নকিপুর হাট-বাজারের বন্দোবস্ত প্রাপ্ত ব্যবসায়ীরা ক্ষতির স্বীকার
শ্যামনগর অফিস: শ্যামনগর উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নকিপুর হাট বাজারের দোকান ঘর বন্দোবস্ত প্রাপ্ত ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ব্যাপক ক্ষতির স্বীকার হচ্ছে। একারণে বাড়ছে বেকারত্ব, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উদ্যোগী যুবকরা। শ্যামনগর উপজেলার, হায়বাতপুর, বাদঘাটা এবং চন্ডিপুর মৌজায় বিভিন্ন দাগের সর্ব মোট ৭.৫৬৫ একর জমি নিয়ে জে. প্র. ০১/২০১৬ নং মিস কেসে নকিপুর হাটবাজারের ফেরাফেরি ম্যাপ অনুমোদন করা হয়। পেরিফেরি বন্দোবস্তযোগ্য শ্যামনগর মৌজার ১৯৪ দাগের ০.০৮ একর, ৮০ দাগের ০.৪৬ একর এবং হায়বাদপুর মৌজায় ৩নং দাগের ০.০৮ একর মোট ০.৬২ একর জমির মধ্যে ০.৪৩৬১ একর জমি ৯৬ টি চান্দিনা ভিটি অস্থায়ী বন্দোবস্ত কেসের মাধ্যমে স্থানীয় প্রান্তিক উৎপাদক এবং বেকার যুবকদের অনুকুলে বন্দোবস্ত প্রদান করা হয়। তারা বাংলা ১৪২৩ সাল হতে ১৪২৫ সন পর্যন্ত সরকারী সকল পাওনাদি পরিশোধ করেছেন। কিন্তু সরেজমিনে তাদের দখল বুঝে দেওয়া হয়নি যা পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং উপজের নির্বাহী অফিসার, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা এর প্রস্তাব গ্রহণ ছাড়াই এবং বন্দোবস্ত গ্রহীতাদের কোন প্রকার নোটিস প্রদান না করে জেলা প্রশাসক একক ভাবে ৭৭/২০১৮ (চান্দিনা) নং মিস কেসে বাতিল করেন যা সর্বস্তরে ইতিপূর্বে প্রশ্নবিদ্ধতার সম্মুখীন হয়েছে। ফেরাফেরি ম্যাপ সংশোধন করে বন্দোবস্ত প্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে দোকান ঘরের দখল হস্তান্তর করার জন্য সুপারিশ করে জেলা প্রশাসন, সাতক্ষীরা বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এ তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্যামনগর, ০৩ জন সার্ভেয়ার এবং ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা,শ্যামনগর, সাতক্ষীরা এদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে ১৫ দিনের মধ্যে সংশোধিত ফেরাফেরি ম্যাপ দাখিল করার জন্য বলা হয়। উক্ত কমিটি একাধিকবার নকিপুর বাজারের লোক দেখানো মাপ জরিপ করলেও অদ্যবিধ সংশোধিত ম্যাপ দাখিল করেনি। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর সাথে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা একাধিকবার দেখা করলে তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সংশোধিত ফেরাফেরি ম্যাপ দাখিল করেননি। প্রশাসনের এরকম উদাসীনতায় ইতিপূর্বে বন্দোবস্ত প্রাপ্ত সাধারণ ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীগণ ব্যাপক হয়রানি স্বীকার হচ্ছেন। মুজিববর্ষে যেখানে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বেকারত্ব নিরসনের ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে প্রশাসনের এ রকম উদাসীনতায় এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক অসন্তোষ বিরাজ করছে। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানাযায়, সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী দোকান ঘর বন্দোবস্ত প্রাপ্ত হয়ে প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রিতায়, সরকারি সকল পাওনাদি পরিশোধ করেও সকলেই বেকারত্ব ও ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এসব যুবকরা।

Leave a Reply