নেপথ্যে জমি নিয়ে বিরোধ কলারোয়ায় নিখোঁজের ১২ ঘণ্টা পর পুকুর থেকে নারীর লাশ উদ্ধার: আটক-১
কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় নিখোঁজ হওয়ার ১২ঘন্টা পর পুকুর থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার সকালে উপজেলার কেড়াগাছী ইউনিয়নের কাকডাঙ্গা সরদার পাড়ার একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রিপন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। স্বজনদের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে সোনাভান বিবিকে ওড়না নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে লাশ গুম করার চেষ্টা করেছে হত্যাকারী।
নিহত সোনাভান বিবি (৪৯) কাকডাঙা গ্রামের বদরুজ্জামানের স্ত্রী।এছাড়া আটক রিপন হোসেন একই গ্রামের শহীদুলাহর ছেলে।
কেড়াগাছি ইউপি চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিল জানান, কাকডাঙা গ্রামের কৃষক বদরুজ্জামানের সঙ্গে প্রতিবেশী রিপন হোসেনের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। রিপন হোসেন একজন মাদকাসক্ত ও মাদক বিক্রেতা। দুই মাস আগে সে ফেনসিডিল (মাদক) মামলায় জামিন পায়। গত রবিবার সন্ধ্যায় সোনাভান বিবি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। সোনাভানের স্বজনরা তাকে রাতভর সন্ধান করেও খুঁজে পায়নি। সকালে স্থানীয়রা সোনাভান বিবির চটিজুতা রিপনের পুকুরে ভাসতে দেখে তাকে খবর দেয়। তিনি কলারোয়া থাকার ওসি মনির উল গীয়াসকে বিষয়টি অবহিত করে পুকুরে সন্ধান চালাতে থাকনে। এক পর্যায়ে বাঁশের সিঁড়ির নীচে একটি বাঁশের সঙ্গে ওড়নায় আটকানো সোনাভানের লাশ উদ্ধার করেন তারা। সোনাভানের হাতে যেভাবে ওড়না ধরা ছিল তাতে মনে হয়েছে হত্যার আগে সে ওড়না ছাড়িয়ে বাঁচার জন্য চেষ্টা করেছে। তবে সোনাভানের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন আছে।
জানতে চাইলে সোনাভান বিবির ভাই আকবর হোসেন জানান, বাড়ির পাশের একটি জমি নিয়ে প্রতিবেশী রিপন হোসের সাথে তার বোনের বিরোধ চলে আসছিল। গত দুই মাস আগে রিপন মাদক ব্যবসার কারণে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। রিপনের সন্দেহ জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে তার বোন সোনাভান রিপোনকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে সে জামিনে বেরিয়ে এসে একবার হুমকিও দেয় তার বোনকে। রিপনই এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত বলে তিনি মনে করেন।
আটককৃত রিপন হোসেনের ভাই হাসানুজ্জামানের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনির উল গীয়াস বলেন, রিপন হোসেনের সঙ্গে বদরুজ্জামানদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে বল তিনি জানতে পেরেছেন। রিপন হোসেন কিছুটা মানসিকভাবে বিপন্ন হলেও তাকে জিজ্ঞাসাবদের জন্য আটক করা হয়েছে। মৃত্যুর রহস্য উদঘটনের চেষ্টা চলছে। বিস্তারিত পরে জাননো হবে। লাশের ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরর প্রস্তুতি চলছে।

Leave a Reply