স্ত্রীর পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় ভাই-ভাবিকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ
মাজহারুল ইসলাম : স্ত্রীর পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় আপন ভাই-ভাবিকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ উঠেছে দুই সহোদর ভাই ও তাদের দুই ছেলের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (০৭ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের বাঁকারঘোজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত মোক্তার ঢালী ও তার স্ত্রী আকলিমা খাতুন মারাত্মক জখম হয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন আকলিমা খাতুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাঁকারঘোজ এলাকার মৃত মানিক ঢালীর ছেলে আহত মোক্তার ঢালী জানান, ‘তার আপন ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ঘোনা ইউনিয়নের সনকা এলাকার হায়েত আলীর ছেলে মজনুর সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। মজনু মাঝে মধ্যে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে আসছিল।
বিষয়টা তাদের এবং প্রতিবেশীদের নজরে আসলে সম্মান বজায় রাখতে তাদের দু’জনকে কয়েকবার সতর্ক করেন। এরমধ্যে গত ০৫ অক্টোবর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিক মজনুকে একটি ঘরের মধ্যে আটক করে স্থানীয়রা। ওই রাতেই খবর পেয়ে আমাদের মেম্বার ভৈরব চন্দ্র ঘোষ ঘটনাস্থলে আসে’। তিনি আরও জানান, ‘স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পরদিন সালিশি বৈঠক ডাকে। কিন্তু আমার ছোট ভাই মোজাম ঢালী, মান্নান ঢালী এবং তাদের ছেলে নাঈম হোসেন ও শাহিন হোসেন সালিশ অমান্য করে আমাদের খুন করার হুমকি দেয়। তারই জের ধরে আজ দুপুরে পরিকল্পিতভাবে আমাদের হত্যার উদ্দেশ্যে তারা কুড়াল, রড, শাবলসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমার ও আমার স্ত্রীর উপর হামলা করে। আমার স্ত্রীর মাথায় কুড়ালের আঘাতে মারাত্মক জখম হয়েছে। এছাড়া আমাকেও রড শাবল দিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছে।
এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে’। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ঘোনা ইউনিয়নের বাঁকারঘোজ এলাকার মৃত আফসার আলী গোলদারের ছেলে আয়ূব আলী জানান, ‘পরশু রাতে আমাদের এলাকার ডাবলু, হারু সরদার, আয়নদ্দীন সরদার সহ স্থানীয়রা মোজামের স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিক মজনুকে আটক করে। পরে সালিশি ব্যবস্থা অমান্য করে আজ তারা এ অতর্কিত হামলা চালিয়েছে’। স্থানীয় ইউপি সদস্য ভৈরব চন্দ্র ঘোষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘ঘটনার রাতে আমি সেখানে গিয়ে দেখি কয়েক শ’ মানুষ জড়ো হয়েছে। মজনুকে তারা আটকে রেখেছে এবং মোজামের স্ত্রী ঘরের দরজা দিয়েছে। যেহেতু নারীর সম্মানের বিষয় তাই আমি উপস্থিত সকলের সাথে এবং আমাদের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে পরদিন বিকেলে সালিশের ব্যবস্থা করি।
তিনি আরও জানান, এরমধ্যে পরদিন সকালে মোজামের ছেলে নাঈম আবার তার মায়ের পরকীয়া প্রেমিক মজনুকে বেধড়ক মারপিট করে। এরপর ওইদিন বিকেলে এলাকার প্রায় পাঁচ শ’ মানুষ বাঁকারঘোজ মোড়ে সালিশে হাজির হয়। ওই ইউপি সদস্য জানান, ‘সেখানে আমাদের চেয়ারম্যানসহ ইউনিয়নের সকল ইউপি সদস্য উপস্থিত থাকে। কিন্তু মোজামের স্ত্রীকে হাজির করার জন্য আমরা প্রথমে দফাদার পাঠালে তাকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে তাড়িয়ে দেয়। পরে চৌকিদার পাঠালে তাকে মারতে উদ্যত হয়। কিন্তু অভিযুক্ত নারী হাজির হয়নি। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে মোজাম, মান্নান, নাঈম ও শাহিন একত্রে মোক্তার ও তার স্ত্রী আকলিমাকে পিটিয়ে কুপিয়ে জখম করে’। তিনি আরো জানান, ‘আহতরা হাসপাতালে ভর্তি আছে। আকলিমার অবস্থা খুব খারাপের দিকে যাচ্ছে। আমরা এখন থানায় আছি। মামলা করার প্রস্তুতি চলছে’।

Leave a Reply