জমি থেকে উচ্ছেদের অভিযোগে মামার বিরুদ্ধে ভাগ্নের সংবাদ সম্মেলন
ডেস্ক রিপোর্ট: শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে মা খালাদের জমি থেকে উচ্ছেদের অভিযোগে মামার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে কলারোয়া উপজেলার মাদরা গামের মুনসুর আলির ছেলে মো. আলাউদ্দিন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন তার মা সুফিয়া বেগম ও খালা রোকেয়া বেগম।
লিখিত বক্তব্যে আলাউদ্দিন বলেন, তিনি বলেন মা ও খালাদের পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ২ একর ৪৭ শতক জমির মধ্যে ৪১ শতক ভোগদখল করছিলাম। কিন্তু মামা কলারোয়ার মাদরা এলাকার জাকির হোসেন মা ও খালাদের বিবাদী করে মামলা করেন। ওই মামলার রায় ও ডিক্রি আসে আমাদের পক্ষে। এর বিরুদ্ধে মামা আপিল করলে সে রায়ও আসে আমাদের পক্ষে। এমনকি মা ও খালাদের বিবাদী করে যে পিটিশন মামলা করেছেন মামা, তার রায়ও আমাদের পক্ষে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে মো. আলাউদ্দিন আরো বলেন, কয়েক বছর আগে চেয়ারম্যান মেম্বর এবং বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টুর মধ্যস্থতায় আমরা ৫০ হাজার টাকা দেই মামা জাকিরকে। এরপর থেকে তিনি আর ওই জমি দাবি করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন। ২০১৩ সালের ২২ জুন তারিখের এ ঘটনার পর থেকে ওই জমি ভোগদখল করে আসছি। ওই জমিতে এবার আমার লাগানো ইরিধান প্রচুর হয়েছে। আমি ধানের একাংশ কেটে বাড়িতে আনি। একাংশ কেটে সেখানে ফেলে রাখি। বাকি অংশ কাটার অপেক্ষায় ছিলাম। এরই মধ্যে আমার মামা জাকির হোসেন তার সহযোগী ফজলু মন্ডল, কলিম মন্ডল, সামাদ মন্ডল, বাবু মন্ডল, শাহিন মন্ডল, শামীম মন্ডল আদালতের রায়কে অমান্য করে এবং সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত লংঘন করে জমিতে থাকা অবশিষ্ট ধান কেটে নেয়। শুধু তাই নয় আমার অনুপস্থিতিতে আমার বাড়িতে এনে রাখা ধান এবং ক্ষেতে কেটে রাখা ধান জোর করে লুট করে নিয়ে যান মামা জাকির হোসেন এবং তা মেশিনের মাড়াই শুরু করে। আলাউদ্দিন জানান, বিষয়টি কলারোয়া থানা পুলিশকে জানালে ওসির নির্দেশে একজন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যেয়ে সবাইকে শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন এবং কাগজপত্রসহ থানায় ডেকে পাঠান।
তিনি জানান, চারদিন পর পুলিশ সালিশ বিচার করে আমার পাওনা সব ধান ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয় মামা জাকির হোসেনকে। পুলিশের চাপের মুখে জাকির হোসেন ১০মন ধান দিলেও বাকি ধান বিক্রি করে ফেলেছেন বলে অজুহাত তোলেন। তবে তিনি সে ধান ফেরত দেবেন বলে পুলিশকে কথা দিলেও এখন পর্যন্ত কিছুই করেন নি।
আলাউদ্দিন বলেন, এসব ঘটনার পর মামা জাকির হোসেন ভিন্ন রূপ ধারণ করে বলেছেন তোরে জেলে ঢুকাবো। তোর ঘরে ফেনসিডিল রেখে কেস খাওয়াবো। তোদের দোকানে আগুন জ্বালিয়ে দেবো। তোদের পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলবো। তার এসব হুমকির মুখে আমি ও আমার পরিবার আতংকিত হয়ে পড়েছি।
তিনি এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

Leave a Reply