বাঁশদহ শহিদ স্মৃতি কলেজের অধ্যক্ষ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় কোন গ্রেপ্তার নেই, মামলা হয়নি
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদরের বাঁশদহ শহদি স্মৃতি কলেজের অধ্যক্ষ ও সদর থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফজলুর রহমান মোশাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেপ্তার হয়নি। এমনকি কোন মামলা ও দায়ের হয়নি। ফজলুর রহমান মোশা মঙ্গলবার দুপুরে তার কলেজের সামনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঘোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একটি অংশের নেতা কর্মীদের সঙ্গে তার ভাল সম্পর্ক ছিল না। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতা ও বর্তমানে ঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের কয়েক বার সংবাদ সস্মেলন করেছেন।
বিগত ইউপি নির্বাচনে হেরে যান ফজলুর রহমান মোশা। এরপর থেকে তিনি আওয়ামী লীগে ভাল অবস্থায় ছিলেন না। স¤প্রতি ঘোনা ম াধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনকে ঘিরে আব্দুল কাদেরের নেতৃত্বে একটি ও ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে অপর প্যানেল নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেয়। এ নির্বাচন নিয়েও অনেক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ ছাড়া বাঁশদহ শহিদ স্মৃতি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড্যাব নেতা ডাঃ শহিদুর রহমান এর সঙ্গে দীর্ঘ দিনের বিরোধ ছিল ফজলুর রহমানের। স¤প্রতি কলেজের আয় ব্যয় নিয়ে পরিচালনা পরিষদের সভাপতি গোলাম মোর্শেদ এর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভাল যাচ্ছিল না। তার কাছে কলেজ কর্তৃপক্ষ ৭০ লাখ টাকা পাওনা দেখালেও তিনি ২৮ লাখ টাকা দিতে রাজী হয়েছিলেন মর্মে কলেজ সূত্রে জানা গেছে। তবে তার চাকুরির মেয়াদ ছয় মাসের ও কম থাকায় টাকা পরিশোধ না করে কৌশলে উরুর চামড়ায় সামান্য গুলির ক্ষত সৃষ্টি হওয়ার মত ঘটনা সৃষ্টি করা হলো কিনা এসব ঘুরে ফিরে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা সব কিছু মাথায় নিয়ে তদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফজলুর রহমান মোশার পক্ষে কোন এজাহার দেওয়া হয়নি বলে সাতক্ষীরা সদর থানা সূত্রে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত,মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাতক্ষীরা শহরে আসার জন্য কলেজ থেকে বের হয়ে মোটর সাইকেলে শহরে যাওয়ার সময় কলেজের সামনেই বাঁশদহ শহিদ স্মৃতি কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুর রহমান মোশা মোটর সাইকেলে অবস্থানকারি হেলমেট পরিহিত এক যুবকের গুলিতে ডান পায়ের উরুতে জখম হন। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স.ম কাইয়ুম জানান, বুধবার বিকেল পর্যন্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। হয়নি কোন মামলাও। তবে পুলিশ ঘটনার অনুসন্ধানে সবধরণের বিরোধ মাতায় রেখে এগোচ্ছে।

Leave a Reply