কলারোয়ায় মামলা করায় বাদীকে ফের মারপিটের হুমকি!
ডেস্ক রিপোর্ট: কলারোয়ায় মারপিটের মামলা করায় কয়েকটি পরিবারকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে সন্ত্রাসীরা। মামলা তুলে না নিলে ফের বাড়ি ঘরে হামলা করে এলাকা ছাড়া করা হবে বলেও হুমকি দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা।
উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ক্ষেত্রপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জয়নগর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শলোমন সরকার বলেন, ২০১৩ সালে জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসীরা তাকে সরসকাটি বাজারে মারপিট করে আহত করে। আওয়ামী লীগ ফের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসায় জামায়াত-শিবিরের লোকজন তাকে দূর থেকে হুমকি প্রদান করে আসছিলো। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাচনের পর হুমকিদাতা জামায়াত-বিএনপির সেইসব সদস্যরা আ.লীগে যোগদান করে প্রকাশ্যে আসে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে গত ৯ মে বিকেলে সরসকাটি বাজারে একা পেয়ে নব্য আওয়ামী লীগ সদস্য মৃত আছির বিশ্বাসের ছেলে রেজাউল বিশ্বাস, গোলাম গাজীর ছেলে সাবান আলী গাজী, ফজর আলী গাজী, ফজর আলী গাজীর ছেলে ইসকান্দার গাজী, রোকেন গাজী, ওবায়দার গাজী, আকছেদ আলীর ছেলে মোখলেছুর রহমান বাবু ও রামকৃষ্ণপুর গ্রামের রফিকুল গাজীর ছেলে ছিদ্দিক গাজী তাকে মারপিট করে জখম করে। প্রকাশ্যে এঘটনার সময় বাজারের লোকজন এসে তাদের কবল থেকে আমাকে উদ্ধার করে। এসময় তারা এলাকার খ্রিস্ট্রান সম্প্রদায়ের লোকজনকে এলাকা ছাড়া করারও হুমকি দেয়।
এঘটনায় তিনি বাদী হয়ে গত ১২ মে কলারোয়া থানায় আসামিদের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে গত দুই দিন খ্রিস্টান পাড়ায় ঢুকে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিচ্ছে। তারা ফের হামলা করে বাড়ি ঘর পুড়িয়ে দেয়ারও হুমকি দিচ্ছে। তাদের ভয়ে এলাকার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান শামছুদ্দিন আল মাসুদ বাবু জানান, আসামিরা জামায়াতের ফান্ডে অর্থ যোগানদাতা জয়দেব সাহার ঘনিষ্ঠ। তার উষ্কানিতে সন্ত্রাসীরা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে।
জয়নগর ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি মাস্টার আজিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, গত রোববার সন্ধ্যায় বিষয়টি দুই পক্ষকে ডেকে মিমাংসার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কিন্তু সেটা আর হয়ে ওঠেনি। এখন আইন যা করার করবে।
এবিষয়ে সরসকাটি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আসাদুজ্জামান বলেন, আসামিরা পলাতক। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মামলার বাদীসহ এলাকার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের আইনগত সহায়তা দেয়া হবে। কোন অবস্থাতেই এলাকার শান্তি-শৃংখলার অবনতি হতে দেয়া হবে না।

Leave a Reply