তালায় সরকারি কর্মকর্তা ও তৃণমূল নারীদের সম্মেলন
তালায় সরকারি কর্মকর্তা ও তৃণমূল নারীদের সম্মেলন : উঠে এলো বৈষম্য ও সম্ভাবনার চিত্র
বায়েজীদ হোসেন, তালা:
প্রান্তিক দলিত নারীদের উন্নয়নের মূল স্রোতে সম্পৃক্ত করতে এবং সরকারি সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরার তালায় এক ব্যতিক্রমী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তৃণমূল সংগঠনের সদস্যদের মুখোমুখি হয়েছেন সরকারের ১১টি দপ্তরের কর্মকর্তারা। শুনেছেন তাদের দুঃখ-দুর্দশা, বঞ্চনা আর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে তালা শিল্পকলা একাডেমি হলরুমে এ সম্মেলনের আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা ভূমিজ ফাউন্ডেশন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং ‘সমতার জন্য লড়ি (সজল)’ প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন তৃণমূল নারী নেত্রী সরস্বতী দাস। সঞ্চালনা করেন ভূমিজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অচিন্ত্য সাহা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা।
বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মাসুম বিল্লাহ, কৃষি অফিসার হাজিরা খাতুন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সাব্বির হোসেন, সিনিয়র মৎস্য অফিসার তারিক ইমাম, সমাজসেবা অফিসার আরিফুজ্জামান, মহিলা বিষয়ক অফিসার নাজমুন নাহার, আইসিটি অফিসার মোতাহার হোসেন, যুব উন্নয়ন অফিসার আশুতোষ কুমার বিশ্বাস এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একাডেমিক সুপারভাইজার প্রভাষ কুমার দাস। প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন ভূমিজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহীদুল ইসলাম।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম, উইমেন জব ক্রিয়েশন সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল নাহার আশা, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান, তালা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফারুক জোয়ার্দার, সাংবাদিক জুলফিকার রায়হান, মিজানুর রহমান প্রমুখ।
সম্মেলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল দলিত নারীদের কণ্ঠস্বর। সোমা সরকার, ঋতু সরকার, টুম্পা বিশ্বাসের মতো নেত্রীরা জানান, এখনও সমাজে তাদের জাতপাতের কারণে বৈষম্যের শিকার হতে হয়। সরকারি ভাতা, ভিজিডি কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা কৃষি প্রণোদনা পেতে গিয়ে তারা নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন। অনেক সময় তথ্য না জানার কারণে তারা সেবা থেকে বঞ্চিত হন।
তবে হতাশার পাশাপাশি সম্ভাবনার গল্পও উঠে আসে। সজল প্রকল্পের মাধ্যমে সংগঠিত হওয়ার পর তারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়েছেন। নিজেরা সঞ্চয় করছেন, হাঁস-মুরগি পালন ও সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
প্রধান অতিথি ইউএনও জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে বিশ্বাস করে। কোনো নাগরিক যাতে সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য প্রশাসন কাজ করছে। তিনি উপস্থিত সকল কর্মকর্তাকে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

Leave a Reply