ঢাকাTuesday , 11 June 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

‘বি নেগেটিভ’ রোগীর শরীরে দেওয়া হলো ‘ও পজেটিভ’ রক্ত!

admin ঢাকা
আপডেট: 11 June 2019, 20:48

খুলনা প্রতিনিধি: খুলনায় পায়ে ব্যথা নিয়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি হওয়া ফাতেমা বেগম নামের পঞ্চাশোর্ধ এক নারীর শরীরে ‘বি নেগেটিভ’ রক্তের পরিবর্তে পুশ করা হয়েছে ‘ও পজেটিভ’ রক্ত। এর পর থেকে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ রোগীর স্বজনরা ওই ক্লিনিকের মালিক ও কথিত ডাক্তার কামরুজ্জামানকে মারধর করে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। সোমবার দুপুরে নগরীর শিপইয়ার্ড রোডস্থ আরাফাত হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। রোগী ফাতেমা বেগম নগরীর লবণচরা পুঁটিমারি এলাকার মোশাররফ হোসেনের স্ত্রী। সোমবারই তাকে ওই ক্লিনিক থেকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের শর্তে ক্লিনিক মালিক ও কথিত ডাক্তার কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি রোগীর পরিবার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পায়ে ব্যথাজনিত সমস্যার কারণে ফাতেমা বেগম ছেলে শেখ সোহাগ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে রোববার নগরীর শিপইয়ার্ড রোডস্থ আরাফাত হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নিতে যান। চিকিৎসা নিতে গেলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তার শরীরে দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং ক্লিনিকেই রক্তের ব্যবস্থা আছে বলে জানানো হয়। সে মোতাবেক ক্রসম্যাচিং করে রোগীর রক্তের গ্রæপ ‘ও পজেটিভ’ বলে রিপোর্ট দেওয়া হয়। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী রোববার দুপুরে এক ব্যাগ ‘ও পজেটিভ’ রক্ত পুশ করা হয়। এরপর রোগীর অবস্থার অবনিত হলে রাতেই আরো এক ব্যাগ রক্ত পুশ করতে বলা হয়। কিন্তু ক্লিনিকে লোক না থাকায় রাতে রোগীর ছেলে সোহাগ ডোনারকে (রক্তদাতা) নিয়ে খুলনা সরকারি জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে রক্তদাতা ও রোগীর রক্তের গ্রæপে মিল না হলে পুণরায় রোগীর রক্ত নিতে বলা হয়। রোগীর রক্ত পরীক্ষা করে জেনারেল হাসপাতালের বøাড ব্যাংক থেকে জানানো হয় ফাতেমা বেগমের রক্তের গ্রæপ ‘বি নেগেটিভ’। বিষয়টি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা বিষয়টি মানতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীকালে রাতেই রোগীর স্বজনরা বিষয়টি আরো নিশ্চিত হতে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বøাড ব্যাংকে গিয়ে পরীক্ষা করান। সেখানেও একই রিপোর্ট দেওয়া হয়। সোমবার আবারো অধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও ফাতেমা বেগমের বøাড গ্রæপ ‘বি নেগেটিভ’ বলে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বøাড ব্যাংক থেকে নিশ্চিত করা হয়। এদিকে, রোগীর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় স্বজনরা বিষয়টি নিয়ে ক্লিনিক মালিক কামরুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু এ বিষয়ে তিনি কোনো ধরনের সন্তোষজনক সমাধান দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। যে কারণে সোমবার দুপুরে ক্ষুব্ধ রোগীর স্বজনরা ওই ক্লিনিকের মালিক কামরুজ্জামানকে মারধর করে অবরুদ্ধ করে রাখেন। রোগী ফাতেমা বেগমের ছেলে শেখ সোহাগ হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, “পায়ে সামান্য ব্যথাজনিত সমস্যা নিয়ে তার মাকে নিয়ে তিনি আরাফাত হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা নিতে যান। এ সময় ক্লিনিক কতৃপক্ষ বলে, আপনার মায়ের শরীর সাদা হয়ে গেছে, রক্ত দিতে হবে। সে মোতাবেক সাড়ে ৫০০ টাকা নিয়ে গ্রæপ ও ক্রসম্যাচিং করে তারা ‘ও পজেটিভ’ রিপোর্ট দেয়, যা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। আসলে তার মায়ের রক্তের গ্রæপ ‘বি নেগেটিভ’। তাই মাকে সোমবার ওই ক্লিনিক থেকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের শর্তে ক্লিনিক মালিক মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আপাতত আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।; ক্লিনিক মালিক মো. কামরুজ্জামান রোববার ঘটনার পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘রক্তের গ্রæপ ভুল হয়ে গেছে। কিন্তু তাতে কোনো সমস্যা নেই। রোগীতো মারা যায়নি।’ এ বিষয়ে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘কোনো রোগীর শরীরে ভুল রক্ত দেওয়া হলে মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তবে ওই ক্লিনিকের বিষয়ে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বলতে পারবেন। এটি আমার এলাকার মধ্যে পড়ে না। ওই ক্লিনিকটির অনুমোদন আছে কি না, সে বিষয়েও আমি কিছু বলতে পারব না।’ উল্লেখ্য, আরাফাত হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারটিতে দীর্ঘ দিন ধরেই অপচিকিৎসার অভিযোগ রয়েছে। কথিত আছে ক্লিনিক মালিক মো. কামরুজ্জামান নিজেই চিকিৎসা করে থাকেন। গ্রামের রোগীরাই তাদের প্রধান টার্গেট। ইতোপূর্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে আবারো সবকিছু ম্যানেজ করে কামরুজ্জামান অপচিকিৎসা শুরু করেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *