ঢাকাTuesday , 6 October 2020
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

দেবহাটায় ডাক্তার বাবার চেয়ারে ছেলে! রোগী দেখে লিখছেন ব্যবস্থাপত্র, অপ চিকিৎসায় শিশুর অঙ্গ যায় যায়

বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা
আপডেট: 6 October 2020, 22:41

মীর খায়রুল আলম : দেবহাটা উপজেলার কোমরপুরে বাপের চেম্বারে রোগী দেখছেন মাধ্যমিক পাস ছেলে। ইতিমধ্যে তার অপ-চিকিৎসার শিকার হয়ে শরীরের একটি অঙ্গ হারাতে বসেছে আজিম হোসেন নামে ২১ মাসের এক শিশু। এছাড়াও তার অপ-চিকিৎসার শিকার হয়ে হাসপাতালের বিছানায় দিন কেটেছে অনেকের। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানায়, ‘গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তার আমিরুল ইসলাম মধুর ছেলে আকিব হোসেন আকাশ নিজেকে (ডি.এম.এফ-ঢাকা) মা, শিশু ও কিশোর রোগে অভিজ্ঞ ডাক্তার বলে পরিচয় দিয়ে ভুল চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে। তার বাবা কোমরপুরস্থ শাহিদা সেবা কেন্দ্রে (রেজি. নং- ৮৯০৫২৪) চিকিৎসা প্রদান করেন। আর সেই সুবাদে উচ্চ মাধ্যমিক গোন্ডি না পেরিয়ে বাবার চেম্বারে নিজেই হয়ে গেছেন অভিজ্ঞ ডাক্তার। শুধু তাই নয় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মত নিজের নামে ব্যবস্থাপত্র ছাপিয়ে চিকিৎসার নামে অপ-চিকিৎসা প্রদান করছে আকাশ’। তারা আরও জানায়, ‘সম্প্রতি তার এই অপ-চিকিৎসায় বলি হয়েছেন ভাতশালা গ্রামের আলামিন সরদারের ২১ মাসের শিশু আজিম হোসেন। হাতুড়ে চিকিৎসকের অপ-চিকিৎসায় বর্তমানে শিশুটি নিজ শরীরের ডান পাশ পুরোপুরি অচল হতে বসেছে। এ ঘটনায় শিশুটি এখন প্রতিবন্ধী হওয়ার উপক্রম’। এ বিষয়ে শিশু পুত্রের দাদা গোলাম রসুল সরদার(৬২) জানান, ‘গত শুক্রবার আমার পোতা বাড়িতে খেলা করার সময় খাট থেকে মেঝেতে পড়ে আঘাত পায়। পরিবারের সদস্যরা মিলে কোমরপুরস্থ শাহিদা সেবা কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। এ সময় চেম্বারে গ্রাম্য চিকিৎসক আমিরুল ইসলাম মধু না থাকায় তার ছেলে আকিব হোসেন আকাশ কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই শুরু করেন অপ-চিকিৎসা। এরপর পূর্ণ বয়সী মানুষের ইনজেকশন শিশুর শরীরের কোমরে পুষ করে। পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। আসার পরপরই শিশুর দেহের হাত, পা নিস্তেজ গাল বেঁকে যেতে থাকে। এরপর তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রতিবেশীদের পরামর্শে সাতক্ষীরার শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আজিজুর রহমানের কাছে নিয়ে যায়। ডাক্তার আজিজুর রহমান পূর্বের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে নতুন ভাবে চিকিৎসা শুরু করেন। গ্রাম্য ডাক্তারের দেওয়া চিকিৎসা ভুল বলে জানান তিনি’। এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মধু ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে কথা হয় তার সাথে। এই অপ-চিকিৎসার কথা জানতে চাইলে দায় স্বীকার করেন তিনি। তবে মধু ডাক্তারের চেম্বারের কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এমনকি তার ছেলে আকাশ নিজেই কত সালে এসএসসি পাশ করেছেন সেটিও সঠিক করে বলতে পারেননি। একজন মাধ্যমিক পাশ ছাত্র কীভাবে মা, শিশু ও কিশোর রোগে অভিজ্ঞ। সে বিষয়ে জানাতে চাওয়া হলে মধু ডাক্তার তার নিজের অভিজ্ঞতায় তার ছেলে অভিজ্ঞ বলে জানান। তবে বিষয়টি নিয়ে আবিক হোসেন আকাশ জানান, তার বাবার চেম্বারে সে নিজেই রুগী দেখেন। ঢাকা থেকে তার ট্রেনিং করা আছে। শিশুটি ব্যথা পেয়েছিল ভেবে ইটোরাক-৩০ (ঊঃড়ৎধপ-৩০) প্রদান করি। কিন্তু পরে জানতে পারছি ইনজেকশনটি শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর লতিফ জানান, গ্রাম ডাক্তাররা ব্যবস্থাপত্র লিখতে পারেন না। তবে অধিকাংশরাই এটি মানেন না। বর্তমানে অনেক গ্রাম ডাক্তাররা ভুল চিকিৎসা প্রদান করছেন বিষয়টি শুনেছি। তবে তিনি যে কোন বিষয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *