পদ্মপুকুরের কয়েকটি গ্রামের রাস্তায় লাগেনি উন্নয়নের ছোয়া: অন্যতম চাউলখোলা গ্রাম
পদ্মপুকুরের কয়েকটি গ্রামের রাস্তায় লাগেনি উন্নয়নের ছোয়া: অন্যতম চাউলখোলা গ্রাম
স.ম মুজাহিদ, পদ্মপুকুর (শ্যামনগর) প্রতিনিধিঃ
বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত ছোঁয়া লাগেনি পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে তার মধ্যে ইউনিয়নের চাউলখোলা খুটিকাটাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের চলাচলের অধিকাংশ সড়ক এখনো মাটির হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা ও পানি জমে এসব এলাকার মাটির তৈরি অধিকাংশ সড়কে চলাচল প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের যাতায়াতের জন্য চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় বর্ষা মৌসুমে কয়েকটি মাস।সড়কে প্রচুর কাঁদা হওয়ায় স্কুল মাদ্রাসায় সঠিক সময়ে এবং নিয়মিত ছাত্র-ছাত্রীরা যেতে পারছে না যার কারনে এসব এলাকায় রাস্তাঘাট অনুন্নত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ছে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাগুলো পাকা করার দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন এসব সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এছাড়াও চাউল খোলা গ্রামের স্থানীয় যুবক রায়হানুল ইসলাম (রাহাত) বলেন, চাউলখোলা গ্রামে বর্তমানে প্রায় শতাধিক পরিবার বসবাস করছে। অথচ পুরো গ্রামে একটি ইটের রাস্তাও নেই। যে কাঁচা মাটির রাস্তাগুলো রয়েছে, সেগুলোও অনেক জায়গায় ভেঙে প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নদীর লবণপানি ব্যবহার করে মাছের ঘের পরিচালনার প্রভাবেও রাস্তার দুই পাশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বছরের পর বছর সরকারি রাস্তা ব্যবহার করা হলেও সেগুলো রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা বড় কোনো দাবি করছি না। অন্তত মানুষের স্বাভাবিক চলাচল, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া এবং অসুস্থ রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার মতো ন্যূনতম যোগাযোগব্যবস্থা চাই। স্থানীয় সরকার, জনপ্রতিনিধি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের অনুরোধ—চাউলখোলা গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ সরেজমিনে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন,বর্ষাকালে আমাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়। রাস্তা কাদায় ভরে যায়। অনেক সময় বাড়ি থেকে স্কুলে পৌঁছানোর আগেই কাদামাটিতে পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। তাই কোনো কোনো শিক্ষার্থীকে সঙ্গে অতিরিক্ত পোশাক নিয়ে বের হতে হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই চলাচলের দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়।, বর্ষা মৌসুমে মাটির রাস্তায় কাদা জমে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা কোথাও কোথাও হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে ওঠে। জরুরি প্রয়োজনে রোগী বা প্রসূতিকে হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বিড়ম্বনায় পড়তে হয় বলে জানান তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ মাটির রাস্তাগুলো পাকা করা হোক। এতে মানুষের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আরও গতিশীল হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

Leave a Reply