শ্যামনগর উপজেলায় ৫২ হাজার হতদরিদ্র পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন
গাজী আল ইমরান, নিজস্ব প্রতিনিধি : আয়তনের দিক দিয়ে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা। আইলা বিদ্ধস্ত উপজেলার অধিকাংশ মানুষ অতিদরিদ্র সীমার নীচে। বর্তমানে করোনা ভাইরাস এর কারণে অবরুদ্ধ থাকা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষেরা পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার না পেয়ে অনাহারে জীবন যাপন করতে শুরু করছে।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে বুধবার (১৫ এপ্রিল) পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন এবং ইউপি চেয়ারম্যানদের হাত দিয়ে মোট ৭ হাজার ৮শ’ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। ত্রানের উপকরনের মধ্যে ছিল চাল ১০ কেজি, আলু ২ কেজি, পেঁয়াজ, ডাল ও শিশু খাবার। যা এলাকার মানুষের চাহিদার তুলনায় একেবারেই কম।
ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ‘তাদের ইউনিয়নে যে পরিমান ত্রাণের প্রয়োজন তার ১০ ভাগের ১ ভাগ ত্রান তারা পায়নি। বুড়িগোয়ালীনি ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে ৪৪ হাজার মানুষরে বসবাস। এরমধ্যে ২২ হাজার ভোটার এদের অধিকাংশই প্রান্তিক মানুষ। অথচ ত্রাণ পেয়েছি মাত্র ৭শ’ পরিবারের। যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগন্য’।
কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ, এরমধ্যে ২৩ হাজার ভোটার আর ত্রাণ পেয়েছি মাত্র ৪শ’ জনের। যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই কম’।
শ্যামনগর উপজেলায় মোট ৮২ হাজার পরিবার। সে তুলনায় ত্রাণ একেবারেই নুন্যতম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহিনুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলায় মোট ৮২ হাজার পরিবারের মধ্যে হতদরিদ্র ৫২ হাজার পরিবার। অথচ আমরা বরাদ্দ পেয়েছি মাত্র ৭ হাজার ৮শ’ পরিবারের জন্য’।
তিনি বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত মোট ৮১ টন চাউল পেয়েছি যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে বিতরণ করেছি ৭৯ টন এবং বাকীটা উপজেলার আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা, সিপিপি, কাহার, মুন্ডা, জেলে পরিবারের মধ্যেও আলাদাভাবে বিতরণ করা হয়েছে’।
নগদ টাকা বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা নগদ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি ৪ লক্ষ ১৫ হাজার। যা দিয়ে আমরা আলু, ডাল, পেঁয়াজ, সাবান, তেল, শিশু খাদ্য কিনে প্রতিটি ইউনিয়নে বিতরণ করছি’।
এদিকে আয়তনে বড় শ্যামনগর উপজেলার অধিকাংশ মানুষ হতদরিদ্র পরিবারের কাতারে থাকায় তাদের ত্রাণের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ.ন.ম আবুজর গিফারী।
তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন কোনো পরিবার না খেয়ে থাকবে না, আমরা তার কথাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার আমরা জনগণের দৌড়-গোড়ায় পৌঁছে দিতে সকল কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি’। এ সময় তিনি সমাজের বিত্তবানদের গরিবের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আহবান জানান।

Leave a Reply