ঢাকাFriday , 24 May 2019
  1. Mobile Phones
  2. Photography
  3. Video
  4. অনলাইন
  5. অপরাধ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আশাশুনি
  8. ইসলাম
  9. উন্নয়ন
  10. উপকূল
  11. এক্সক্লুসিভ
  12. এনজিও
  13. কয়রা
  14. কলাম
  15. কলারোয়া

ভয়াল ২৫ মে আজ : প্রলয়ংকারী জলোচ্ছ্বাস আইলায় লণ্ড-ভণ্ড হয় উপকূল

admin ঢাকা
আপডেট: 24 May 2019, 22:43

স.ম. ওসমান গনী সোহাগ: ভয়াল ২৫ মে আজ। ২০০৯ সালে, ১০ বছর আগে এই দিনে প্রলয়ংকারী জলোচ্ছ্বাস আইলায় লণ্ড-ভণ্ড হয় গোটা উপকূলীয় এলাকা। ভয়াল এই দিনটির কথা মনে উঠলে আজও উপকূলবাসী শিউরে ওঠে। স্বজন হারানোর বেদনায় কাতর হয়ে পড়েন অনেকে। তারপরও কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে রীতিমত দুর্যোগের সাথে যুদ্ধ করে আজও টিকে আছে এ অঞ্চলের মানুষ। এখনো রাস্তার ওপর ঝুপড়িতেই রাত কাটছে অনেকের।
২০০৯ সালের ২৫ মে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ‘আইলা’ আঘাত হানে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জনপদে। মুহূর্তের মধ্যেই সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা লণ্ড-ভণ্ড হয়ে যায়। স্বাভাবিকের চেয়ে ১৪-১৫ ফুট উচ্চতায় সমুদ্রের পানি এসে নিমিষেই ভাসিয়ে নিয়ে যায় নারী ও শিশুসহ কয়েক হাজার মানুষ, হাজার হাজার গবাদিপশু আর ঘরবাড়ি। ক্ষণিকের মধ্যে গৃহহীন হয়ে পড়ে লাখো পরিবার। লাখ লাখ হেক্টর চিংড়ি আর ফসলের ক্ষেত তলিয়ে যায়। ধ্বংস হয়ে যায় উপকূল রক্ষা বাঁধ আর অসংখ্য ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
সর্বনাশা আইলা’র আঘাতে শুধু সাতক্ষীরায় নিহত হয় ৭৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশু, আর আহত হয় দুই শতাধিক মানুষ। প্রলংয়করী আইলা আঘাত আনার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও উপকূলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর ও আশাশুনির প্রতাপনগর এলাকায় মানুষের হাহাকার এতটুকু থামেনি। দু’মুঠো ভাতের জন্য জীবনের সঙ্গে রীতিমত লড়াই করতে হচ্ছে তাদের। আইলার পর থেকে এসব এলাকায় সুপেয় পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। খাবার পানির জন্য ছুটতে হচ্ছে মাইলের পর মাইল। আইলা কবলিত এ অঞ্চলের রাস্তাঘাট এখনও ঠিকমত মেরামত করা হয়নি। বিশাল এ জনপদে খুবই কম সংখ্যক সাইক্লোন সেন্টার রয়েছে।
আইলা’র ভয়াবহতায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নে বসবাসরত মানুষের চোখে মুখে এখনও ভয়ংকর সেই স্মৃতি ফুটে ওঠে। আইলার দশ বছর অতিবাহিত হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধগুলো এখনো সংস্কার হয়নি। সামান্য ঝড় কিংবা বৃষ্টিতেই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে এ জনপদের কয়েক লাখ মানুষ।
জলবায়ু পরিষদের ইয়ুথ টিম লিডার পিযুষ বাউলিয়া পিন্টু জানান, আইলায় ল-ভ- হয় শ্যামনগর তথা উপকূলীয় অঞ্চল। এরপর দশটি বছর পেরিয়ে গেলেও উপকূলীয় লাখ লাখ মানুষ তাদের ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। সহায় সম্পদ বলতে যা কিছু ছিল অনেকেরই সবটুকু জলোচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। তাছাড়া ঐ সময়কার নদীর প্রবল ভাঙনে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের বসতভিটা, আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। প্রায় গাছপালা শূন্য শ্যামনগর উপজেলার পরিবেশ এখনো সম্পূর্ণ ফিরে পায়নি তার পূর্বের রূপ। যে কারণে শুষ্ক মৌসুমে প্রচ- দাপদাহে মানুষের জীবনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। লবণাক্ততার কারণে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমিতে কৃষকরা আজো ঠিকমতো ফসল বুনতে পারছে না। বেসরকারি সংস্থা থেকে সহায়তা নিয়ে অনেক কৃষক লবণ সহিষ্ণু ধান চাষ করলেও এখনও লবণাক্ততার গ্রাস থেকে রেহাই পায়নি অনেক এলাকা।

বেসরকারি সংস্থা লিডার্স এর নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল বলেন, আমাদের এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আগে দরকার টেকসই বেড়িবাঁধ। কেননা একটু নিম্নচাপ হলেই সাগরের বাড়তি পানি আমাদের বেড়িবাঁধ ঠেকাতে পারে না। এ জন্য উপযুক্ত ও আধুনিক বেড়িবাধ নির্মাণ করতে হবে। আমাদের এই এলাকায় সুপেয় খাবার পানির চরম সংকট রয়েছে। এই সুপেয় খাবার পানির জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নিয়ে বড় বড় পুকুরে যদি পিএসএফ স্থাপন করা যায়, পুকুর খনন করা যায়, রিভার্স অসমোসিস সিস্টেম স্থাপন করা যায় তাহলে আমাদের এলাকার মানুষ সুপেয় খাবার পানি খেয়ে জীবন ধারণ করতে পারবে। সরকার যদি আইলা দুর্গত এলাকার দিকে একটু সুনজর দেয় তাহলে আমরা আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যেতে পারব। আর আমাদের এলাকার মানুষ যদি একটু সচেতন এবং একটু উদ্যোগী হয় তাহলে আমরা আগেকার মতো সেই মাছে ভাতে বাঙালি হিসেবে আবার গড়ে তুলতে পারব নিজেদেরকে। এজন্য ফসল উৎপাদন করার জন্য এক ফসলি কৃষি জমিকে দুই ফসলী কৃষিজমির আওতায় এনে টেকনোলজি প্রয়োগ করে বেশি ফসল উৎপাদন করাতে হবে।
শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস.এম আতাউল হক দোলন জানান, বেড়িবাঁধ, সুপেয় পানিসহ যে সব সমস্যা রয়েছে তা সমাধানের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আমাদের এই উপকূলীয় অঞ্চলে প্রথম দরকার টেকসই বেড়িবাঁধ। পুরাতন দিনের যে বেড়িবাঁধ আছে সেগুলো পরিত্যক্ত ও অপরিকল্পিত। ফলে একটু জলোচ্ছ্বাস হলেই আমাদের এলাকা প্লাবিত হয়ে দুর্ভোগের আর শেষ থাকে না। এজন্য আধুনিক ও পরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে শ্যামনগর উপজেলার জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০২০ সালের বর্ষা মৌসুমের আগেই উপকূলীয় এই অঞ্চলের নদী তীরবর্তী সকল বেঁড়িবাধ আধুনিকায়ন ও উঁচু করার কাজ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *