দেবহাটায় বুলবুলে বসতবাড়ির পাশাপাশি ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
দেবহাটা প্রতিনিধি: মাঠ জুড়ে রয়েছে সোনালী ফসল পাকা ধান। আর কয়েকদিন গেলেই এই আমন ধানে গোলা ভরবেন কৃষক। ফুটবে তাদের মুখে হাঁসি। কতই না আশা ছিল কৃষকদের। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাব এক নিমিষেই সেই স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে তাদের। জমির ধান পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ায় তাদের মুখে এখন হতাশার ছাপ। ধান নষ্ট হবার আশঙ্কায় সোনালী স্বপ্ন এখন ফিকে হতে চলেছে তাদের। রোববার (১০ নভেম্বর) সকাল থেকে উপজেলার কুলিয়া, পারুলিয়া, সখিপুর, নওয়াপাড়া, দেবহাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাঘুরে এসব চিত্র চোখে পড়েছে। ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুল’র প্রভাবে দেবহাটায় কাঁচা ও আধা-পাকা ঘরবাড়ি ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি নষ্ট হয়ে গেছে শত শত বিঘা জমির ফসল। ঝড়ের দাপটে গাছ ও ডালপালা ভেঙে পড়ে বিদ্যুতের তাঁর ছিঁড়ে বন্ধ হয়ে গেছে সংযোগ। বৃষ্টিপাত ও প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে শীতকালীন ফসলের। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোনের সংযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ইন্টারনেট লাইনও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কৃষকের কাচা-পাকা ধান নুয়ে পড়ে উৎপাদিত ফসল মাঠে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষকের মাথায় হাত উঠেছে। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি বৃদ্ধি হওয়ায় ভেসে গেছে শীতকালীন ফসলের ক্ষেত ও মৎস্য ঘের। শুক্রবার থেকে প্রশাসনের সতর্কতায় উপজেলার ১৫টি সাইক্লোন শেল্টার ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেয় কয়েক হাজার মানুষ। এসব মানুষের সর্বদা খবর নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বদিউজ্জামান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গণি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া আফরীন, দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার সাহা, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতন, জেলা পরিষদের সদস্য আল ফেরদৌস আলফা, ভাইস চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সবুজ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জিএম স্পর্শ সহ স্ব স্ব ইউপি চেয়ারম্যান ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা। ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিউল বশার জানিয়েছেন, দেবহাটায় ১হাজার ৪শ’ ৩০টি ঘরবাড়ি আংশিক ও ৮শ’ ৮০ টি ঘরবাড়ি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে ইতোমধ্যে সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১০ হাজার শিশুখাদ্য, ১০ হাজার গবাদি পশুর খাদ্য, ১৫ মেট্রিক টন জিআর চাউল ও সর্বমোট ৮০ হাজার টাকা নগদ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি। উপজেলা কৃষি অফিসার শরীফ মোহম্মদ তিতু মীর জানান, এ বছর উপজেলার ৫হাজার ৩শ’ ১০ হেক্টর জমিতে রবি শস্য আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে আনুমানিক প্রায় ৫শ’ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি ৪০ হেক্টর শীতকালীন সবজি ও ৫ হেক্টর সরিষার আবাদ নষ্ট হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছেন তারা।

Leave a Reply