ঢাকাThursday , 20 June 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

পৌর এলাকায় প্রি-পেইড মিটারে ভোগান্তি: মিটার প্রতি মাসিক ভাড়া ৪০ টাকা, ডিমান্ড চার্জ ৫০ টাকা

admin ঢাকা
আপডেট: 20 June 2019, 00:00

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরায় প্রি পেইড মিটারের নামে গ্রাহকের সাথে চলছে প্রতারণা। প্রিপেইড মিটার ছাড়াও ওজোপাডিকো বিরুদ্ধে রয়েছে অনিয়ম দুর্নীতি ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ। সাতক্ষীরায় ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) কতৃক লাগানো ফ্রি প্রি-পেইড মিটারে এখন মাসিক ভাড়া গুনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। শুরুতে এ মিটার স্থাপনে গ্রাহকদের আগ্রহ সৃষ্টি করতে পুরনো মিটার অপসারণ করে নতুন মিটার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় লাগিয়ে দেয় ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ। এখন প্রতি মাসে মিটারের কার্ড রিচার্জ করার সময় কেটে নেয়া হচ্ছে ভাড়া হিসেবে ৪০ টাকা আর থ্রি ফেইজ মিটারের ভাড়ার পরিমাণ ২৫০ টাকা। অন্যদিকে, প্রতি মাসে ৫০ টাকা ডিমান্ড চার্জও বাধ্যতামূলক দিতে হচ্ছে। তবে কত দিন এই টাকা কাটা হবে তার কোন উত্তর নেই সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ বিভাগের কোন কর্মকর্তার কাছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলেন, আমাদের টাকায় কেনা ডিজিটাল মিটারটি বিদ্যুৎ বিভাগ খুলে দিয়েছে, আর ফ্রি মিটার দিচ্ছে বলে প্রি-পেইড মিটার লাগিয়ে দিয়েছে। তবে, এখন ভাড়া দিতে হবে কেন? বিদ্যুৎ অফিসে কোন শৃংখলা নেই, টাকা ছাড়া সেখানে কোন কাজ হয় না বলেও অনেকে অভিযোগ করেন। শহরের ইটাগাছা এলাকার বাসিন্দা আজিজ সরদার জানান, পুরানো ডিজিটাল মিটার খুলে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের সময় কোনও মূল্য নেয়নি তবে বকশিস হিসেবে দিয়ে হয় ৫শ’ টাকা। এখন প্রতি মাসে রিচার্জের সময় মিটারের ভাড়া কেটে নেওয়া হচ্ছে। ডিমান্ড চার্জ নেওয়া হচ্ছে। অনিয়ম ও হয়রানি থেকে গ্রাহকদের রেহাই দিতেই চালু করা হয় বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার। কিন্তু সেই প্রি-পেইড মিটার এখন আমাদের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন চার্জের নামে আমাদের কাছ থেকে কেটে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এ ছাড়া প্রি-পেইড মিটারের সার্ভার ত্রুটির কারণে টাকা রিচার্জ করতে গিয়ে প্রায়ই হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার বাসিন্দা বিমল ঘোষ বলেন, ‘এক হাজার টাকা রিচার্জ করলে শুরুতেই ২০০ টাকা কেটে নিচ্ছে। আগের তুলনায় বিল বেশি আসছে। ডিজিটাল মিটারে মাসে বিল আসতো ১২শ থেকে ১৪শ টাকা কিন্তু এখন আগের থেকে কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এ মাসে প্রি-পেইড মিটারে ১৮শ টাকা রিচার্জ করেছিলাম তা ১৭ তারিখের মধ্যেই শেষ হয়ে গেছে আবার ৫শ টাকা রিচার্জ করেছি।

শহরের পলাশপোল এলাকার বাসিন্দা বাবুল আক্তার জানান, এই মিটারে কোন সুবিধা তো পাচ্ছিই উল্টো টাকা যেন হওয়া হয়ে যাচ্ছে। মোবাইলের মত কেউ ব্যালেন্স ট্রান্সফার করছে কিনা সন্দেহ হচ্ছে।

শহরের সুলতানপুর এলাকার শাহিন ইসলাম জানান, মিটার রিচার্জ করতে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়েছিলাম। আমাকে ১২০ ডিজিটের একটি ¯িøপ ধরিয়ে দিয়ে বলা হয় এই ডিজিটগুলো মিটারে তুলতে করতে হবে। ভুল হয়ে গেলে পুনরায় তুলতে হবে। বাড়ি এসে কয়েকবার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হই। এ বিষয়ে পূণরায় বিদ্যুৎ অফিসে গিয়েও সমাধান পাইনি। রিচার্জের বিষয়ে কেউ কথা বলতে চাইনা। সেখানে কোন কর্মকর্তা, উপ সহকারী প্রকৌশলীও দায়িত্ব নিচ্ছে না। অন্য একজনকে কিছু টাকা দিয়ে বাড়িতে ডেকে এনে মিটারে টাকা রিচার্জ করা হয়েছে।

প্রিপেইড মিটারে গ্রাহকদের হয়রানির আর একটি বিষয় মিটার লকিং ও লক ওপেনিং পদ্ধতি। নতুন ধরণের পদ্ধতিতে কোন ধরনের ট্রেনিং ছাড়া প্রি-পেইড মিটার চালাতে গিয়ে গ্রাহকদের মিটার অনিচ্ছাকৃত ভাবে লক হয়ে যাচ্ছে, যা খুলতে দ্বারস্থ হতে হয় বিদ্যুৎ অফিসে এবং সাথে দিতে হয় অর্থদÐ। প্রতিবারে ১২’শ টাকার মাসুল গুনে খুলতে হয় লক। যদি কোন কারণে ছুটির দিন লক হয়ে যায়, তবে গ্রাহককে বিদ্যুৎ বিহীন থাকতে হয়। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহারের পূর্বে বিল পরিশোধ করার কারণে গ্রাহকদের ১% রিবেট দেওয়ার কথা থাকলেও তার কোন অস্তিত্ব নেই বরং আছে গ্রাহকদের আর্থিক দন্ড, হয়রানি।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পিডিবি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, অনিয়ম ও হয়রানি থেকে গ্রাহকদের রেহাই দিতেই চালু করা হয় বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার। পদ্ধতি নতুন হওয়ায় গ্রাহকদের কিছু ভোগান্তি হতে পারে। তবে আমরা গ্রাহকদের সকল ধরণের সহযোগিতা করছি। সাতক্ষীরা পিডিবির আওতায় প্রায় ২৫ হাজার গ্রাহক আছে। বর্তমান গ্রাহকসহ নতুন গ্রাহকদেরও প্রি পেইড মিটার স্থাপন করা হবে। তবে এ পর্যন্ত প্রায় ২৪ হাজার প্রি-পেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *