দেবহাটায় বৌমার নির্যাতনে বিধবা শ্বাশুড়ির জীবন ওষ্ঠাগত
এমএ মামুন, দেবহাটা প্রতিনিধি : দেবহাটায় পুত্র বধূর কাছে নির্যাতনের শিকার ৭৮ বছর বয়সী বিধবা খাদিজা বেগম। প্রতিনিয়ত মানসিক ও শারীরিক ভাবে নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে বলে জানান উপজেলার সদর ইউনিয়নের আজিজপুর গ্রামের মৃত আকরাম মন্ডলের বিধবা স্ত্রী খাদিজা বেগম (৭৮)। খাদিজা বেগম জানান, আমি ৫ কন্যা ও ১ পুত্র সন্তানের জননী। গত কয়েক বছর পূর্বে আমার স্বামী মৃত্যু বরন করেন। অনেক কষ্টে ৫ কন্যাকে বিয়ে দিয়েছি। বর্তমানে তারা স্বামীর সংসারে সুখে শান্তিতে আছে। কিন্তু বিপদে আছি একমাত্র পুত্রকে নিয়ে। সে এই পর্যন্ত ৫ টি বিয়ে করেছে।
কান্না জড়িত কণ্ঠে ৭৮ বছরের এই বৃদ্ধা জানান, বিগত ১৫ বছর আগে একমাত্র পুত্র ভারতে চলে যায় এবং সেখানে আবার বিয়ে করে সংসার পাতে। এ ভাবেই চলতে থাকে । কিন্তু গত বছর আবার বাড়িতে চলে আসে সে। ফিরে এসে আবারও বিয়ে করে আধা বয়সী এক স্বামী পরিত্যক্তা হিন্দু মহিলাকে। তাকে আশ্রয় দেয় আমার বাড়িতে। কিছু দিন ঘর সংসার করার পর সে আমার স্বামীর বসত ভিটা হতে তার অংশের জমি সু-কৌশলে আমাদের প্রতিবেশী আব্দুল মজিদের পুত্র রফিকুল ইসলামের কাছে স্ট্যাম্প করে বিক্রি করে এবং আবারে পালিয়ে তার ভারতের স্ত্রীর কাছে চলে যায়। বাড়িতে থেকে যায় আমার পুত্রের বিয়ে করা স্বামী পরিত্যক্তা হিন্দু পরিবারে থেকে এসে মুসলিম নাম ধারণ করা ফিরোজা খাতুন নামের পুত্র বধূ।
আমার পুত্র চলে যাওয়ার পর থেকে আমার উপর নির্যাতন শুরু করতে থাকে ফিরোজা। সে প্রায়ই আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে থাকে। এমনকি লাথি ঝাঁটা মারা সহ আমাকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করে চলেছে। এ ছাড়া সে আমাকে ভিটা ছাড়া করার জন্য ওই ভিটায় আমার কোন জমি নেই বলে আমাকে ঘর থেকে বাহির হয়ে যাওয়ার জন্য বার বার হুমকি দিয়ে চলেছে। বিষয়টি সুষ্ঠু বিচার চেয়ে পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগও দায়ের করেছেন বলে জানান অসহায় বৃদ্ধা খাদিজা বেগম। তাছাড়া অসহায় এই বৃদ্ধ মহিলার উপর নির্যাতন এবং সে যাতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে তার যথাযথ ব্যবস্থার জন্য পুলিশ সুপার মহোদয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
এদিকে তার পুত্রবধূ ফিরোজা খাতুনের কাছে জানতে চাইলে তিনি নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমার শাশুড়ির উপর আমি কেন নির্যাতন করব! আমার স্বামী আমাকে ফেলে রেখে চলে গেছে। সেখান থেকে আমি দিন মজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি।

Leave a Reply