ব্যবসায়ী থেকে কৃষক
শেখ শাওন আহমেদ সোহাগ,কালিগঞ্জ: ভোমরা কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও উপজেলার কুশুলিয়া গ্রামের কাজী আব্দুর রহিমের পুত্র কাজী নওশাদ দিলওয়ার রাজু একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। দেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পেশায় একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হলেও এই ব্যক্তি নিজ জমিতে বাঁশ ও কলাগাছ রোপণ করে বর্তমানে একজন সম্ভাবনাময় চাষি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তার দেখাদেখি ওই গ্রামের অনেকেই বাঁশ ও কলাগাছ রোপণে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। সরেজমিন তার বাঁশ ও কলা বাগানে যেয়ে দেখা যায়, লুঙ্গি-গেঞ্জি ও মাথায় গামছা বেঁধে সাধারণ কৃষকের মত নিজ বাগানে গাছের পরিচর্যা করছেন এই ব্যবসায়ী। এসময় বাঁশ ও কলাবাগান সম্পর্কে তিনি ‘সুপ্রভাত সাতক্ষীরা’ প্রতিনিধিকে জানান, অনুমান ২ বছর আগে তিনি নিজ জমিতে শখের বশে বাঁশের কোঁড় ও কলার তেড় রোপণ করেন। রোপণের এক বছরের মধ্যে বাঁশের কাড় গুলো বড় হতে শুরু করে আর কলার তেড় থেকে গাছ বড় হয়ে ফল ধরতে শুরু হয়। এরপর তিনি কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে ৩ বিঘা জমিতে ভেলকো বাঁশের কোঁড় (বাঁশ গাছ) এবং ১ বিঘা জমিতে কলা গাছের তেড় (কলা গাছ) রোপণ করেন। বর্তমানে তার দেখাদেখি এই গ্রামের অনেকেই বাঁশ ও কলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। প্রথমে তিনি আত্মতৃপ্তির জন্য এই চাষ করলেও বর্তমানে এটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এই চাষে ব্যাপক লাভবান হতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন। কীভাবে রোপণ ও পরিচর্যা করেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি চৈত্র মাসে গ্রাম থেকে বাঁশের কোঁড় সংগ্রহ করে ৩ বিঘা জমিতে ১০ হাত পরপর রোপণ করি। প্রতিটি কোঁড় অনুমান ৪/৫ হাত লম্বা। রোপণের পর প্রায় ১ মাসের মত দিনে দু’বার করে সেচ দিতে থাকি। বর্তমানে আর সেচ দেওয়া লাগছেনা। সবকিছু ঠিক থাকলে ২/৩ বছর পর আমার রোপণ করা বাঁশ প্রতি পিচ ৩০০/৪০০ টাকা হারে বিক্রয় হবে। যা থেকে আমার কয়েক লক্ষ টাকা আয় হবে বলে আশা করছি। এছাড়া বৈশাখ মাসে ১ বিঘা জমিতে শৌরি, সাগর ও কাঁচকলার তেড় (কলা গাছ) রোপণ করি। পাশ্ববর্তী চৌমুহনি বাজার থেকে ৩০ টাকা হারে প্রায় ২০০ পিচ কলার তেড় ক্রয় করে ৫ হাত পর-পর রোপণ করেছি। রোপণের পর ১ মাস প্রতিদিন দু’বার করে সেচ দিয়ে থাকি। বর্তমানে আমার প্রতিটি গাছ সুস্থ সবল হয়ে উঠেছে। এক বছরের মধ্যে গাছে ফল আসবে বলে আশা করছি। আমি কলা গাছের মধ্যে ফাঁকা স্থানে মৌসুমি শাকসবজির চাষ করছি। এতে আমার পরিবারে সবজির চাহিদা পূরণ হচ্ছে। বাঁশ ও কলা গাছ রোপণের ব্যাপারে কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ ফজলুল হক মনি’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাঁশ ও কলা চাষ দুটোই লাভজনক। এই চাষে ব্যাপক লাভবান হওয়া যায়। রোপণের সময় শুধুমাত্র একবার বাঁশের কোঁড় ও কলার তেড় রোপণ করতে হয়। পরবর্তীতে কোঁড় এবং তেড় থেকে একের পর এক গাছ জন্ম নেয়। বর্তমানে মানুষ এই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply