শ্রীরামপুরের কাঠের ব্রিজটির বেহাল দশা : দ্রুত পাকা করার দাবি এলাকা বাসীর
রুহুল আমিন কুলিয়া থেকে: সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা উপজেলার মধ্যে বিভক্তি টানা ছোট নদীটির নাম লাবণ্যবতী নদী। এ নদী ইছামতি নদীর একটি শাখা। দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া এলাকায় সাতক্ষীরা-কালিগঞ্জ সড়কের একটি মাত্র পাকা ব্রিজ রয়েছে যার উপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে । তার পাশেই প্রায় হাফ কি: মি: পশ্চিমে শ্রীরামপুর বাজারের সাথেই কাঠ ও লোহা মিশ্রিত তৈরি দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের মধ্যবর্ত্তী একটি ব্রিজ রয়েছে। বর্তমানে এই ব্রিজটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। যে কোন মুহ‚র্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কাঠের তৈরি এ ব্রিজ পার হয়ে প্রতিদিন শত শত ছাত্র-ছাত্রীসহ নানা বয়সের লোকজন আসা যাওয়া করে। অতি প্রয়োজনীয় এই ব্রিজটি কোন রকমে নড়বড়ে অবস্থায় টিকে রয়েছে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ব্রিজটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। যে কোন সময় ব্রিজটি ভেঙে পড়তে পারে। বাজারের পাশেই শ্রীরামপুর ইউনাইটেড মডেল কলেজ, শ্রীরামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বহেরা এটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বহেরা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে এবং ওপারে কুলিয়ায় রয়েছে কুলিয়া ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কুলিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভূমি অফিস সহ মসজিদ, মাদ্রাসা ও হাটবাজার। যার ফলে এপার এবং ওপারের অসংখ্য লোকজন ও ছাত্র-ছাত্রীরা পড়া-লেখা করতে আশা-যাওয়া করতে হয় প্রতিদিন। কিন্তু কাঠের এই ব্রিজটি ভাঙ্গা চোরা ও নড়বড়ে হওয়ায় নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীসহ সকল বয়সের লোকজন। অনতিবিলম্বে এখানে একটা পাকা ব্রিজ তৈরি হলে এলাকার সকল বয়সের বাসিন্দারা সহজেই পারাপার এবং এর সুফল ভোগ করতে পারতো। এ ব্রিজের অধিকাংশ কাঠ ও লোহা জং ধরে মরিচা পড়ে খসে পড়ে নড়বড়ে অবস্থায় পরিণত হয়েছে। যার ফলে বৃদ্ধ নারী-পুরুষসহ সকল লোকজনের চলাচল করতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। তাছাড়া এই ব্রিজ দিয়ে পার হতে যেয়ে অনেক ছাত্র-ছাত্রীরা নীচে পড়ে মারাত্মক আহত হয়েছে। এবিষয়ে ভোমরা ইউপি চেয়ারম্যান ইসরাইল গাজীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমরা ইতোমধ্যে টেন্ডার জমা দিয়েছি খুব তাড়াতাড়ি ভালো ফলাফল পাব বলে আশা করি। কুলিয়া ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম জানান, বহুদিন ধরে ব্রিজটি এমন খারাপ অবস্থায় আছে এবং কিছুদিন আগে ব্রিজটি সংস্কারের কথা হয়েছিলে কিন্তু কোন কারণে হয়তো সেটা হয়নি। স্থানীয় মেম্বার মোসলেম আলী , ব্রিজটি বর্তমানে এলজিইডির আওতায় আছে কারণ দুর্যোগ ও পরিকল্পনা ব্যবস্থাপনার আওতায় ১০০ ফুট পর্যন্ত থাকে এবং এই ব্রিজটি ১৬০ফুট হওয়ায় বর্তমান এলজিইডির আওতাধীন আছে। ব্রিজটি দ্রæত সংস্কার হবে বলে জানান। নড়বড়ে এই ব্রিজটি অতি সত্ত¡র পাকা ব্রিজে পরিণত করতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকা বাসী।

Leave a Reply