তালায় সরকারি রাস্তা ডিসিআর দেয়ার অভিযোগ
ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সুজনশাহ এলাকায় সরকারি রেকর্র্ডীয় রাস্তা ব্যক্তি মালিকানায় ডিসিআর দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। উৎকোচের বিনিময়ে ১৬ শতক সরকারি রেকর্র্ডীয় রাস্তা তিনি ব্যক্তি মালিকানায় বন্দোবস্ত দিয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরকারি রাস্তাটি এক বছর মেয়াদি একসনা বন্দোবস্ত পেয়েছেন সুজনশাহ গ্রামের কওসার আলী শেখের ছেলে হাফিজুর রহমান। এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে পার্শ্ববর্তী জমির মালিকদের পক্ষে একই গ্রামের মৃত. কেয়ামুদ্দীন শেখের ছেলে শেখ আব্দুর রাজ্জাক ডিসিআর বাতিলের দাবিতে জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ করেন। তবে অভিযোগ করে ভোগান্তি বেড়েছে কোন সুফল মেলেনি এখনো। সুজনশাহ গ্রামের শেখ আব্দুর রাজ্জাক জানান, সুজনশাহ মৌজার ১ নং খতিয়ানের ৭৬৬ নম্বর দাগের ১৬ শতক জমি। যা সরকারি রেকর্র্ডীয় রাস্তা। ম্যাপেও রয়েছে। তবে জনগণের ওই চলাচলের রাস্তাটি এসিল্যান্ড ব্যক্তি মালিকানায় এক বছর মেয়াদি একসনা বন্দোবস্ত দিয়েছেন। গত ১৪ মে তিনি ডিসিআর প্রদান করে। ডিসিআর নম্বর ৩৯। এক বছর মেয়াদি একসনা বন্দোবস্ত। তিনি বলেন, সরকারি রাস্তাটির দেওয়া বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য এসিল্যান্ডের কাছে গেলে তিনি বলেন, চাচা ডিসিআরটি দেওয়া ভুল হয়ে গেছে। তবে এক বার যখন দিয়েছি তখন এক বছর তার কাছে থাকুক। পরের বছর আপনাকে ডিসিআর দিবো। তখন আমি জানিয়েছে, আমার ডিসিআর দেওয়ার প্রয়োজন নেই। জনগণের রাস্তা জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। তিনি আরও জানান, এরপর ঘটনাটি নিয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ জানানো হয়। জেলা প্রশাসক এসিল্যান্ডকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা লিখিতভাবে জানান। তবে সেটিরও কোন প্রতিবেদন এখনও দেননি এই ভূমি কর্মকর্তা। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সরকারি রাস্তা ডিসিআর দিয়েছেন তিনি। বন্দোবস্ত নেওয়া হাফিজুর রহমান বলেন, সেখানে কোন সরকারি রাস্তা ছিল না। আমি নিয়ম মাফিক বন্দোবস্ত নিয়েছি। আর টাকার বিনিময়ে ডিসিআর নিয়েছি একথা সত্য নয়। এ বিষয়ে তালার ইসলামকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুভাষ সেন বলেন, এসিল্যাÐের দেওয়া বন্দোবস্তটি সরকারি রেকর্ডীয় রাস্তা। রাস্তাটি সংস্কারের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে এরই মধ্যে এসিল্যান্ড বন্দোবস্ত দেওয়ায় রাস্তাটি সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে বন্দোবস্তটি বাতিলের জন্য এসিল্যান্ড সাহেবকে বলা হয়েছে। এদিকে, ঘটনার বিষয়ে জানতে একাধিকবার তালার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিমেষ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনকল রিসিভ করেননি। তবে কয়েকদিন আগে অনিমেষ বিশ্বাস জানিয়েছিলেন, ঘটনাস্থলে সরেজমিন তদন্তে যাবেন। এরপর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তবে ঘটনার বিষয়ে জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তাফা কামাল বলেন, তালার এসিল্যান্ড অনিমেষ বদলি হয়ে গেছেন। পরবর্তীতে যিনি এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদান করবেন তার মাধ্যমে বিষয়টি আমি দেখবো।

Leave a Reply