বিষমুক্ত আঁশফলের চাহিদা বাড়ছে
ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরা শহরের মোড়ে মোড়ে চলছে আঁশফল বিক্রির ধুম। বিক্রেতারা কেউবা ভ্যানে করে আবার কেউবা বসেন ঝুড়িতে নিয়ে। আবার কেউবা ঝুলিয়ে রেখেছেন আড়ায়। সাইজ অনুযায়ী ১৫-২০ টাকা কুড়ি দরে বিক্রি হচ্ছে আশফল। শহরে চলার পথে এই আঁশফল নিয়ে বাড়ি ফিরছেন অনেকে। ক্রেতারা সার্বক্ষণিক ভিড় জমাচ্ছে আঁশফলের দোকানগুলোতে। আর আঁশফল বিক্রি করে ব্যস্ত সময় পার করছেন শহরের অধিকাংশ আঁশফল ব্যবসায়ী। শহরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, সতক্ষীরা পুলিশ লাইন স্কুল সহ শহরের প্রায় সকল স্কুলের সামনে ও শহরের পোস্ট অফিস মোড়, পাকাপোল মোড়, নিউমার্কেট মোড়, বড়বাজারের মোড়, হাটের মোড়, নারকেলতলা মোড়, খুলনা রোড মোড়সহ বিভিন্ন মার্কেটের সামনে বিক্রেতারা আঁশফল নিয়ে বসেন। কেউবা সাজিয়ে রাখেন ঝুড়িতে আবার কেউবা বিক্রি করছেন ভ্যানে করে। আর ক্রেতারা সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন এফল কেনার জন্য। শিশু কিশোররাই মূলত এর ভোক্তা। গড়ে ১০-২০ টাকা কুড়ি দরে বিক্রি হচ্ছে সুস্বাদু ও রসালো মৌসুমী ফল আঁশফল। খেতে অনেকটা লিচুর মত লাগলেও দেখতে লিচুর চেয়ে অনেক ছোট ও ধূসর রঙের। আর খোসা ছাড়াতেই রসালো মিষ্টি শাস, ভাবতেই জিভে জল এসে যায়। এখন যে হারে আমাদের চোখের অজান্তে বিদেশি ফলে ফরমালিন দেয়া হচ্ছে সে তুলনায় আমাদের দেশি এই ফল পুষ্টি গুণে ও স্বাদে অসাধারণ। আর এই ফলে ফরমালিন দেয়া লাগে না। কারণ এই ফল গাছ থেকে পাড়ার পরও অনেক দিন তাজা থাকে আর দামও অনেক কম। শহরে চলার পথে বা মার্কেটে শপিং করতে এসে আঁশফল কিনে বাড়ি ফিরছেন অনেকেই। শিশুরাও আঁশফল দেখে বাবা-মাকে বলছে এটি কেনার জন্য। বাবা-মাও শিশুদেরকে আঁশফল কিনে দিয়ে তাদের আবদার পূরণ করছে।
এই বিষয়ে জানতে, শহরের পাঁকা পোলের মোড়ে আঁশফল বিক্রেতা আক্তারুল ইসলাম জানান তারা গাছ কিনে রেখেছেন শহরের বিভিন্ন অংশে। এছাড়া গ্রাম থেকেও অনেকে কিনে নিয়ে শহরে বিক্রি করে। অনেক ব্যবসায়ী আবার গ্রামে গাছ কিনে রেখেছেন এই ব্যবসা করার জন্য। এর চাহিদাও বেশ ভাল। গাছের ফলন ভেদে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায় এক একটা গাছ কিনেছেন তারা। অনেকের মধ্যে নতুন করে এ গাছ লাগানোর প্রবণতাও বেড়েছে। রইচপুর এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন এক সময় এই গাছের ফল বিক্রিতো দূরের কথা কেউ খেত না, আর এখন তা গাছে হওয়ার আগে গাছ বিক্রি হয়ে যায়। পোস্ট অফিস মোড়ে আঁশফল কিনতে আসা শহরের রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ টাকায় কুড়ি দরে চার কুড়ি কিনেছি। এটি রসালো ও সুস্বাদু একটি ফল। ছোট-বড় সকলের ফলটি খেতে খুবই পছন্দ করে। তাছাড়া দামও কম স্বাদও ভালো তাই দেশি বিষমুক্ত ফল কিনেছি পরিবারের জন্য।’

Leave a Reply