স্কুলের জায়গা দখলের অভিযোগে মানববন্ধন।
স্কুলের জায়গা দখলের অভিযোগে মানববন্ধন।
গাজী আল ইমরান, শ্যামনগর ব্যুরোঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ৬৯ নং বংশীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারির ভিতর দোকান করে দীর্ঘদিন ধরে দখলে রাখেছেন স্থানীয় ব্যাবসায়ী শফিকুল ইসলাম (খুদু)। যে কারনে স্কুলে বরাদ্ধকৃত নতুন ভবন নিন্মান না হওয়ার উপক্রম। স্থাপনাটি দ্রুত অপসারণ কবে বিদ্যালয়ের জায়গা উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার উপজেলার ইউনিয়নের বংশীপুর বাজারে ৬৯ নং বংশীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষকমন্ডলী, অভিভাবক ও এস,এম,সি’র সদস্যবৃন্দের আয়োজনে প্রধান শিক্ষক মদনমোহন মিস্ত্রির সভাপতিত্বে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে শিক্ষকরারা বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন টিনশেড হওয়ায় বর্ষার সময় জরাজীর্ণ চাল থেকে পানি পড়ে। আবার গরমের দিনে প্রচন্ড তাপে শিশুদের পড়াশোনা করাটা খুব কষ্টকর। তাই শিক্ষক ছাত্র এবং অভিভাবকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল নতুন ভবনের। ভবন বরাদ্ধও হয়েছে। ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে স্কুলের টয়লেটটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। কিন্তু স্কুল বাউন্ডারির ভিতরে শফিকুল ইসলাম নামে এক বেক্তি দোকান ঘর বেঁধে দীর্ঘদিন যাবত দখল করে আছে। যে কারণে জায়গা সংকুলার না হয় বরাদ্দটি বাস্তবায়ন না হওয়ার শঙ্কায় তৈরি হয়েছে। এজন্য আমাদের দাবি স্কুল বাউন্ডারির ভিতর নিন্মিত স্থাপনাটি উচ্ছেদ করা হোক।
অভিভাবক মিসেস বন্যা বলেন, আমরা চাই স্কুলের নতুন ভবন হোক কিন্তু এই অবৈধ স্থাপনার জন্য সেটা সম্ভব হচ্চে না। অবৈধ স্থাপনাটি উচ্ছেদ করে স্কুলের বিল্ডিং এর কাজ যতদ্রুত সম্ভব শুরু করা হোক।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মেহেদী হাসান বলেন, আমরা অনেকদিন ধরে এই দোকানটা অবসারণের জন্য কাজ করছি। ইতিপূর্বে অনেক চেষ্টা করেও কোনো সুরহা হয়নি। স্কুলের অবকাঠামোগত অবস্থা খুবই কঠিন, বাচ্চাদের জন্য খুব কষ্টকর হয়ে পড়ছে।
প্রধান শিক্ষক মদনমোহন মিস্ত্রির অভিযোগ আমাদের স্কুল কম্পাউন্ড এর ভিতর অনেক আগে জবরদখল করে স্থাপনাটি করেছিলো। আজ এই দোকানটির কারণে স্কুলের নতুন বরাদ্দকৃত ভবনটি নির্মাণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভবন নির্মাণ বন্ধ হলে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হবে। দখলকারী ব্যক্তি হঠাৎ একটা কাগজ বের করে দাবি করতেছে এজায়গা তার। আমরা জানি না সেই কাগজের সত্যতা কতটুকু।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ফাতিমাতুজ জোহরা শম্পা বলেন, জার্মানির ক্রিম প্রকল্পের আওতায় একটি ভবন বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু এই অবৈধ স্থাপনার জন্য ভবনটির নিন্মান কাজ বাস্তবায়ন করা যাচ্চে না। প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাতে স্কুল ভেতর থেকে এই স্থাপনাটি দ্রুত অপসারণ করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম জানান তিনি ৩১ বছর ধরে এই জায়গায় দোকান করে ভোগদখলে আছি। তবে ২০০৭ সালে জেলা পরিষদ থেকে এই জায়গার কাগজ আমার নামে করে নিয়েছি। এটা স্কুলের জায়গা হলে ছেড়ে দেব।

Leave a Reply