ঢাকাFriday , 15 April 2022
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

ব্রহ্মরাজপুরে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা
আপডেট: 15 April 2022, 21:40

নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শিক্ষক নিলীপ কুমার মল্লিকের বিরুদ্ধে অসম্প্রদায়িক রাজনীতি, সীমাহীন দুর্নীতি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক ছত্র ছায়ায় এবং ধর্মীয় অনুভুতিকে ব্যবহার করে যৌন হয়রানি থেকে শুরু করে নিরীহ মানুষের সর্বনাশ করে সর্বশান্ত করেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে গেলেই হামলা-মামলার শিকার হতে হয়েছে অনেকের। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পুলিশে অভিযোগ থেকে শুরু করে মানবন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা। এমনকি তার সর্বনাশা কর্মকান্ড ও যৌন হয়রানি থেকে রেহাই পেতে দেশত্যাগ করে ভারতে পাড়ি জমিয়েছেন অনেকেই। ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে বেরিয়ে এসেছে ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শিক্ষক নিলীপ কুমার মল্লিকের থলের বিড়াল। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ ভুক্তভোগীদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ব্রহ্মরাজপুর ডিবি ইউনাইটেড হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিলীপ কুমার মল্লিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ফান্ড থেকে সীমাহীন অর্থনৈতিক দুর্নীতি করেছেন।

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে টাকা নিয়ে চাকরি না দিয়ে হয়রানি, বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানের নামে চাঁদাবাজি করেছেন হরহামেশাই। এছাড়া টিউশনি করানোর নাম করে নিলীপ কুমার মল্লিক বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের বিভিন্ন ধরনের কু-প্রস্তাব দেওয়াসহ নানাবিধ অভিযোগ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ শিক্ষক হিসেবে নিলীপ কুমার মল্লিকের যৌন পিপাসু চোখ থেকে রেহাই পায়নি অনেক ছাত্রী ও তাদের পরিবারের নারী সদস্যরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা পিতা নিলীপ কুমার মল্লিকের যৌন পিপাসুর হাত থেকে মেয়েকে রক্ষার জন্য দেশ ত্যাগ করে ভারতে বসবাস করছেন। এসব ঘটনা জানাজানি হলে সে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে কৌশলে কর্মস্থল পরিবর্তন করে নেহালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। সেখানেও সীমাহীন দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগ একাধিক ব্যক্তির। ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শিক্ষক নিলীপ কুমার মল্লিক ২০১৩ সালে জামায়াত শিবিরের তান্ডব ও রাজনৈতিক অরাজকতা পরবর্তী সময়ে ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের শীর্ষ স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দদের আশ্রয় স্থল হয়ে দাঁড়ান। এছাড়া এলাকার সাধারণ নিরীহ মানুষকে মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের মহোৎসব করেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকেই।

জামায়াত শিবিরের লোককে অর্থনৈতিক হাতিয়ার ও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি নিজ সম্প্রদয়ের লোক শুকুমার ঘোষ, জয়দেব মুখার্জী ও স্বদেশ বিশ^াসকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন বলে জানিয়েছেন তারা। তার হাত থেকে রেহাই পায়নি বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বদেশ মল্লিকও। আরো অভিযোগ আছে নিলীপ কুমার মল্লিক বিভিন্ন ওয়ার্ডে অর্থের বিনিময়ে পদ পদবী দেওয়ার কথা বলে অরাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দিয়ে ইউনিয়নের রাজনীতিকে নিজের আয়ত্বে রেখেছেন। এ ঘটনা নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাথে তার মতভেদও সৃষ্টি হয় বলে জানান ওই এলাকার আওয়ামী লীগের একাধিক নেতৃবৃন্দ। পরবর্তীতে নিলীপ কুমার মল্লিক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রধান পেশা হিসেবে নীরিহ মানুষের জমি দখলসহ জমির দালালিকে বেছে নেয়। তার সমস্ত কার্যক্রমকে অদৃশ্য এক রাজনৈতিক ব্যক্তির আশ্রয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ করে যাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন একাধিক সূত্র।

শিক্ষক নিলীপ কুমার মল্লিক জমির দালালি কাজ শুরু করেই স্থানীয় বাসিন্দা নিলকণ্ঠ দালাল ও শক্তি দালালের নিকট থেকে ২০ শতক জমি (যার মূল্য ১০ লক্ষ টাকা) ক্রয় করে তাদেরকে জমির মূল্য না দিয়ে উল্টে জীবননাশের হুমকি দেয়। এছাড়া ব্রহ্মরাজপুর বাজারে বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বদেশ মল্লিকের একটি দোকান রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে নিজে দখল করেছেন বলে অভিযোগ আছে। এমনকি তার প্রতিবেশিরাও রেহাই পায়নি। অভিযোগ আছে নিলীপ কুমার মল্লিক তার প্রতিবেশী দেবু সাহা ও মদন সাহার বাড়ির পথ আটকে তাদের থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায় করেছেন এবং তাদেরক মামলার ভয় দেখাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। বর্তমানে পরিবার দুটি নিলীপ কুমার মল্লিকের ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে জীবনযাপন করছেন। এর বাইরে নিলীপ কুমার মল্লিক কোমরপুর নিবাসী মধুসদন মন্ডলের মৃত্যুর পর ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের ২০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে বলে জানায় ভুক্তভোগী পরিবার। পরবর্তীতে ব্যবসার অংশীদার না রাখার চক্রান্তে ব্যবসায়িক চুক্তিপত্র ও রেজিস্ট্রার খাতা নিজ আয়ত্বে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের তালবাহানা করে তাদেরকে ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব থেকে বঞ্চিত করার পাঁতারা চালায়। যে ঘটনায় বিগত ২০১৯ সালে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। বর্তমানে নিলীপ কুমার মল্লিকের হুমকির ভয়ে প্রয়াত মধুসুদনের পরিবার আতঙ্কগ্রস্থ। নিলীপ কুমার মল্লিক ধর্মীয় সম্প্রদয়ের পদ-পদবী ব্যবহার করেও অসংখ্য অপকর্ম করেছেন বলে অভিযোগ আছে।

এছাড়া ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শিক্ষক নিলীপ কুমার মল্লিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পদ-পদবী ব্যবহার করে সম্প্রতি ব্রহ্মরাজপুর কালভৈরব মন্দিরের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে জাল দলিল সৃষ্টি করে ওই মন্দিরের পুরোহিত শ্যামাপ্রসাদের ছেলে শান্তনু বসুর সহযোগীতায় চার-পাঁচ জনের কাছে বিক্রি করে দেয়। যা নিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানববন্ধন ও দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টি হয়। মন্দিরের জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে সনাতন ধর্মীয় নীরিহ মানুষদের মামলা দিয়েও হয়রানি করছেন তিনি। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় তার রোশানলে পড়ে মৃতুঞ্জয় আঢ্য মামলার শিকার হন। যে মামলা আদালতে চলমান আছে। তবে স্থানীয়রা জানান, ওই সময়ে মৃতুঞ্জয় আঢ্যে সাতক্ষীরায় না থেকেও উক্ত মামলায় ৮নং আসামি হয়। এছাড়া সে মন্দিরের নামে বিভিন্ন অনুদান নিয়ে নিজে আত্মসাৎ করেছেন। কাল ভৈরব মহাশ^সানের শবদাহ পোড়ানোকে কেন্দ্র করে চলে তার সীমাহিন চাঁদাবাজি। নিলীপ কুমার মল্লিকের বিরুদ্ধে আছে আরো গুরুতর অভিযোগ।

এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আছে ভারতে অর্থ পাচার ও নাগরিকত্ব দানের নামে অর্থ কেলেঙ্কারীর অভিযোগ। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, নিলীপ কুমার মল্লিক সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আশ্রয় স্থল হিসেবে ভারতে জমি কিনে দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা নিয়ে ভারতে পাঁচার করেছেন। তারা জানায়, ভারতে নাগরিকত্ব দানের নাম করে তাদের থেকে হাতিয়ে নিয়েছে মোটা অংকের টাকা। অথচ ভুক্তভোগীরা ভারতের গিয়ে জমি এবং নাগরিকত্ব না পেয়ে নিলীপ কুমার মল্লিককে জানালে সে এবং তার ভাই মোসলন্দপুর নিবাসী নিশিত মল্লিক তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে ও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এছাড়া নিলীপ কুমার মল্লিকের ছেলে অন্তু মল্লিক বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পাচারের সাথে জড়িত আছে বলেও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের সাথে কথা বলে আরো জানা গেছে, ব্রহ্মরাজপুর বাজারের সানন্দা জুয়েলার্স এর মালিক মৃত্যুঞ্জয় আঢ্য’র নিকট বিভিন্ন সময়ে মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করে আসছিল নিলীপ কুমার মল্লিক। তারই জের ধরে গত ০৯ এপ্রিল ২০২২ তারিখে বেলা ১টা ২০ মিনিটে মৃত্যুঞ্জয় আঢ্য নিজের দোকান থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে সাতক্ষীরা শহরে মোটরসাইকেলযোগে আসার সময় বালিথা মোড়ে পৌছালে নিলীপ কুমার মল্লিকের ছেলে অন্তু মল্লিক ও তার সহযোগীদের সহায়তায় মৃত্যুঞ্জয় আঢ্য’র কাছ থেকে উক্ত টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে জখম করে।

এ সময় মৃত্যুঞ্জয় আঢ্য’র আত্মচিৎকারে পথচারী বিকাশ ঘোষ ও প্রকাশ সাহা তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তিনি ওই দিনেই সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে মৃত্যুঞ্জয় আঢ্য বাড়ি ফিরলে তার পথ আটকিয়ে অন্তু মল্লিক মৃত্যুঞ্জয় আঢ্য’র গলায় রামদা ধরে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরবর্তীতে অন্তু মল্লিকের নেতৃত্বে মৃত্যুঞ্জয় আঢ্য’র দোকানে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিলে প্রশাসনের সহযোগীতায় তা রক্ষা পায়। এসব বিষয়ে অভিযুক্ত নিলীপ কুমার মল্লিকের সাথে কথা বলতে তার ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার ফোন করলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এমতাবস্থায় নিলীপ কুমার মল্লিকের অত্যাচারে ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নবাসী অতিষ্ঠ হয়ে তার হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে এবং তার মত একজন গুরুতর অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারবর্গ ও ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *