দেবহাটা কলেজ অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত ও ‘মিথ্যা’ সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
ডেস্ক রিপোর্ট: দেবহাটা কলেজে সাবেক সভাপতির আত্মসাতকৃত টাকা ফেরৎ না দেওয়ার প্রতিবাদ করায় অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দেবহাটা কলেজের অধ্যক্ষ একেএম আনিসউজ্জামান কালাম। শনিবার বেলা ১১টায় দেবহাটা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠাকাল থেকে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছি। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছরের মতো অধ্যক্ষ থাকাকালীন অনেক সমস্যার সম্মুখিন হওয়ার পরেও কলেজটির সুনাম অক্ষুণœ রাখা ও কলেজটির লেখাপড়ার মান উন্নত করাসহ একাডেমিক উন্নয়নে সদা সর্বদা কাজ করেছি। যার কারণে আজকে কলেজটি একটি সম্মানজনক স্থানে অবস্থান করছে।
স্থানীয় সুধীজন, কলেজের শিক্ষকমন্ডলী ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি সম্মানজনক স্থানে অবস্থান করায় ২০১৫ সালে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় ০৭ (খু-৭৮০) জাতীঃ বিঃ/কঃপঃ/২০৬২৯ নং স্মারকে আলী মোর্তজা মোঃ আনোয়ারুল হককে ৩ বছরের জন্য সভাপতি হিসেবে মনোনীত করে আদেশ প্রদান করে। সেখান থেকে আনোয়ারুল হক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করাকালীন কলেজের পুকুর বিনা লিজে নিজে করা, আম বাগান বিক্রি করে টাকা কলেজ ফান্ডে জমা প্রদান না করে নিজে আত্মসাৎ করা, কলেজে ২ জন শিক্ষক নিয়োগ, কলেজ সরকারিকরণের জন্য টাকা গ্রহণ, কলেজের নতুন ভবন করার সময় ঠিকাদারের নিকট থেকে টাকা গ্রহণ করা, এমনকি নিজের ব্যক্তিগত মোটর সাইকেল রেজিস্ট্রেশন করার নাম করে টাকা গ্রহণসহ বিভিন্ন উৎসবের সময় খরচ বাবদ আনুমানিক ২৫ লক্ষ টাকা নিজে আত্মসাৎ করেছেন। তিনি আরো বলেন, আমি এইসব বিষয়ের প্রতিবাদ করলে সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল হক আমার উপর ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে ২০১৮ সালের ২২ জুন সভাপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় ওঘঝ০২-৪/০০২২৬/২০১৮/০২৫৪/৪০৩৯৪ নং স্মারকে গত ইং ০৯-০৮-২০১৮ তারিখে সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল হকের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃক যথাযথ না হওয়ায় নতুন ৩ জন ডিগ্রিধারী ব্যক্তির নামের প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন। পরে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় ওঘঝ০২-৪/০০২২৬/২০১৮/০২৫৪/৪০৮৭১ নং স্মারকে গত ইং ১৭-০৯-২০১৮ তারিখে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারী করে। সেই আদেশ না মেনে আদেশের বিরুদ্ধে আনোয়ারুল হক মহামান্য হাইকোর্টে রিট করলে মহামান্য হাইকোর্ট সেই আদেশ ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে আদেশ প্রদান করেন। ওই আদেশের ফলে কলেজে কোন সভাপতি না থাকায় জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় ০৭ (খু-৭৮০) জাতীঃ বিঃ/কঃপঃ/কোড-০২৫৪/৪৩৩৬৬ নং স্মারকে জাতীয় বিশ^বিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজ/শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গভর্নিং বডি (সংশোধিত) সংবিধি-২০১৫ এর প্রবিধান ১২ অনুযায়ী গভর্নিং বডির সভাপতির অনুপস্থিতিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বিলে জেলা প্রশাসক স্বাক্ষর করতে পারবেন বলে আদেশ প্রদান করে। আমি অধ্যক্ষ হিসেবে সেই আদেশের বলে জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বিলে স্বাক্ষর করিয়ে নিলে এবং কলেজের আত্মসাৎকৃত অর্থ কলেজ ফান্ডে জমা প্রদান করার কথা বললে সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল হক আমার উপর আক্রোশমূলকভাবে গত ১১ জুন উপজেলা সদরে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা চালান।
আমি এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সুপারিশসহ দেবহাটা থানায় লিখিত অভিযোগ করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আনোয়ারুল হক আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষে কুচক্রীমহলের সহযোগিতায় ১৫ জুন কিছু পত্রিকায় আমার নামে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন। সংবাদে আমার নামে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সঠিক নয়। আমি কোন অনিয়ম করে থাকলে আনোয়ারুল হক যে ৩ বছর সভাপতি হিসেবে ছিলেন তিনি কেন সে সময় আমার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি কেন। তাছাড়া দেবহাটা উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা কালাচাঁদ সিংহ কলেজের সভাপতি থাকাকালীন গত ২৫-০৩-১০ আমার পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দেন এবং কলেজের গর্ভনিং কমিটির গত ১৫-১১-১০ সভায় আমার পক্ষে নির্দোষ প্রমাণ করে রেজুলেশন লিপিবদ্ধ হয়।

Leave a Reply