তালায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ৫০০ অতিথির ভোজ পণ্ড, কনের অভিভাবককে জরিমানা
তালায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ৫০০ অতিথির ভোজ পণ্ড, কনের অভিভাবককে জরিমানা
তালা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের গাবতলা গ্রামে প্রায় ৫০০ মানুষের ভূরিভোজ আয়োজন করে ১৬ বছর বয়সী শিশুর বাল্যবিবাহের প্রস্তুতি নেয়া হয়। কিন্তু কনে পক্ষের সে আয়োজন পণ্ড করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। ভ্রাম্যমান আদালত সেখানে অভিযান চালিয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধসহ কনের অভিভাবকের জরিমানা করেছে। এরআগে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করতে গেলে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মীদের অবরুদ্ধ ও লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের গাবতলা এলাকায় গরু ব্যবসায়ী বজলুর রহমানের ১৬ বছর বয়সী শিশু মেয়ের সাথে কেশবপুর উপজেলার আজহারুল ইসলাম নামের এক ছেলের বিয়ের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে কনের বাড়িতে প্রায় ৫০০ অতিথির খাবারের আয়োজন-ও করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে সাতক্ষীরার মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুন নাহার ঘটনাটি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং পাটকেলঘাটা থানার ওসিকে অবহিত করেন। পরবর্তীত শুক্রবার দুপুরে তালা উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রতিনিধি রাজিবুল ইসলাম, রুপা ঘোষ এবং কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সংগীত শিক্ষক সজীব সরদার ঘটনাস্থলে যান। এসময় কনে পক্ষের দূর্বৃত্তরা তাদের অবরুদ্ধ করে এবং একপর্যায়ে লাঞ্চিত করে। এ ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহেদ হোসেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার ও পাটকেলঘাটা থানার এসআই আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল।
এরইরমধ্যে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে কনে ও তার বাবা-মা বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। আর বরযাত্রীবাহী গাড়ি মাঝপথ থেকে ফিরে যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়।
অভিযানে কনের চাচা মো. মোনজেদ সরদার নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে মুচলেকা দেন। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মো. শাহেদ হোসেন তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ মামলার প্রসিকিউশন করেন উপপরিচালক নাজমুন নাহার। একই সঙ্গে মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে ৩ মাস আগে বিয়ে হয়েছে বলে দাবি করা হলেও কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তারা। পরে মেয়ে পক্ষ লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ক্ষমা চেয়ে রক্ষা পান।
অভিযানে জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাকিবুর রহমান ও তরুণ প্রতিরোধকর্মী হৃদয় মন্ডল উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, একই দিনে সাতক্ষীরা সদরে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার ফাতেমা জোহরা ও কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ফিল্ড সুপারভাইজার করবী সুলতানা। তারা অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেন এবং রোববার জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কার্যালয়ে হাজির হতে নির্দেশ দেন।

Leave a Reply