নৌকায় শিশু জন্মদানকারী সেই মাকে সাতক্ষীরা ডিসির মানবিক সহায়তা, পাচ্ছেন বাসগৃহ
আহসান উল্লাহ বাবলু, আশাশুনি : উপক‚লীয় এলাকা আশাশুনিতে নৌকায় শিশু জন্মদানকারী মা ও তার পরিবারকে মানবিক সহায়তা করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ুন কবীরের নির্দেশে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদ্যসহ নগদ অর্থ সহায়তা নৌকায় পৌঁছে দেন।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসাইন খান বলেন, বাস্তুহারা একটি পরিবার। পিতা অন্য স্ত্রী নিয়ে অন্য জায়গায় থাকেন। পরিবারে একটি সন্তান এসেছে (গত বুধবার) পরশুদিন, নৌকার ভিতরে। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মানবিক নির্দেশনায় আমরা সেখানে উপস্থিত হই, ইউপি চেয়ারম্যান ও পিয়াইও অফিসের কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারটিকে ১ মাসের খাদ্যসামগ্রী ও নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। তাদের বসবাসের জন্য ডিসি স্যারের নির্দেশনায় ঘর (বাসগৃহ) প্রদানের ব্যবস্থা চলছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অনুরোধ করেছি নবজাতকের জন্য উপযুক্ত সেবাকর্মী পাঠাতে। দোয়া করি নবজাতক, তার দুই বোন ও পরিবারটি ভালো থাকুক।
প্রসঙ্গ; ঘরবাড়ি হারিয়ে নৌকার উপর সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছেন সাতক্ষীরার উপকুলীয় এলাকার ইয়াকুব আলী। বর্তমানে খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত গোটা এলাকা। ভাঙনের কবলে ঘরবাড়িও বিলীন হয়ে গেছে পরিবারটির। নিরুপায় হয়ে তারা বসবাস করছেন মাছ ধরা নৌকার উপর। সেখানেই সন্তান জন্ম দিয়েছেন ইয়াকুবের স্ত্রী মিনারা খাতুন। শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ও আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের বন্যতলা ভাঙন কবলিত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মৎস্যজীবী ইয়াকুব আলী জানান, আমি নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। বন্যতলা এলাকায় বাঁধ ভেঙে সব নদীতে চলে গেছে। ১৫ দিন আগে ঘরবাড়িও চলে যায় নদীগর্ভে। তারপর সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে মাছ ধরা নৌকাটির উপর বসবাস করছি। স্ত্রী মিনারা খাতুন গর্ভবতী ছিল। যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় কোন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে পারিনি। বুধবার রাতে ছেলে সন্তানের জন্ম হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, নদীর ভেঁড়িবাঁধ ভেঙে বাস্তুচ্যুত হয়ে গেছি। যারা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল তারা অন্যত্র চলে যাচ্ছে। আমাদের যাওয়ার মত জায়গা নেই। কি করবো ? প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, নৌকার উপর সন্তানের জন্ম হচ্ছে তবে উপলব্ধি করুন মানুষ কতটা কষ্টে রয়েছে। বন্যতলা বেঁড়িবাঁধ ভেঙে পুরো এলাকা প্লাবিত। বন্যতলার ওই এলাকাটি প্রতাপনগর ইউনিয়ন ও শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকা। লোকালয় দিয়েই জোয়ারভাটা খেলা করছে। বসতভিটা হারিয়েছে হাজারো মানুষ।

Leave a Reply