ঢাকাSunday , 27 September 2026
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

পাইকগাছায় ডেঙ্গুর প্রকোপ; ২৬ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ১০২

Majharul islam ঢাকা
আপডেট: 27 September 2026, 20:00

পাইকগাছায় ডেঙ্গুর প্রকোপ; ২৬ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ১০২

এম জালাল উদ্দীন, পাইকগাছা (খুলনা):

খুলনার পাইকগাছায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েই চলেছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২৬ দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছে। রোগীর চাপ সামলাতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা পাঁচটি থেকে বাড়িয়ে ২৫টি করা হলেও তাতেও সংকুলান হচ্ছে না। ফলে কোনো কোনো রোগীকে হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত হাসপাতালে ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। মে মাসে ৬ জন, জুনে ৪ জন, জুলাইয়ে ১৫ জন এবং আগস্টে ৫২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। এর পর সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৬ দিনেই ভর্তি হয়েছেন আরও ১০২ জন। এ নিয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছরে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৪ জনে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, আগস্ট মাসে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পাঁচটি শয্যা নির্ধারিত ছিল। সেপ্টেম্বর মাসে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় আরও ২০টি শয্যা বাড়ানো হয়। বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ২৫টি শয্যা রয়েছে। তবে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় এসব শয্যাতেও জায়গা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ডেঙ্গুসহ অন্যান্য রোগী মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২০ থেকে ১৫০ জন ভর্তি থাকেন। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার মোঃ তানভীর আহমেদ বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেশি। পাশের উপজেলা থেকেও অনেকে এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী কম থাকায় রোগীদের সেবা দিতে তাদের অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ বলেন, প্রতিদিন গড়ে ১২ থেকে ১৫ জন রোগী ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

তিনি বলেন, চিকিৎসক ও জনবল সংকটের মধ্যেও রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; পৌরসভা, স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা রমেশ মন্ডল বলেন, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ড্রেন-নালা পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নিয়মিত কার্যক্রম চালাতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডে জনসচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানো প্রয়োজন।

এদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মশক নিধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পৌরসভার সচিব লালু সরদার বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পৌরসভার অর্থায়নে গত ৩০ আগস্ট থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশক নিধনের ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কারের কাজও চলছে।

পাইকগাছা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় পৌরসভার উদ্যোগে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কারের কাজও চলমান রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি বাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নাগরিকদের সচেতন করতে হবে।

Share this news as a Photo Card

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিশ্ব পর্যটন দিবসে সাতক্ষীরায় র‌্যালি ও আলোচনা সভা

27 September 2026
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
dailysuprovatsatkhira
www.suprovatsatkhira.com