পতাকা বৈঠকে সিদ্ধান্ত, যার যার সীমানায় প্রতিমা বিসর্জন : ইছামতি নদীতে এবারও ভাসবে না দু’দেশের মিলন মেলার তরী
মীর খায়ারুল আলম/এমএ মামুন: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ-ভারত দু’দেশের মধ্যে বিজয়া দশমীর বিসর্জন মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু নানান জটিলতায় বিগত কয়েক বছর দু’দেশের মিলন মেলা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী (বিএসএফ) এবং উভয় দেশের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ভারতের টাকি পৌরসভা এলাকায় এ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-ভারত দু’দেশের সীমানা জুড়ে বয়ে চলেছে ইছামতি নদী। আর এই নদীকে ঘিরে এক সময় গড়ে উঠেছিল সভ্যতা। গড়ে উঠেছিল জমিদারি আমল। দেশ ভাগের পরেও দু’দেশের সম্পর্ক সর্বদা অটুট ছিল। এমনকি বর্তমানে তা বিরাজমান। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী প্রতিমা বিসর্জন স্থল দেবহাটার ইছামতি নদী। দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শারদীয় দুর্গা পূজা। এই বিসর্জন কে ঘিরে অনুষ্ঠিত হয় মিলন মেলা।

প্রতি বছরের এ দিনে ইছামতি নদীর তীরে আন্তর্জাতিক সীমারেখাসহ দ্বিধা-দ্ব›দ্ব ভুলে মিলন মেলায় মিলিত হয় প্রতিবেশী দু’দেশের হাজার হাজার মানুষ। আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে যাতে করে উভয় দেশের মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে পারাপারসহ জঙ্গি সদস্যরা, সন্ত্রাসী, পলাতক আসামি, দুষ্কৃতিকারীরা অবৈধভাবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে না যেতে পারে সেজন্য কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। তারই প্রেক্ষিতে দু’দেশের জাতীয় ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠিন সিদ্ধান্তে এবারও বন্ধ হল ঐতিহ্যবাহী এই মিলন মেলা। দুই বাংলার মিলন মেলার তরী না ভাসলেও নিজ নিজ সীমারেখায় ভাসবে আনন্দের ভেলা। পতাকা বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে দু’দেশের কর্মকর্তারা। পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে দেবহাটা ইউএনও’র প্রতিনিধি উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার বদরুজ্জামান, দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার সাহা, ওসি (তদন্ত) উজ্বল মৈত্র, টাউনশ্রীপুর কোম্পানি কমান্ডার মোত্তালিব হোসেন, ভারতের টাকি পৌর সভার মেয়র সোমনাথ মুখার্জী, হাসনাবাদ বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ডার বিনোদ সিং, দেবহাটা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মাহাবুবুর রহমান বাবলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইছামতি নদী বাংলাদেশ ও ভারতের শারদীয় দুর্গাপূজার বিসর্জনস্থল হওয়ায় উভয় দেশের শান্তি বজায় রাখতে বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়।

Leave a Reply