ঢাকাWednesday , 25 March 2020
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

স্পেনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পঁচা-গলা লাশ উদ্ধার করছে সেনাবাহিনী

বিশেষ প্রতিনিধি ঢাকা
আপডেট: 25 March 2020, 10:39

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : স্পেনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পঁচা-গলা লাশ উদ্ধার করছে সেনাবাহিনী। ইতালির পর এবার স্পেনেই প্রাণঘাতী করোনার সবচেয়ে করুণ ছবি ভেসে উঠছে। প্রতিদিনই দেশটিতে শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে। ঘরের মধ্যে মরে পচে-গলে যাচ্ছে লাশ। সরানোর কিংবা দাফনের কেউ নেই। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেইসব পচা-গলা লাশ উদ্ধার করছে সেনাবাহিনী। বেশকিছু বৃদ্ধাশ্রম থেকেও উদ্ধার হচ্ছে বয়স্ক মানুষের লাশ। জীবনের শেষ আশ্রয় এসব বৃদ্ধাশ্রমে আক্রান্তদের ফেলে পালিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত লাশের কারণে উপচে পড়ছে মর্গগুলো। বরফ ফ্যাক্টরিগুলো হয়ে যাচ্ছে অস্থায়ী মর্গ। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী সোমবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর বিবিসি ও এবিসি নিউজ। করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের দিক দিয়ে ইউরোপের দেশগুলো দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সেনাবাহিনী নামিয়েছে দেশটির সরকার। দেশজুড়ে বৃদ্ধাশ্রমগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্বও তাদের দেয়া হয়েছে। এখন বাড়িগুলো জীবাণুমুক্ত করার কাজ করছে সেনারা। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাড়ি বাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে বয়স্কদের। কখনও কখনও বিছানার ওপরেই পাওয়া যাচ্ছে তাদের মরদেহ। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রবলস বলেন, অভিযানের সময় বেশকিছু বাড়িতে বয়স্কদের পরিত্যক্ত অবস্থায় আবিষ্কার করেছে সেনাবাহিনী। কখনও তাদের মরদেহ পাচ্ছে তারা। অমানবিক এসব ঘটনা খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সরকারি আইনজীবীরা।অবসরপ্রাপ্তদের হোমগুলো ‘সরকারের শীর্ষ বিবেচনায় আছে’ বলে এদিন সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সালভাদর ইলা। করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর কিছু কেয়ার হোমের কর্মীরা কর্মস্থল ছেড়ে গেছেন বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এসব কেয়ার হোমের মৃত বাসিন্দাদের দেহগুলো শেষকৃত্যের জন সংগ্রহ না করা পর্যন্ত কোল্ড স্টোরেজে রাখা হয়। কিন্তু যখন মৃত্যুর কারণ করোনাভাইরাস বলে সন্দেহ করা হয় তখন উপযুক্ত পোশাকে সজ্জিত শেষকৃত্য কর্মীরা না আসা পর্যন্ত এসব মৃতদেহ তাদের বিছানায়ই রেখে দেয়া হয়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু হয়েছে রাজধানী মাদ্রিদে, এখানে ওই ধরনের লাশগুলো সরিয়ে নিতে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মাদ্রিদে সংকট ঘনীভূত হওয়ায় নগর কর্তৃপক্ষের দাফন দফতর জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সুরক্ষা উপকরণ না থাকায় মঙ্গলবার থেকে তারা কোভিড-১৯-এ মারা যাওয়া রোগীদের লাশ সংগ্রহ বন্ধ রাখবে। স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানমতে, ইতোমধ্যে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ হাজার ১৩৬ জন। সোমবার পর্যন্ত মারা গেছেন ২ হাজার ৩১১ জন। এর মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৪৬২ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৩৫৫ জন। প্রতিদিনই নতুন শত শত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। জায়গার সংকুলান হচ্ছে না। ইতালির মতো এখানেও চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। লাশে ভরে গেছে হাসপাতালের মর্গগুলোও। ফলে বরফ ফ্যাক্টরিগুলোকেই অস্থায়ী মর্গে রূপ দেয়া হচ্ছে। রাজধানী মাদ্রিদে মাদ্রিদ শপিং সেন্টারটি সাময়িকভাবে মর্গে পরিণত করা হয়েছে। স্পেনের বেশকিছু হাসপাতালের মেঝেতেই পড়ে রয়েছে করোনার রোগী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এমন দৃশ্য। ওই সব রোগীদের দেখার জন্য স্বাস্থ্যকর্মী অকুলান। একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রোগীরা কাশছেন আর তাদের সামনেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। মাদ্রিদের ইনফান্টা লিয়োনোর হাসপাতাল এবং সেভেরো ওকা ডে লেগানে হাসপাতালে উঠে এসেছে এমনই ছবি। ছবিগুলো দেখিয়ে দেশের মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখলে কী ভয়ানক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। গোটা স্পেনের মধ্যে মাদ্রিদেই মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *