আশাশুনি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান
আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে তাকে অপসারণের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মত ক্লাস বর্জন চলার পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে শিক্ষা সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২২ জুলাই) বেলা ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজার কার্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে তার হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন ছাত্রনেতা শামিম আহমেদ।
এ সময় ছাত্র নেতা আশরাফুজ্জামান তাজের সভাপতিত্বে ও তানভীর রহমান তাজের উপস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন ছাত্রনেতা সাইমুন ইসলাম তারিক, ইমদাদুল হক মিলন, শাওন, শাহারুল ইসলামসহ শতাধিক শিক্ষার্থী।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান কলেজে যোগদানের পর থেকেই তিনি নানা স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করেন।
২০১৭ সালের জুন ও আগস্ট মাসে দুটি ভুয়া পরীক্ষা দেখিয়ে তিনি ২২ হাজার ৮’শ টাকা সম্মানী বাবদ গ্রহণ করেন।
শিক্ষক জাতীয়করণ ও আত্মীকরণে বাঁধা সৃষ্টি করতে তিনি খুবই সচেতনভাবে মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বড় অঙ্কের টাকা খেয়ে ৩জন শিক্ষকের এমপিও ভুক্ত করান।
একটি আদেশ গোপন করে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে কলেজে যোগদান করার পর থেকে
তিনি কোন বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন না করেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভ্যন্তরীণ ও বহির ক্রীড়ার ফি আদায় করেন।
কলেজের সরকারি রেস্টহাউসে থাকলেও আজ পর্যন্ত তিনি মাত্র ১৫০ টাকা ভাড়া প্রদান করেছেন। গত বছর ১৩ এপ্রিল কলেজের গাছে আম পাড়ার কারণে তিনি শাহারুল নামে এক শিশুকে মারপিট করার কারণে তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
চলতি বছরেও সকল শিক্ষকদের বিষয় প্রতি (ভূগোল, কম্পিউটার শিক্ষা, কৃষি শিক্ষা, মনোবিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত) ৫০-১০০ টাকা করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে পকেটস্ত করেছেন। শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য দাবি আদায় করতে আন্দোলনে নামলে তিনি কলেজে ছাত্রলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার হুমকি ও চক্রান্ত করছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। অনতিবিলম্বে শিক্ষার্থীদের দাবি মানা না হলে আরো বড় আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলন কারি নেতৃবৃন্দ।

Leave a Reply