শ্যামনগরে এক মেম্বরের বিরুদ্ধে ত্রাণের চাল আত্মসাতের অভিযোগ
ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর একাধিক নাশকতা মামলার আসামি আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে ত্রাণের চাল আত্মসাৎ, বিদ্যুৎ সংযোগের নামে এলাকাবাসীর নিকট থেকে চাঁদা আদায়সহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদসহ একটি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হিসাবে বেতন ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছেন। ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর হিসাবে অন্য কোন প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন ভাতা উত্তলোন করতে পারেন কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে এলাকাবাসী। এসব সুনির্দিষ্ট একাধিক অভিযোগে তদন্তপূর্বক দ্রæত তার বিচারের দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুদক বরাবরসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
গত ২ জুলাই গাবুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিল্লাল হোসেনসহ শতাধিক গ্রামবাসীর স্বাক্ষরিত এ অভিযোগ প্রেরণ করেছেন। ওই অভিযোগপত্রে গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম মাছুদুল আলমেরও সুপারিশ রয়েছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য ও পূর্ব চাঁদনীমুখা গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে আব্দুর রহিম। গাবুরা পিজে আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হিসাবে দায়িত্বে রয়েছেন।
২০১৩ সালের তার বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় একাধিক নাশকতার মামলা রয়েছে। ইউপি সদস্য হিসাবে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মাসিক ভাতা এবং একই সাথে স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষক হিসাবে প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর করে বেতন ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছেন আব্দুর রহিম।
২০১৭ সালে গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান আলী আযম টিটুর আকস্মিক মৃত্যুতে আব্দুর রহিম ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। সে সময় গাবুরার খলিসা বুনিয়া ও চৌদ্দরশী বাজারের উপর দিয়ে প্রবাহিত টর্নেডো ঝড়ে এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হলে জেলা প্রশাসক ১ হাজার মেট্রিক টন জিআর চাল বরাদ্দ দেন। যার ডিও নং ৫৪২৭১৪৮। ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর জেলা ত্রাণ শাখা ৫১.০১.৮৭.০০.০০০.২০.০০৪.১৭.৫৪৪ নম্বর স্মারক ও ২৫ অক্টোবর ত্রাণকার্যালয় শাখার ৫১.০১.৮৭৮৬.০০০.২৯.০২৯.১৭.৪১০ নম্বর স্মারকে গাবুরা ইউ.পি চেয়ারম্যানের অনুক‚লে বরাদ্দ জারি করা হয়। ওই চাল ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ না করে তা আত্মসাৎ করেন।
এছাড়া চকবারা ক্লোজার ভেঙে প্লাবিত না হওয়া সত্বেও মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে নদীর বাঁধ মেরামতের নামে ৩ মেট্রিকটন জিআর চাল জেলা প্রশাসকের ত্রাণ শাখা থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করলে প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে পরিষদের ৯ জন ইউপি সদস্য শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পাননি। এছাড়া এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের কথা বলে এলাকাবাসীর নিকট থেকে পাচ শত করে চাঁদা আদায় করেছেন বলে অভিযোগও রয়েছে ইউপি সদস্য আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে।
এছাড়া কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির আওতায় ইজিপিপি প্রকল্পে সর্ব মোট ৩৮১ জনের নামের তালিকা প্রস্তুত করে ওই প্রকল্পে ২৬০ জনকে কাজ দেওয়া হয়। বাকি ১২১ জনের নামে মোটা অংকের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে আব্দুর রহিমের বিরুদ্বে।

Leave a Reply