কাটলো রপ্তানির অনিশ্চয়তা : অবশেষে সাতক্ষীরার হিমসাগর যাচ্ছে ফ্রান্স, ইতালিতে
আরিফুল ইসলাম রোহিত: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রায় শেষ সময়ে এসে পঞ্চম বারের মতো বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে সাতক্ষীরার বিষমুক্ত নিরাপদ আম।
মঙ্গলবার (২৭ মে) দুপুরে সদর উপজেলার ছয়ঘরিয়া গ্রামের আলী রেজার আম বাগানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল এই রপ্তানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার আম যাচ্ছে ফান্স ও ইতালিতে। যদিও এর পরিমান খুব কম।
এ লক্ষ্যে সোমবার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম, সদর উপজেলা কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন, সলিডারিডাড কর্মকর্তা নাজমুন্নাহারসহ অন্যান্যদের উপস্থিতিতে ওই বাগানের আম ভাঙা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কৃষি প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, শুধুমাত্র বিদেশে রপ্তানির জন্যই বিষমুক্ত আমের উৎপাদন করলে হবে না। দেশের বাজারেও বিষমুক্ত আম বাজারজাত করতে হবে। দেশের বাজারে যদি বিষমুক্ত আম সরবরাহ করতে পারি তবে আমের চাহিদা আরও বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, আবহাওয়া ও জলবায়ুগত কারণে সাতক্ষীরার আম আগেই খাওয়ার উপযোগী হয়। এজন্য এই অঞ্চলের আম আগেই বাজারে পাওয়া যায়। যে কারণে এই আমের চাহিদা বেশি। এসব আম যদি বিষমুক্ত ও নিরাপদ হয় এবং তা নিশ্চিত করা যায় তবে বিশ^ব্যাপী সাতক্ষীরাকে আমের জেলা বলে পরিচিতি করানো সম্ভব। ইতোমধ্যে জেলার আমের যে সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে তা অবশ্যই আমাদের জন্য গৌরবের।
সলিডারিডাড সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি সংস্থা সলিডারিডাড ও উত্তরণের সহযোগিতায় এই আম রপ্তানি হচ্ছে। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ইসলাম এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে এসব আম পৌঁছে যাবে ফ্রান্স ও ইতালিতে। তবে এবছর অতিরিক্ত তাপ থাকার কারণে এবং আগে থেকে আম পরিপক্ক হওয়া এবং রপ্তানি নিয়ে এক অনিশ্চয়তায় চাষীরা বেশিরভাগ গাছের আম আগেভাগে বিক্রি করে দিয়েছেন। এসব আম দেশের বড় বড় সুপারশপে পাওয়া যাচ্ছে।
সোমবার ৬শ ৯৬ কেজি হিমসাগর আম রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হয়। ধাপে ধাপে রপ্তানিকারকদের চাহিদা অনুযায়ী আম রপ্তানি কার্যক্রম চলবে মৌসুমের শেষ পর্যন্ত। তবে মৌসুমের শেষ পর্যন্ত আম রপ্তানি করা নিয়ে রয়েছে নানা শংকা। কারণ হিসেবে বেসরকারি সংস্থা সলিডারিডাড জানায়, রপ্তানি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বেশিরভাগ আম চাষী তাদের গাছের নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম দেশের বাজারেই বিক্রি করে দিয়েছেন।
আম চাষী আলী রেজা হোসেন অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, দেশের বাইরে আমার বাগানের আম রপ্তানি হবে এটা জেনে আমি খুবই আনন্দিত। কিন্তু বেশ কিছুদিন যাবৎ রপ্তানি নিয়ে আমরা এক অনিশ্চয়তায় ভুগছিলাম। সেই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে এবার রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে- এটা ভালো। তবে আমাদের বেশিরভাগ আম আগেই দেশীয় বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়ে গেছে। আগামীতে আমাদের রপ্তানির নিশ্চয়তা দিলে আরও বেশি পরিমাণে আম উৎপাদনের চেষ্টা করবো।
সলিডারিডাড কর্মকর্তা নাজমুন্নাহার জানান, এটা চলতি মৌসুমের প্রথম ধাপের আম রপ্তানি কার্যক্রম। ধাপে ধাপে আরও রপ্তানি করা হবে। তবে বেশিরভাগ চাষী তাদের আম দেশীয় বাজারে বিক্রি করে দেওয়ায় একটা সংকটের সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply