ঢাকাThursday , 4 November 2021
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

ওরা পেটের দায়ে আইন ভাঙে

বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা
আপডেট: 4 November 2021, 23:11

নুরুল ইসলাম, খাজরা (আশাশুনি) প্রতিনিধি: আশাশুনির খাজরায় উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের আইন মানতে গেলে পেট চলে না,আবার পেটের দায়ে আইন ভাঙতে হয় এমনই কথার উপর ভিত্তি করে সংসার জীবন নির্বাহ করতে হয় । অর্থ উপার্জনের বিকল্প কোন পথ না থাকায় নারী পুরুষেরা তখন বাধ্য হচ্ছেন নদীতে মাছের রেনু পোনা সংগ্রহ করতে।

বৃহস্পতিবার(৪ নভেম্বর) বিকালে ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদের খাজরা বাজার সংলগ্ন পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়,প্রায় ১ কিলোমিটার নদ জুড়ে ছোট ছোট ডিঙি নৌকা আর জাল নিয়ে বাগদা,গলদা,হরিনাসহ বিভিন্ন মাছের রেনু পোনা সংগ্রহ করছে স্থানীয় জেলেরা। স্থানীয় পর্যায়ে লবণ পানির অধিকাংশ মৎস্য ঘের হওয়ায় বাগদা ও হরিনার পোনা সংগ্রহ করা হয় বেশি। বাগদা,গলদা,হরিনা রেনু পোনা সংগ্রহের সময় নদীর অনান্য মাছের পোনা জেলেরা ডাঙায় অথবা নৌকার ভিতর ফেলে দেয়। ফলে দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ ধংষ হয়ে যাচ্ছে। যেটা মৎস্য আইনে দন্ডনীয় অপরাধ। আবার সরকারি ভাবে মাছের প্রজনন মৌসুমে বাংলাদেশের নদ ও নদীতে জাল ধরা নিষিদ্ধ থাকে। খাজরার জেলেরা আইন অমান্য করে নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরার দৃশ্য ও চোখে পড়ে। অধিকাংশ জেলেদের দাবি আইন থাকা সত্তে¡ও নিষিদ্ধ সময়ে সংসার চালানোর জন্য আইন অমান্য করে জাল ধরতে হয় তাদের।

কপোতাক্ষ নদে রাউতাড়া,খাজরা,পিরোজপুর,খালিয়া,চেউটিয়া,গদাইপুর,তুয়ারডাঙ্গায় কয়েকটি পয়েন্টে কয়েকশ পরিবার এই মাছের রেনু পোনা সংগ্রহ করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। মাছ ধরার কাজে অনেকে স্বামী-স্ত্রী,ছেলে মেয়েরা মিলেমিশে করে থাকে। নেট,বেহুন্দী,টানা প্রভৃতি জাল দিয়ে তারা মাছ ও মাছের রেনু পোনা সংগ্রহ করে।

নদী পাড়ের বাসিন্দা খাজরা গ্রামের গ্রামের বিকাশ মন্ডল (৩৫) বলেন, অনেক সময় ভোর রাতে নদীতে জাল টানতে গেলে খুব ভয় লাগে। নদীতে কামট, কুমোর, সাপ, সোস থাকে আবার হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে যখন তখন ঝড় উঠতে পারে যে কোন মুহুর্তে বিপদ আসতে পারে। শুধু সংসার চালাতে ভয়ডর বাদ দিয়ে নদীতে পোনা ধরতে নামতে হচ্ছে।

অন্যদিকে রাউতাড়া গ্রামের সন্ধ্যা রাণী মন্ডল (৪০) বলেন, প্রতিদিন ৪/৫ ঘণ্টা লবণ পানিতে থাকার কারণে গা হাত পা চুলকায়, পানির ভিতর নোনা পোকা থাকে সেটা গায়ে লাগলে ঘা হয়ে যায় এবং প্রচুর জ্বালা করে। উরুতে এক ধরনের জাওয়ালী (ফুসকড়ি) বের হয় হাটতে গেলে খুব জ্বালা করে। এতকিছুর পরেও সন্তানদের লেখাপড়ার ও মানুষ করার জন্য আমরা জাল ধরে মাছের পোনা সংগ্রহ করি। বিকল্প আয়ের পথ না থাকায় বাধ্য হয়ে তাঁরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে চিংড়ীর পোনা আহরণ করছেন। প্রতিদিন ভাটার সময় ছোট জাল দিয়ে শুধু বাগদার পোনা আহরণ করেন। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে যে অর্থ পান তা দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে খেয়ে পরে বেঁচে আছেন। গোনমুখে ভাটার সময় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার চিংড়ি পোনা আহরণ করেন।

উপকূলের মানুষ চিংড়ি পোনা আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তাঁরা মনে করেন নদ-নদী থেকে চিংড়ি পোনা আহরণ বন্ধ রাখতে হলে তাঁদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। নিষিদ্ধ সময় গুলোতে সরকারি ভাবে তাদের সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *