ঢাকাFriday , 14 June 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব দ্বন্দ্বের নেপথ্যে…

admin ঢাকা
আপডেট: 14 June 2019, 01:06

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব নিয়ে দ্বন্দ্বের প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। এনিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের বিগত দিনগুলোর কর্মকান্ড পর্যালোচনায় জেলাবাসীর অজানা এসব কাহিনী বেরিয়ে এসেছে। সিন্ডিকেট সাংবাদিকতা, পকেট কমিটি, একই চক্র ও গোষ্ঠীর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ক্ষমতা কুক্ষিগত, প্রেসক্লাবকে ব্যবহার করে ক্ষমতার প্রভাব, প্রকৃত সাংবাদিকদের সদস্য পদ বঞ্চিত, গঠনতন্ত্র বিরোধী কার্যক্রম, অপরাজনীতি ও পরিকল্পিতভাবে গঠিত কমিটির মাধ্যমে অর্থের তছরুপ। এসব বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরার কর্মরত সাংবাদিকদের মাঝে ক্ষোভের দানা বাঁধতে থাকে। এরই ধারাবাহিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ৩০ মে’র ঘটনা।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাথে যুক্ত এমন সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত সাতক্ষীরার ২৩ জন কর্মরত সাংবাদিক সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সদস্য পদের জন্য আবেদন করেন গত মাসের ১৬ মে।
তারা হলেন সুপ্রভাত সাতক্ষীরা’র সম্পাদক একেএম আনিছুর রহমান, দেশের অন্যতম ইংরেজি দৈনিক ডেইলি সান এর জেলা প্রতিনিধি আমিনুর রশিদ সুজন, বাংলাদেশ টুডে’র মতিয়ার রহমান মধু, এশিয়ান টিভি’র মনিরুজ্জামান তুহিন, জয়যাত্রা টিভি’র আকাশ ইসলাম, গ্রামের কাগজের এসএম রেজাউল ইসলাম, আজকের সাতক্ষীরার শাহ আলম, বাঙালীর কণ্ঠের জাকির হোসেন মিঠু, একুশের বাণী’র জাহিদুর রহমান, সংযোগ বাংলাদেশ এর আবু সাইদ, দৈনিক সরেজমিন এর গাজী মোক্তার হোসেন, সাপ্তাহিক ইচ্ছেনদী’র সম্পাদক মকসুমুল হাকিম, দৈনিক কালবেলা’র স ম মশিউর রহমান ফিরোজ, দৈনিক নওয়াপাড়ার হাফিজুর রহমান, বঙ্গজননী ও দৈনিক প্রবাহের শহীদুল ইসলাম, শেয়ার বিজ এর ফারুক রহমান, দৈনিক খুলনাঞ্চল এর মনিরুজ্জামান মনি, সাতক্ষীরার প্রথম দৈনিক কাফেলার ডা. এটিএম রফিক উজ্জ্বল, এম রফিক ও এম ঈদুজ্জামান ইদ্রিস, আমাদের কণ্ঠ’র আকতারুজ্জামান, ঢাকা প্রতিদিন ও দ্য পিপলস টাইমস এর খন্দকার আনিছুর রহমান, আসাদুল ইসলাম ও এসএম নাহিদ হোসেন। তাদের আবেদন প্রেসক্লাবের সচিব যথাযথ পক্রিয়ায় গ্রহণও করেন। এসব সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা পেশার সাথে যুক্ত থাকলেও শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকতে আবু আহমেদ-আবুল কালাম গ্রæপের বৈষম্যের শিকার হয়ে প্রেসক্লাবের সদস্য পদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তার মধ্যে স্থানীয় কয়েকটি দৈনিক পত্রিকাও রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সদস্য বঞ্চিত এসব সাংবাদিক সংগঠিত হয়ে প্রেসক্লাবের সদস্য পদের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে আবেদন জমা দিলে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব দখলবাজরা আতংকিত হয়ে পড়েন। প্রেসক্লাবের সদস্যদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয় এসব ব্যক্তিরা সদস্যপদ পেলে ক্ষমতা হাতছাড়া হয়ে যাবে আবু-কালামের। এরপর এরপর ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে আবু-কালাম। তারা শুরু করে তাদের নতুন মিশন ও কুট কৌশল।
প্রেসক্লাবের সদস্য পদের জন্য আবেদন করা ২৩ জন যেনো কোনভাবেই সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে এবং সদস্য বা সহযোগী সদস্য পদ না পেতে পারে তারজন্য তাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে সভা আহবান করে কালামের প্রেসক্রিপসনে ২৩ জনকে সদস্যপদ প্রদান না করে উল্টো কালো তালিকাভ‚ক্ত করা হয়েছে বলে প্রচার দেয় আবু-কালাম চক্র।
এই ঘটনার পর ২৩ জন সাংবাদিককে আবেদন করতে সহযোগিতা ও মদদ দেওয়ার মনগড়া বানোয়াট অভিযোন এনে গত ২৯ মে দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় কোনো প্রকার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিক ও অগঠনতান্ত্রিকভাবে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ইত্তেফাক ও একুশে টিভির জেলা প্রতিনিধি জি.এম মনিরুল ইসলাম মিনি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাছরাঙা টিভি ও আমাদের সময় এর জেলা প্রতিনিধি মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম মনি এবং বৈশাখী টিভির জেলা প্রতিনিধি শামীম পারভেজ এর সদস্য পদ বাতিল করা হয় একই সাথে সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিউ এজ ও সময়ের খবরের জেলা প্রতিনিধি রুহুল কুদ্দুসকে শোকজ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যেটি আজও কোনো সাংবাদিক মেনে নিতে পারেনি।
এঘটনার পর মূলত: প্রেসক্লাবের বিভাজন তৈরি হয়। পরে সাংবাদিকদের দাবির প্রেক্ষিতে একটি আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়। পাঁচ সদস্যের আহবায়ক কমিটি প্রেসক্লাবকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার ও স্বজনপ্রীতি, অর্থ আত্মসাত, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজাকার পরিবারের পুনর্বাসনসহ বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রেসক্লাব নিয়ে নানামুখি ষড়যন্ত্র, স্বার্থ বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে আবু আহমেদ, আবুল কালাম আজাদ, কল্যাণ ব্যানার্জি ও মমতাজ আহমেদ বাপীর সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্য পদ বাতিল করা হয়।
আহবায়ক কমিটি আবেদনকারী সাংবাদিকদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই পূর্বক সদস্য পদ প্রদান করেন। একই সাথে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নিকট অনুরোধও জানান আহবায়ক কমিটি।
আহবায়ক কমিটির সদস্যরা ৩০ মে প্রেসক্লাবে একটি সভা করার জন্য মিলিত হন। এ সময় প্রেসক্লাবের একাংশের অনির্বাচিত (সরাসরি নির্বাচিত নয়) সভাপতি আবু আহম্মেদ ও সাধারণ সম্পাদক মমতাজ আহম্মেদ বাপীর নেতৃত্বে সভা ভন্ডুল করার জন্য বাঁধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ধাক্কাধাক্কি হয়। এতে উভয়পক্ষের ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। এঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে সদর থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়।
প্রেসক্লাব দ্ব›েদ্বর নেপথ্যের মূল কারণ…
২০১০ সাল থেকে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব শ্রমিক নেতা আবু আহমেদ ও ভূমিহীন নেতা  আবুল কালাম কৌশলে দখল করে রেখেছে বলে সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে। দু’বছর আবু আহমেদ ও দু’বছর আবুল কালাম সভাপতি পদ ভাগাভাগি করে নিয়ে প্রেসক্লাব কুক্ষিগত করে রেখেছে। আর এই পদ দখলে রাখতে প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র ভুলুন্ঠিত করে বৈধ কাগজপত্র থাক বা না থাক তাদের পকেটের লোককে সব সময় সদস্য পদ প্রদান করা হয়েছে। আর তাদের সাথে না থাকলে কাগজপত্র সব ঠিক থাকলেও তাদের সদস্যপদ দেয়া হয়না। এমনকি তাদের সাথে না থাকার কারণে দৈনিক কাফেলার সম্পাদকসহ তিনজন, প্রবাহের শহীদুল ইসলাম, দক্ষিণের মশালের (বর্তমান শেয়ার বিজ) ফারুক রহমানসহ আরও কয়েকজনকে সদস্যপদ হারাতে হয়েছে।
সদস্যপদ পেতে হলে তাদের দলে থাকার ওয়াদা না করলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট অভিযোগ এনে সদস্যপদ বাতিল। তাদের নির্দেশ ও কথামত সদস্যপদের আবেদন না করলে তাদেরকে করা হয় কালো তালিকাভ‚ক্ত। এভাবেই চলছে তাদের ‘ভানুমতির খেল’। বর্তমান প্রেসক্লাবে অনেক সদস্য আছে নাম সর্বস্ব পত্রিকা নিয়ে। যার কোন বিতরণ বা বিপণন ব্যবস্থা সাতক্ষীরায় নেই। অনেকে অনলাইন পত্রিকায় কাজ করে সদস্যপদ ধরে রেখেছেন শুধুমাত্র আবু-কালামকে খুশি করে। এভাবেই তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছে।
