নবজাতককে সাথে নিয়ে অনার্স পরীক্ষা দিচ্ছে পিংকী
ডেস্ক রিপোর্ট: মানুষের কত স্বপ্ন থাকে কত কিছু হওয়ার পিংকী’র স্বপ্ন লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ হওয়ার। ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন লেখাপড়া শিখে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। তার জন্য আশুরা আক্তার পিংকী’র রয়েছে সে কী নিরন্তর প্রচেষ্টা। জেলার দেবহাটা উপজেলার সখিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনাকালীন শিক্ষকদের অনেক ¯েœহের ছিল পিংকী। স্কুল জীবন থেকেই নিয়ম মেনে লেখাপড়া করেছে সে। সখিপুরের কাজীমহল্লা গ্রামের শেখ রাজু আহমেদের ২সন্তানের মধ্যে বড় সে। পরিবারের যতটা না চেষ্টা তার থেকে বেশি চেষ্টা ছিল তার নিজের। বিয়ে হয়েছে পাশের কোঁড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামের ছোটছেলে ফার্মাসি বিভাগের ছাত্র মাহমুদুল হাসান সুজনের সাথে। বিয়ের আগে থেকেই তাদের মধ্যে ভাল জানাশুনা ছিল। বিয়ের আগে পিংকী সুজনকে জানিয়েছিল সে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চায়। তাতে উৎসাহও দেয় সুজন। সুজনের বাবা সাবেক মেম্বর নজরুল এবং মা লাইলিমা খাতুনও পিংকীকে উৎসাহ দিয়েছে। দিয়েছে সহায়তা। বিয়ের পর তাদের সন্তান হয়েছে কিন্তু লেখাপড়ায় কমতি দেয়নি সে। পিংকী জানায়, তার স্বপ্ন পূরণে সবাই তার পাশে দাঁড়িয়েছে। শ্বশুর বাড়ি থেকে শ্বশুর শাশুড়ি ও স্বামী প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে গভীর আন্তরিকতায়। তা নাহলে এই পথ পাড়ি দেয়া কঠিন হয়ে যেত তার। সবার যে অশেষ সহযোগিতা ইচ্ছে আছে জীবনে সফল হয়ে তার যথাযথ প্রতিউত্তর সে দেখাবে। ইচ্ছা আছে লেখাপড়া শিখে বিসিএসে’র জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবে। সংসারের শত কাজের মাঝেও শশুর তার লেখাপড়া খোঁজ নিয়েছেন নিয়ম করে।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের কম্পিউটার অপারেটর শেখ আবু সালেক চাঁদ (কালাচান কবি) জানায়, আশুরা আক্তার পিংকী পড়াশোনার প্রতি যে অদম্য আগ্রহ তাতে কলেজের সবার কাছে অনেকটা বিস্ময়ের। পিংকী বাংলায় অনার্স করছে। সে ২য় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছে। আগে ৫টা হয়ে গেছে, বুধবার ৬নম্বর পরীক্ষা দিচ্ছে। বাকি আছে আর একটা। গত ৩০ নভেম্বর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ডা: মাহফুজা আক্তার ও ডা: সাইফুল্লাহ আল কাফি’র তত্ত¡াবধারণে কন্যা সন্তান হয়েছে। সন্তান ও সন্তানের মা পিংকী দু’জনেই সুস্থ আছে। বুধবার বেলা ১টা থেকে ছিল রাজনৈতিক সংগঠন বিষয়ে পরীক্ষা। সন্তানকে টেবিলের উপর রেখে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা দিয়েছে পিংকী। কলেজের অনার্স পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির আহŸায়ক অধ্যাপক কাজী আসাদুল ইসলাম পিংকী’র পড়ালেখার এই অদম্য চেষ্টায় প্রশংসা করেন। সন্তান সাথে নিয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিতে আসায় তাকে উৎসাহ দেন তিনি। পিংকীর কন্যা সন্তানকেও জানান ¯েœহাশীষ। সন্তান হওয়ার সময় হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়ার পথে পিংকী পরীক্ষা দিতে পারবে কি না তা জানার জন্য বারবার ব্যাকুল হচ্ছিল স্বামী মাহমুদুল হাসান সুজনের কাছে। তার এই আগ্রহ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন ডা: সাইফুল্লাহ আল কাফি ও মাহফুজা আক্তার। চিকিৎসক দ্বয় বলেন, পিংকী মেয়েদের শিক্ষা সংগ্রামের একজন সংগ্রামী। তাকে অনুস্মরণ করতে পারে এখনকার যে কোন নারী শিক্ষার্থী।

Leave a Reply