মাদকমুক্ত ডিজিটাল কুলিয়া ইউনিয়ন উপহার দিতে চান মেহেদী হাসান সবুজ
মাদকমুক্ত ডিজিটাল কুলিয়া ইউনিয়ন উপহার দিতে চান মেহেদী হাসান সবুজ
মো: রুহুল আমিন, কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ১ নম্বর কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী মেহেদী হাসান সবুজ এক সাক্ষাৎকারে তার রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ এবং এলাকার উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছেন। ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই নেতা বর্তমানে দেবহাটা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাক্ষাৎকারে মেহেদী হাসান সবুজ জানান, তার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে তিনি সব সময় দেশপ্রেম ও সততাকে ধারণ করে রাজনীতি করে আসছেন। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি চরম নির্যাতনের মুখোমুখি হন। স্বৈরাচারী সরকারের দমনপীড়নের কারণে তাকে মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয় এবং চারবার কারাবরণ করতে হয়। তার নামে মোট ছয় থেকে সাতটি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়।
নির্যাতনের দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ফেসিস্ট সরকারের আমলে দীর্ঘদিন তিনি নিজ বাড়িতে থাকতে পারেননি এবং পরিবারের কোনো খোঁজখবর নিতে পারেননি। রাতের পর রাত বাগানে বাগানে রাত কাটাতে হয়েছে। এমনকি স্বৈরাচারী সরকারের স্থানীয় দোসর ও নেতাকর্মীরা তাকে বাগান থেকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে তথ্য পর্যন্ত সরবরাহ করেছিল। এত দমনপীড়ন ও হয়রানির পরেও তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং দেশমাতৃকা আপসহীন নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে একচুলও সরে দাঁড়াননি। রাজনৈতিক জীবন থেকে তিনি বিন্দুমাত্র পিছুপা হননি।
এলাকার উন্নয়নে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে এই তরুণ নেতা বলেন, দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হলে কুলিয়া ইউনিয়নকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত এবং একটি আধুনিক ডিজিটাল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলবেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার একান্ত সচিব আবু হাসানের সহযোগিতায় এলাকার রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
জনগণের ভোটাধিকার ও আস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলাকাবাসী যদি তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে তাকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করেন, তবে তার প্রথম কাজ হবে গরিব মানুষের জোরপূর্বক দখলকৃত জমি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়া। এ ছাড়া কুলিয়ার সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার যেকোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।
সাক্ষাৎকারের শেষে মেহেদী হাসান সবুজ সাতক্ষীরা জেলা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সম্মানিত নেতৃবৃন্দের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দলের নির্দেশনা মেনে এলাকায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply