কলারোয়ায় প্রবাসীর ৮২ লাখ টাকা বিনিয়োগের ইটভাটা দখলের অভিযোগ
কলারোয়ায় প্রবাসীর ৮২ লাখ টাকা বিনিয়োগের ইটভাটা দখলের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় এক প্রবাসীর অর্ধকোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করা একটি ইটভাটা জোরপূর্বক দখল, উৎপাদিত ইট বিক্রি করে অর্থ আত্মসাথ এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও কলারোয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র গাজী আক্তারুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
রবিবার (০১ নভেম্বর) দুপুরে সাতক্ষীরা সাতক্ষীরা মিনি মার্কেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী প্রবাসী রাজু আহমেদ খান। তিনি কলারোয়া উপজেলার শাকদাহ গ্রামের মো. এনায়েত আলী খানের ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে রাজু আহমেদ খান জানান, কলারোয়ার কাজীরহাট-চিতলা এলাকায় ‘পারুল ব্রিকস’ নামের ইটভাটাটি পরিচালনা করতেন পুটুনি গ্রামের আলমগীর হোসেন। ব্যবসায়িক লোকসান ও ঋণে জর্জরিত হয়ে তিনি ভাটার ৫০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা মোট মূল্যে ভাটার অর্ধেক (৫০%) শেয়ার ক্রয় করেন প্রবাসী রাজু আহমেদ। এ সময় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে এফিডেভিট করে নগদ ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে তিনি ওই ভাটার বৈধ অংশীদার হন।
পরবর্তীতে ভাটার আগের মালিক আলমগীর ব্যক্তিগত ঋণের চাপে পলাতক হন এবং জমির মালিকরা পূর্বের পাওনা টাকার জন্য প্রবাসীর ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে কিছু দিন ভাটা পরিচালনা বন্ধ থাকে এবং ওই সময় ভাটায় প্রায় ৭ লাখ কাঁচা ও পোড়া ইট প্রস্তুত ছিল। পরে কোনো সমাধান না পেয়ে প্রবাসী রাজু আহমেদ প্রবাসে চলে যান।
এই সুযোগে কলারোয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা আক্তারুল ইসলাম দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জমির মালিকদের কাছ থেকে ৫ বছরের জন্য ইটভাটাটি লিজ (ডিড) নেন এবং জোরপূর্বক কার্যক্রম শুরু করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ভাটা জবরদখলের প্রতিকার চেয়ে আদালতে ১৪৫ ধারায় আবেদন করলে আদালত পুলিশকে নোটিশ জারির নির্দেশ দেন। কিন্তু পুলিশের নোটিশ ও আইন অমান্য করে বিএনপি নেতা আক্তারুল ইসলাম ভাটার কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন। শুধু তাই নয়, জমির মালিকদের সাথে যোগসাজস করে প্রবাসীর রেখে যাওয়া প্রায় ৭ লাখ ইট বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আদালত অবমাননার অভিযোগে গত ২৬ অক্টোবর ৮৮ ধারায় আরও একটি আবেদন করা হলেও তা তোয়াক্কা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রবাসী রাজু আহমেদ খান তার কষ্টার্জিত অর্থে বিনিয়োগ করা ইটভাটার ৫০ শতাংশ মালিকানা পুনরুদ্ধার, ইট বিক্রির হিসাব এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক ন্যায়বিচার পেতে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply