জবরদখল ও দেশ ছাড়ার হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
আশাশুনি প্রতিনিধি : আশাশুনিতে প্রভাব খাটিয়ে নিঃসন্তান চাচার জমি জবর দখল ও বাপ দাদার ভিটে মাটি থেকে উচ্ছেদ করার পায়তারার হুমকির প্রতিবাদে আশশুনি প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার গোকুলনগর গ্রামের আলীগাজীর ছেলে মফিজুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করে সোমবার (১৫ জুলাই) সকালে সংবাদ সম্মেলন করেন তাদেরই চাচাতো ভাই মৃত বক্স গাজীর ছেলে জয়বাংলা’৭১ লীগের খুলনা জেলার লবনচোরা থানা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক আল-মামুন। লিখিত বক্তব্য ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আশাশুনির গোকুলনগর গ্রামের মফিজুল ইসলাম ওরফে পলাশ মাহমুদ ও তার ভাই বিএনপি নেতা সুন্দরবনের বনদস্যু শরিফুল ইসলামের নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রে জর্জরিত হচ্ছেন তারা। তার চাচাতো ভাই মফিজুলের জন্মস্থান একই গ্রামে হলেও তারা পরবর্তীতে খুলনার কয়রা উপজেলা সদরের বাসিন্দা। বর্তমানে সে ঢাকার আব্দুল্লাহপুরে থাকে। কয়রার কালনা মাদ্রাসা থেকে দাখিল, কপোতাক্ষ কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে মফিজুল। ২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করাকালীন পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ভিসির সঙ্গে বিরোধ বাঁধলে মফিজুলের নেতৃত্বে ছাত্রশিবির সেখানে তান্ডব চালায়। ভিসিকে না পেয়ে তার স্ত্রীকে মারপিট করে মফিজুল। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়েরকৃত মামলায় মফিজকে দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দেয় পুলিশ। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছেড়ে আত্মগোপন করে মফিজুল। রাজনৈতিক পালা বদলের সাথে সাথে জাতীয় পরিচয় পত্রে মফিজুল ইসলাম (নং-১৯৮৮৪৭১৫৩৫৫৭৪৯৮১৩) নাম থাকলেও অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন (নং-১৯৮৮৪৭১৫৩৫৫১০০৬৫৯) তৈরি করে ভোল পাল্টাতে পলাশ মাহমুদ (ভোটার নং-৪৭১৪০১৭৪৯৮১) নাম ধারণ করেছে। তার বিরুদ্ধে লগি বৈঠা আন্দোলনের সময় খুলনা ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ছাত্র শিবিরের পক্ষে তান্ডব চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া কালিগঞ্জ থানায় ১৯৯৫ সালে অস্ত্র মামলা, ১৯৯৮ সালে খুলনা সদর থানায় চাঁদাবাজি ও অপহরণ মামলা, জমি জবর দখল করতে গেলে স্বশস্ত্র হামলা করায় ২০১৭ সালে আশাশুনি থানায় ২০১৭ ও ২০১৯ সালে পৃথক দু’টি হত্যা চেষ্টা মামলা ও ২০০৪ সালে হ্যাচারি ভাংচুর ও লুটপাটের মামলা (১৫/০৪) হয়। একই ভাবে তার (মফিজুল) ভাই ১৯৯০ সাল থেকে প্রতাপনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী শরিফুলের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র বিক্রির অভিযোগ ছাড়াও এলাকার চিংড়ি ঘের দখল, চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। চার চারটি বিবাহের নাটের গুরু শরিফুল ও তার সন্ত্রাসী ভাই মফিজুল প্রভাব খাটিয়ে নিঃসন্তান চাচা কছিমউদ্দিন গাজীর আট বিঘা জমির অর্ধেক দাবিদার হলেও গায়ের জোরে সবটুকু দখলে নিতে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে তারা তাদেরকে (ফারুকদেরকে) রোহিঙ্গাদের মত ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে বাপ দাদার ভিটা থেকে উচ্ছেদ করে দেশ ছাড়া করার হুমকি দিয়েছে। এ ঘটনায় আশাশুনি থানায় (১৫৬৪/১৯ নং) জিডি করা হয়েছে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪১৬/১৯ ও ২৬৩/১৯ নং দু’টি মামলা করা হয়েছে। তবুও মফিজুল ও শরিফুলকে এহেন চক্রান্ত মূলক কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না। তাই অর্ধ ডজন মামলার আসামি নাম পাল্টে পলাশ মাহমুদ সাজা সন্ত্রাসী মফিজুল ও শরিফুলের অত্যাচারের হাত থেকে থেকে রক্ষা পেতে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন ফারুক আল মামুন।

Leave a Reply