাদের ছবি ব্যবহার করতেও দেখা গেছে। দলীয় সংশ্লিষ্ট নেতাদের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন ও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ছাড়া এ ধরনের ছবি ব্যবহার করা রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও দলীয় নীতিমালার পরিপন্থী কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ধরনের প্রচার দলীয়ভাবে অনুমোদিত কি না, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানা গুঞ্জন চলছে।
এলাকার সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির নামে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ, রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার বা প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগগুলোর একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে নির্বাচনী মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এসব বিষয়ে কথা বলতে বাঁশদহা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. নজরুল ইসলামের মোবাইলে ফোন দিলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

Leave a Reply