কালিগঞ্জে এনজিও কর্মীর বাড়িঘর ভাঙচুরসহ মারপিটের অভিযোগ!
কালিগঞ্জ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জে মিজানুর রহমান (৪০) নামে এক বীমা কর্মীকে মারপিট ও বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে তিনি রোববার (৫ মে) থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের মৃত আব্দুর রউফ মোড়লের ছেলে মিজানুর রহমান ২০১০ সাল থেকে জয়েন্ট ইসলামী ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্স লিমিটেড নামে একটি বীমা কোম্পানিতে মাঠ কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মিজানুর রহমানের চাকুরির সুবাদে সোনাতলা গ্রামের মোকছেদ সরদারের ছেলে মোজাম্মেল হক (৩৫), মৃত রায়হান সরদারের স্ত্রী জামিলা খাতুন (৪০), আবু সাঈদ সরদারের স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন (৩৫), আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন (৪০), খবির উদ্দিন গাজীর ছেলে শামছুর রহমান গাজী (৩৫) ও মৃত জিয়াদ আলী গাজীর ছেলে আশরাফ গাজী (৪০) মাঠকর্মী মিজানুর রহমানের সহযোগিতায় বীমার গ্রাহক হন। সেই সময় দেবহাটা উপজেলার দাদপুর গ্রামের এলাইউর রহমান গাজীর স্ত্রী মাহমুদা খাতুন (৫২) এবং তাদের মেয়ে নাজমা খাতুন (৩৫) নিজেরা উপস্থিত হয়ে ওই বীমা অফিসে গিয়ে বীমা খোলেন এবং বীমাকৃত টাকার কমিশন তারা নিজেরা উত্তোলন করেন।
এর কিছুদিন পর ওই বীমা কোম্পানি বন্ধ হযে যায়। এরপর মাহমুদা খাতুন ও তার মেয়ে নাজমা খাতুন মাঠকর্মী মিজানের বাড়িতে এসে টাকা দাবি করেন। ওই দুই গ্রাহক নিজেরা সরাসরি অফিসে গিয়ে গ্রাহক হওয়ায় মিজানুর রহমান তাদের টাকার দায়দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে এবছরের ৫ জানুয়ারি মাহমুদা খাতুন থানায় অভিযোগ দিলে থানার উপ-পরিদর্শক সুধাংশু শেখর হালদার বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের উপস্থিতিতে বিষয়টি মিমাংসা করে দেন।
এরপর গত ২৪ এপ্রিল মাহমুদা খাতুন এবং তার মেয়ে নাজমা খাতুনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী টাকার দাবিতে মিজানুরের বাড়িতে হামলা করে এবং তার স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন (৩৫) তাদের বড় ছেলে নাঈম আহমেদ (১২) ও ছোট ছেলে তাসনিম আহমেদকে (৪) মারপিট করে।
এব্যাপারে ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান জানান, আমি ওই জয়েন্ট ইসলামী ফাইন্যান্স অ্যান্ড কমার্স লিমিটেড এর মাঠকর্মী ছিলাম। মাহমুদা খাতুন ও নাজমা খাতুনের বীমার টাকার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। অথচ ওই চক্র আমাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে আমার বাড়ি ভাঙচুরসহ মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। হামলা, ভাঙচুর, মিথ্যাচার ও হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply