দেবহাটায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারীর পেনশনের টাকা আত্মসাত : ফেরত পেতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন
দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারীর পেনশনের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় টাকা ফেরত পেতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২২ মে) দুপুরে দেবহাটা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সাবেক কর্মচারী চাঁদপুর গ্রামের মৃত শেখ নজীর আলী ছেলে মো. আকবার আলী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে এমএলএসএস হিসেবে দীর্ঘদিন চাকুরী করে অবসরে গেছি। দীর্ঘ চাকুরী জীবন শেষে আমার শেষ সম্বল পেনশনের টাকা উঠানোর জন্য কাগজপত্র রেডি করতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপরেটর তানভীরের নিকট গেলে তিনি নৈশ প্রহরী আনিছুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। আনিছুর নৈশ প্রহরী হলেও অফিস সহকারীর দায়িত্ব পালন করেন। আমি আনিছুর রহমানের কাছে গেলে সকল কাগজপত্র ঠিক করতে প্রথমে ১২ হাজার টাকা দাবি করে। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করলে তারা আমাকে একের পর এক হয়রানী করতে থাকে। অবশেষে পেনসনের টাকা পেতে নয় টাকা নৈশ প্রহরী আনিছুরকে দেই। তার কিছুদিন পরে আমার পেনশনের টাকা চলে আসে। কিন্তু তানভীর এবং আনিছুর দীর্ঘদিন আমাকে টাকা না দিয়ে ঘোরাতে থাকে। তারা আমাকে পূর্বের ৩ হাজার এবং অতিরিক্ত আরো এক লক্ষ টাকার ঘুষ দাবি করে। আমার সোনালী ব্যাংক, দেবহাটা শাখার ৪৩৭৯ নং হিসাব নম্বরে মূল পেনশন ১৬ লক্ষ ১শত ১০ টাকা আসে। আমার একাউন্টের চেক নিয়ে তারা টাকা তুলে এক লক্ষ তিন হাজার টাকা কেটে নিয়ে বাকি ১৪ লক্ষ ৯৭ হাজার ১শত ১০ টাকা আমাকে দিয়ে দেয়। বিষয়টি আমি অফিসের কর্মচারীদের জানালে স্থানীয় এক ব্যক্তির উপস্থিতিতে গত ২৫ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টার দিকে আনিছুর ও তানভির আমাকে অফিসে ডেকে ৫০ হাজার টাকা ফেরৎ দেয় এবং তার দুদিন পরে আরো বিশ হাজার টাকা ফেরৎ দেয়। আমি তানভির ও আনিছুরের কাছে এখনো অবশিষ্ঠ ৪২ হাজার টাকা পায়। পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তারা আমার বাড়িতে যেয়ে হুমকি দেয় এবং আর কোন টাকা ফেরৎ দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। বিষয়টি আমি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. রনজিত কুমার রায়ের কাছে বলি। তখন তিনিও কোন কর্ণপাত না করে আমাকে অফিস থেকে বাহির করে দেয়। জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করছি বিষয়টি তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। যাতে আমার পেনশনের টাকা ফেরৎ পেতে পারি।

Leave a Reply