ব্লাকমেইলের অডিও বিশ্লেষন: মামুনের হয়ে টাকার চুক্তি করতো ছাত্রদল নেতা বাবুল
ব্লাকমেইলের অডিও বিশ্লেষন: মামুনের হয়ে টাকার চুক্তি করতো ছাত্রদল নেতা বাবুল
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটার সমালোচিত যুবক আব্দুল্লাহ আল মামুনের হয়ে বিভিন্ন স্থানে চুক্তি ও টাকা সংগ্রহ করতেন ছাত্রদল নেতা জিসান বাবুল। বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর মামুনের সহযোগী হিসাবে বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় বাবুলকে। সে সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ও মাঝ সখিপুর গ্রামের মৃত দাউদ গাজীর ছেলে।
সাম্প্রতিক সময়ে এক জনপ্রতিনিধির পারিবারিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে প্রথমে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শণ করা হয়। পরে দফা দফায় বিষয়টি সমাধানের জন্য দাবি করা হয় মোটা অংকের টাকা। অডিওর বক্তব্যগুলো সংবাদ প্রতিবেদনের উপযোগী করে সাজিয়ে দিলাম। বক্তব্যের মূল অর্থ ও উদ্ধৃতি অক্ষুণ্ন রেখে ভাষা পরিমার্জন করা হয়েছে।
প্রথম অডিওতে জিসান বাবুলকে বলতে শোনা যায়, “ভাই, কী লাইন? আপডেট জানালেন না। সে (মামুন) এক কথায় রাজি না। সে বলেছে, আমি এসব ছোটখাটো কাজ করি না। ভালো করে খায়, না হলে খায় না ভাই। না হলে থাক, সমস্যা নেই।”
এরপর ভুক্তভোগীকে উদ্দেশ করে বাবুল বলেন, “ভাই, সে এক কথায় এক লাখ টাকা চাচ্ছে। এবার কী বলব বলেন? সে তো ৫০ হাজার টাকার কথাও শুনবে না।”
দ্বিতীয় অডিওতে বাবুলকে বলতে শোনা যায়, “আমি বললাম, ভাই, জিনিসটা বেশি বাড়াবাড়ি করিয়েন না, জিনিসটা ডিলিট করে দেন। হ্যাঁ বলার পর সে বলল, সব সমাধান হোক, আমি ডিলিট করে দিচ্ছি। সমস্যা নেই। আপনি যে অ্যামাউন্ট চাচ্ছেন, সেই অ্যামাউন্টে আপনার সঙ্গে ডিল ফাইনাল করতে হবে।”
ভুক্তভোগীকে উদ্দেশ করে বাবুল আরও বলেন, “ভাই, আপনি তো জানেন, ভুক্তভোগী আপনার আত্মীয় হওয়ায় শুধু আপনার মুখের দিকে তাকিয়ে সেগুলো ছাড় দিয়েছি।”
একই অডিওতে বাবুলকে আরও বলতে শোনা যায়, “শুধু একটা স্টোরি দিয়েছি। ভাই, ৩০ হাজার টাকা দেবেন, থেমে যান ভাই। নিজেদের মধ্যে এটা করিয়েন না।”
এ সময় তিনি আরও বলেন, “সে বলছে, ওকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার দরকার নেই। আমার তো বাণিজ্য করার দরকার নেই, আমার ভিউর দরকার। আপনার আত্মীয়কে বলবেন, দেখা করবেন, কথা বলবেন। ব্যস্ততার কারণে আমি সময় দিতে পারিনি। আপনি ৫০ হাজার টাকা দেন, আমি হাত-পা ধরে হলেও আপনার ভিডিওর বিষয়টি মিটমাট করে নেব।”
এদিকে গত ১ নভেম্বর দায়ের করা মালায় সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলকে প্রধান আসামী করে এ মামলা করেছেন দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বর্তমানে সাতক্ষীরার বাসিন্দা সাহেব আলী। ওই মামলায় কন্টেন ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ২য় আসামী এবং ভুক্তভোগীর ২য় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস (মৌসুমি) কে ৩য় আসামী করা হয়। এছাড়া আরো ২/৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।
এদিকে মামলার প্রধান আসামী সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুলের মোবাইলে কল দিলে তিনি রিসিভ করে ঝামেলায় আছেন বলে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করেন। পরে তার সাথে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
দেবহাটা উপজেলা ছাত্র দলের আহবায়ক ইমরান ফরহাদ বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা কোন অনৈতিক ও অন্যায় করলে তাকে দল আশ্রয়, প্রশ্রয় দেবে না। দলের নাম করে কোন অপকর্ম মেনে নেওয়া হবে না। তার বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের সাতক্ষীরা সদর থানায় দায়ের করা মামলার আসামী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া মামলার বাকি আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।

Leave a Reply