সাতক্ষীরাতে এই প্রথম ‘সি বি হাসপাতালে’ খাদ্যনালী ক্যান্সারের সফল অস্ত্রোপচার
স্টাফ রিপোর্টার : সাতক্ষীরাতে এই প্রথম খাদ্যনালী ক্যান্সারের সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ সাতক্ষীরার সি বি হাসপাতালে খাদ্যনালী ক্যান্সারে আক্রান্ত মাকসুদুল রহমান (৩০) নামে এক রোগীর শরীরে এ সফল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তিনি শ্যামনগর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ‘গত ৯ এপ্রিল কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দীর্ঘ ৫ ঘণ্টাব্যাপী অক্লান্ত প্রচেষ্টায় মাকসুদুল রহমানের শরীরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই খাদ্যনালীর ক্যান্সারের মত দুঃসাধ্য সার্জারি সফল করা হয়’।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. শরিফুল ইসলাম এমবিবিএস (ডিএমসি), এফসিপিএস (সার্জারি), এমআরসিএস (ইংল্যান্ড), এমআরসিএস (ইডেন, ইউকে), এমএস (সিভিটিএস) বিসিএস (স্বাস্থ্য), এফএমএএস (ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি, ভারত) এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (সার্জিক্যাল অনকোলজী বিভাগ) জেনারেল ও ক্যান্সার সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মনোয়ার হোসেন এমবিবিএস, এফসিপিএস (সার্জারি), এমএস (সার্জিক্যাল অনকোলজী) এ দু’জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এই জটিল রোগের সফল অস্ত্রোপচার করেছেন বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এছাড়াও সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ এর অ্যানাস্থেসিয়া বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. সাইফ‚ল্লাহ, ডা. রাজিব কাউসারসহ সার্জারিতে সহযোগিতা করেন ফজলুর রহমান ও ইয়াসীন।
উল্লেখ্য, খাদ্যনালীর ক্যান্সার আক্রান্ত মাকসুদুল রহমান অত্যন্ত হতদরিদ্র হওয়ায় হাসপাতাল ত্যাগকালে সার্জারি টিমের সকল সদস্যবৃন্দ তাদের পারিশ্রমিক থেকে ৪০ হাজার টাকা দান করেন।

এ বিষয়ে মাকসুদুল রহমান জানান, ‘সাতক্ষীরা সি বি হাসপাতালে অল্প খরচে এমন কঠিন রোগ থেকে আবার সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পেরেছি এটা শুধু আমার জন্য নয় বরং সাতক্ষীরাবাসীর জন্য একটি সুখবর। তাছাড়া আমার পুরোপুরি সুস্থ হতেও সময় লাগবে তার মধ্যে করোনা ভাইরাসের প্রকোপের কারণে ডাক্তাররা আমাকে আর্থিক সহযোগিতাও করেছে’।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘খাদ্যনালীর ক্যান্সার এক কঠিন রোগের নাম। এ রোগে আক্রান্ত হলে খাবার গিলে খাওয়া যায় না। আক্রান্ত ব্যক্তি না খেয়ে ধুকে ধুকে নিঃশেষ হয়ে যায়। যার পরিণাম নিশ্চিত মৃত্যু। তাছাড়া এ রোগের অপারেশন করাতে গেলে বুক চিরে এক সাইডের ফুসফুসকে সাময়িক ভাবে নিষ্ক্রিয় করে চুপসিয়ে ফেলা হয়।
এজন্য আলাদা পদ্ধতিতে আলাদা টিউব দিয়ে রোগীকে অজ্ঞান রাখতে হয়। যেখানে অ্যানাসথেটিস্ট যে কোন সময় যে কোনো সাইডের ফুসফুসকে চুপসিয়ে / ফুলিয়ে সার্জনকে খাদ্যনালী অপারেশন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করেন। কাজটি অতিশয় দুরূহ। তবে সাতক্ষীরায় সি বি হাসপাতালে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি থাকায় আমরা নির্বিঘ্নে অপারেশন করতে সফল হয়েছি’।

Leave a Reply