ওই চক্রটি ভুমি দখল, ঠিকাদারি, চোরাকারবারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, স্ত্রীকে এমপি বানানোর স্বপ্ন, টার্মিনাল দখল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য, প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করাসহ নানাভাবে প্রেসক্লাবকে ব্যবহার করে থাকে। এমনকি অপ্রতিরোধ্য এই চক্র জেলার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণেও কখনও কখনও নগ্ন ভূমিকা রেখে থাকে।
শুধুমাত্র প্রেসক্লাবের নাম ভাঙিয়ে গত কয়েক বছরেন বিপুল পরিমাণ অর্থ বৈভবের মালিক হয়েছেন কেউ কেউ। প্রেসক্লাবকে পুঁজি করে তারা সব সময় নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে থাকে। এনিয়ে সদস্যদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ থাকলেও কেউ সদস্যপদ বাতিলের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত অস্ত্র ব্যবসায়ী, শীর্ষ চোরাকারবারী এক ব্যক্তিকে দিয়ে প্রেসক্লাবের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন, ২০১৮ সালে ১৩ ফেব্রæয়ারি এক পুলিশ কনস্টেবলের পুত্রের খুনের ঘটনায় সাতক্ষীরা থানায় গ্রেফতার হন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সদস্য আমিরুজ্জামান বাবুর পুত্র। এই পুত্রকে ছাড়াতে গভীর রাতে থানায় হাজির হন আবু আহমেদ, আবুল কালামসহ কয়েকজন। কিন্তু সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তার তাদেরকে সকালে আসতে বলায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে সিন্ডিকেট করে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করানো হয়। অপর সদস্য স্ত্রী নির্যাতনকারী রফিকুল ইসলাম শাওনের পক্ষে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেসক্লাবের নগ্ন হস্তক্ষেপ, আশাশুনি এলাকায় নগ্ন যাত্রা চালিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে আটক হওয়া এক সদস্যকে ছাড়িয়ে আনাসহ বেশ কয়েকটি ঘটনায় প্রেসক্লাবের ভাবমূর্তি পুলিশ বিভাগসহ গোটা প্রশাসনের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এমনিভাবে সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবিকে গত ২০ মার্চ একটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে একই চক্র তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। এর আগে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আফম রুহুল হকের বিরুদ্ধেও একটি সম্মানহানীকর সিদ্ধান্ত নেয় প্রেসক্লাব।
এভাবেই তারা দিনের পর দিন প্রেসক্লাব নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছেন। এসব বিষয় নিয়েও সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ বিক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। চলমান বিরোধ তারই বহি:প্রকাশ।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব না পারিবারিক প্রেসক্লাব:
আবুল কালাম আজাদ, তার শাশুড়ি লুৎফুননেছা বেগম, তার স্ত্রী লায়লা পারভীন সেজুতি। কল্যাণ ব্যানার্জী, অরুণ ব্যানার্জী, বরুণ ব্যানার্জী তিন ভাই। আবদুল ওয়াজেদ কচি, তার ছেলে ইউপি সচিব তানজির আহমেদ, ভাতিজা আব্দুস সামাদ, মামাতো ভাই আসাদুজ্জামান মধু। আবু আহমেদ, তার ভাই আশরাফুল আলম খোকন, তার ভগ্নিপতি নজরুল ইসলাম। আশেক এলাহী ও তার মেয়ে মৃত্তিকা এলাহী। জিএম নুর ইসলাম ও তার ছেলে আদম শফিউল্লাহ। মমতাজ আহমেদ বাপী তার আপন খালাতো ভাই আসাদুজ্জামান আসাদসহ বেশ কিছু পরিবারের সদস্যকে সদস্যপদ দেয়া হয়েছে। যেটি নিয়েও অনেকের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সার্বিক বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসন একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রেসক্লাব সংকটের নেপথ্যের কারণ চিহ্নিত করে সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসবেন বলে মনে করেন জেলার সাংবাদিক সমাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *