দেবহাটার সাপমারা খালের সেতুর দুপাড়ে ভাঙন ঝুঁকিতে যাতায়াতে ঘটছে দূর্ঘটনা
দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার সাপমারা খালের উপর নির্মিত পারুলিয়া ফুটবল মাঠ সংলগ্ন সংযোগ সেতুটি ভেঙে খালের মধ্যে পড়ায় মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগ বেড়েছে। এলাকাবাসির অভিযোগ বর্ষা মৌসুমে সংযোগ সেতুটি ধসে পাড়ার পর কর্তৃপক্ষ তা সংস্কার করেনি। ফলে কয়েক মাস ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকার মানুষ। অতি প্রয়োজনে ঝঁকি নিয়ে সেতুটি পার হলেও খালে পড়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। অপরিকল্পিত ভাবে সাপমারা খাল পুনখননের খালের বিভিন্ন পয়েন্টের সংযোগ সেতুগুলোও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
উপজেলা ঠিকাদার সংগঠনের সভাপতি শেখ মারুফ হোসেন জানান, গত বর্ষার মৌসুমে প্রবল বর্ষণে সেতুর পাশের মাটি সরে যাওয়ায় এলাকার জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে আনা হয়। সে সময় উপজেলা পরিষদ থেকে প্রকল্প নিয়ে ভাঙন রোধে পাইলিংয়ের কাজ হাতে নেওয়া হয়। এ কাজের জন্য ১ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। সংস্কার কাজটি উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। সে সময়ের বরাদ্ধ দিয়ে সেতু রক্ষার্থে শুধু মাত্র পাইলিংয়ের কাজ শেষ করা হয়। আরো অর্থ বরাদ্ধ না থাকায় সেতুর দুই ধারে সংযোগ সড়কের মুখে মাটি ভরাটের কাজ করা হয়নি। পরবর্তীতে সেতুর উভয় রাস্তার সংযোগে ধ্বংস নামতে থাকে। বর্তমানে সেতুটি মরন ফাঁদের রূপ নিয়েছে।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সুত্র জানায়, ১৯৯৭ সালে ১৩,৯৪.৫০০ টাকায় নির্মিত হয় সেতুটি। এরপর থেকে দীর্ঘ কয়েক যুগের পর বর্তমানে সেতুটি ব্যবহারের অনুপযোগী হতে চলেছে। এমনকি পায়ে হেটে চলাও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে যেয়ে প্রতিদিন কেউ না কেউ পড়ে আহত হচ্ছেন। এই জনবহুল সেতু দিয়ে স্থানীয়রা বাজার, ব্যাংক, জরুরী কাজসহ কর্মস্থলে যান। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পারাপার হতে হয়। সেতুটি ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় অনেকে দীর্ঘপথ ঘুরে যাচ্ছেন গোন্তব্যে। এতে তাদের ভোগান্তি বেড়ে চলেছে।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষ বলছে, সেতুটি গত বছর থেকে ভাঙনের কবলে। খাল খননের প্রভাবে সেতুর দুপাশে মাটি সরে গিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী আরো জানান, সাপমারা মৃত খালটি গত অর্থবছরে সরকারের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করে পুনর্জীবিত করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে খুব বেশি লাভবান হয়নি স্থানীয়রা। উল্টো সংযোগ সেতুগুলো ভেঙে পড়েছে। এতে আমাদের ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
উপজেলার পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোন সমাধান পাওয়া যায়নি। এমনকি উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিষয়টি তুলে ধরা হলেও সমাধান হয়নি। আমরা চাই সেতুটি দ্রæত চলাচলের উপযোগী করা হোক।
এ বিষয়ে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী জানান, খেঁজুরবাড়িয়া সেতুটি দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী দুএকদিনের মধ্যে কাজ শুরুর আশ্বাস দেন তিনি।

Leave a Reply