কালিগঞ্জের বহুলালোচিত শিক্ষক শহিদুলের বিরুদ্ধে এবার ইউএনওর তদন্ত
শেখ শাওন আহমেদ সোহাগ, কালিগঞ্জ: কালিগঞ্জে বিভিন্ন স্কুলে একাধিকবার ছাত্রী যৌন হয়ারানির সাথে জড়িত বহুলালোচিত শিক্ষক পূর্বনলতা গ্রামের মৃত ইমান আলীর ছেলে শহিদুল ইসলামের (৩৯) বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্ত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন। বুধবার (১৯ জুন) সকালে তিনি সন্ন্যাসীর চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত সম্পন্ন করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আমার উপর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। সে অনুযায়ী আমি বুধবার স্কুলে গিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, তার পরিবারের সদস্য, স্থানীয় অভিভাবক, এসএমসির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলেছি। তিনি আরও বলেন, শিক্ষক শহিদুলের বিরুদ্ধে অভিযোগে সত্যতা পেয়েছি। তদন্ত রিপোর্ট জেলা প্রশাসক বরাবর দ্রæত প্রেরণ করবো। তিনি পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
প্রসঙ্গত: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্কুলে চাকরি করার সময় শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ গত ২৮ মার্চ উপজেলার সন্ন্যাসীর চক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ ওঠে বহুলালোচিত শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। নিগৃহীত শিক্ষার্থীর অভিভাবকসহ আরও কয়েক অভিভাবক মৌখিক অভিযোগ দেন প্রধান শিক্ষক শিবানী সরকার, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুছা করিম ও ওই ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। যৌন হয়রানিকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানিয়ে স্কুল প্রাঙ্গনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ সমাবেশ মানববন্ধন করেন।
সমাবেশে বক্তারা জানান, লম্পট শহিদুল ইসলাম এর আগেও মৌতলা, নলতা, শুইলপুর, সেন্ট্রাল সেহারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করার সময় শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানী করেন। এজন্য ওই সব স্কুল থেকে তাকে বিতাড়িত করা হয়। সর্বশেষ সন্নাসীর চক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই কাজ করেছেন। তার মতো ব্যক্তির শিক্ষকতা পেশায় রাখা মোটেও উচিত নয়। তার কারণে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ কালিগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কোন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করে উল্টো তাকে বারবার একই অপকর্ম করার সুযোগ করে দিচ্ছে, যা অত্যন্ত দু:খজনক ও নিন্দনীয়।
এদিকে ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়ায় ভুক্তভোগী স্কুল ছাত্রীর মা উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে ৩ জন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তারা সরেজমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীদের নিশ্চিত করলেও বরাবরের মতো রক্ষা পেয়ে যায় শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। অবশেষে নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিভাবক জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে তিনি কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিনকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলে নির্দেশ দেন।

Leave a Reply