শ্যামনগরে যুবকদের অংশগ্রহণে ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধার বিষয়ক রিফ্রেশার কর্মশালা ও বৃক্ষরোপণ
শ্যামনগরে যুবকদের অংশগ্রহণে ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধার বিষয়ক রিফ্রেশার কর্মশালা ও বৃক্ষরোপণ
নূরুন্নবী ইমন , সুন্দরবন অঞ্চল প্রতিনিধি :
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যুবকদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে রিফ্রেশার কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক) বাস্তবায়িত এবং অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ান এইড এর সহযোগিতায় ‘ব্লু ইকোনমি অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস’ প্রকল্পের আওতায় কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সিগঞ্জ ফরেস্ট অফিসার জাহিদ হোসেন ও উপজেলা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক অনাথ মন্ডল।
প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও অর্জন সম্পর্কে আলোচনার পাশাপাশি ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্রের ধারণা, এর সেবাসমূহ এবং বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা কোডেক এর প্রাইভেট সেক্টর এনগেজমেন্ট অফিসার মো: শামিমুল আরেফিন সুমন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কোডেকের ফিল্ড অফিসার গাজী ফারুক হোসেন।
কর্মশালায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রাথমিক ধারণা তুলে ধরে আবহাওয়া, জলবায়ু ও জলবায়ু পরিবর্তনের পার্থক্য, জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিভিন্ন জ্ঞান ও প্রতিষ্ঠান এবং এর কারণগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল বার্ষিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও ভূমির উর্বরতা হ্রাস, ভূমিক্ষয়, মৌসুমি বৃষ্টিপাতের তারতম্য, আকস্মিক বন্যার ক্ষতি ও খরার প্রভাব, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও তীব্রতা বৃদ্ধি। জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন বা কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কপ) সম্পর্কেও আলোচনা রাখা হয়।
এ ছাড়া গ্রিন হাউস গ্যাস ও এর প্রভাব নিয়ে পৃথক অধিবেশনে গ্রিন হাউস গ্যাসের ধারণা, বায়ুমণ্ডলের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসসমূহ এবং গ্রিন হাউস গ্যাসের প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
আয়োজকদের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় যুবসমাজের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে তরুণদের পরিবেশবিষয়ক জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়বে এবং স্থানীয় পর্যায়ে বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে সহায়তা করবে।
কর্মশালার শেষ পর্যায়ে পরিকল্পনা তৈরি, কর্মশালা সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের মতামত যাচাই এবং সমাপনী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শেষ হয়। এবং পরবর্তীতে উপজেলার খুঁটিকাটা গ্রামে ১৫০ টি বৃক্ষ রোপণ করা হয়।

Leave a Reply