ঢাকাThursday , 23 April 2020
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

ব্রিটেনে করোনার পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন প্রয়োগ

বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা
আপডেট: 23 April 2020, 15:46

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বের ২১০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। বিজ্ঞানীরা এই ভাইরাসের ভ্যাকসিনের কাজ এগিয়ে নিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে আজ (বৃহস্পতিবার) অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো মানবদেহে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু করতে যাচ্ছেন।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকুক জানিয়েছিলেন যে, বৃহস্পতিবার মানবদেহে অক্সফোর্ড প্রজেক্ট তাদের ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করবে।
ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের একদল গবেষক সিএইচএডিওএক্স১ এনকোভ-১৯ নামের একটি করোনা ভ্যাকসিন তৈরি করেছেন। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের তৈরি এটিই প্রথম ভ্যাকসিন।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের তৈরি ভ্যাকসিন চূড়ান্তভাবে মানবদেহে প্রয়োগের ব্যাপারে আশাপ্রকাশ করেছেন। এজন্য ভ্যাকসিনটির কয়েক লাখ ডোজ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন তারা।

এক্ষেত্রে ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী যে কোনো সুস্থ ব্যক্তি লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ, ইউনিভার্সিটি হসপিটাল সাউথাম্পটন এবং ব্রিসটল চিলড্রেনস ভ্যাকসিন সেন্টারে পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।

এসব সেন্টারে যেসব স্বেচ্ছাসেবী পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন প্রয়োগে অংশ নেবেন তাদের ১৯০ থেকে ৬২৫ পাউন্ড দেওয়া হবে।

বুধবার এক বিবৃতিতে ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক বলেন, বিশ্বের প্রথম করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিনের কাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টায় সব ধরনের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে সরকার।

তিনি আরও জানান, ভ্যাকসিন তৈরির এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য ব্রিটিশ সরকার বিজ্ঞানীদের অতিরিক্ত ২০ মিলিয়ন পাউন্ড দেবে। এছাড়া লন্ডন ইম্পেরিয়াল কলেজের একটি প্রজেক্টের জন্য আরও ২২ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ড দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারে এই মুহূর্তে বিশ্বের ৮০টিরও বেশি গবেষক দল কাজ করছেন। এর মধ্যে কয়েকটি ইতোমধ্যে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালও চালিয়েছে। গত মাসে প্রথমবারের মতো মানবদেহে করোনার ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালান যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের বিজ্ঞানীরা। চীনেও একটি ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে।

সিএইচএডিওএক্স১ এনকোভ-১৯ নামের এই ভ্যাকসিনটি অক্সফোর্ডের জেনার ইন্সটিটিউটে তৈরি করা হয়েছে। কোভিড-১৯ য়ের ক্ষেত্রে এই ভ্যাকসিনটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানী। এর প্রথম ডোজ গ্রহণের মাধ্যমেই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হবে।

এর ফলে যারা এই ভ্যাকসিন গ্রহণ করবেন তাদের শরীরে সংক্রমণের কোনো সম্ভাবনা থাকবে না। এমনকি এটি শিশুদের জন্যেও নিরাপদ। শুধু তাই নয় ডায়বেটিস বা অন্য কোনো রোগে ভুগছেন এমন ব্যক্তি এবং বয়স্কদের জন্যও এটা নিরাপদ।

তিন দফায় এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে। ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী ৫১০ জনকে প্রথম দফায় এই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। যদি প্রথম দফা সফল হয় তবে দ্বিতীয় দফায় ৫৫ থেকে ৭০ বছর বয়সীদের ওপর ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে। চূড়ান্তভাবে ৩য় দফায় ১৮ বছরের বেশি বয়সী ৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর ওপর এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে।

এদিকে, জার্মান কোম্পানি বায়োএনটেক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারী জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান ফাইজারের তৈরি করোনার একটি ভ্যাকসিন মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের সবুজ সঙ্কেত পেয়েছে। জার্মানির সরকারের অনুমোদন পাওয়ায় শিগগিরই করোনার এই ভ্যাকসিনটি মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে।

১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী সুস্থ ২০০ জনের দেহে ভ্যাকসিনটির পরীক্ষা চালানো হবে। বুধবার দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেনস স্প্যান বলেছেন, এটি একটি ভালো লক্ষণ যে, জার্মানিতে একটি ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা এগিয়ে চলছে। আমরা ভ্যাকসিনটির প্রথম পরীক্ষা চালাতে পারি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *