আশাশুনিতে ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে ধানের ক্ষতি
সমীর রায়, আশাশুনি: আশাশুনিতে ঘূর্ণিঝড় ফণীর আঘাতে অন্তত ১০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে, শনিবার (৪ মে) বিকাল থেকে আশ্রয় শিবিরে আশ্রিত প্রায় ৩১ হাজার মানুষকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে বলা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ মে) দিবাগত গভীর রাতে ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে প্রচ- ঝড়ো হাওয়া বইতে থাকে। তবে এতে কোন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সোহাগ খান জানান, ফণীর আঘাতে মানুষ কি পরিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। দুই-এক দিনের মধ্যে আমরা তালিকা পেয়ে যাব। তবে ঝড়বৃষ্টিতে ক্ষেতের ধানের ক্ষতি হয়েছে।
বিভিন্ন মাধ্যমে জানা প্রাথমিক তথ্যমতে, এ পর্যন্ত অনেক ঘরবাড়ি, দোকানপাট, নৈকাটি দাখিল মাদ্রাসাসহ কয়েকটি মাদ্রাসা ভবন আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে। গাছ-গাছালি উপড়ে পড়েছে। ১০ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ও রাত্রে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া ওয়াপদার বাঁধ ছাপিয়ে খোলপেটুয়া নদীর পানি ভিতরে ঢুকতে শুরু করে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ২ শতাধিক মানুষ বালির বস্তা ফেলে বাঁধটি মেরামত করেন। এছাড়া একই সময়ে আশাশুনি সদরের দয়ারঘাট গ্রামে চরম ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধটি ভেঙ্গে যাবার উপক্রম হলে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, ওসি ও ইউপি চেয়ারম্যান স ম সেলিম রেজা মিলন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঁধটি মেরামতে এগিয়ে আসেন। ফলে এ যাত্রা রক্ষা পেয়েছেন নদীর তীরের এলকাবাসী।
এদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এমএম মাহমুদুর রহমান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর আলিফ রেজা ও ওসি বিপ্লব কুমার নাথের নেতৃত্বে আগে থেকেই উপজেলা প্রশাসন, সিপিপিসহ সকল জনপ্রতিনিধিদের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করায় মানুষ নিরাপদে অবস্থান নেয়। এতে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। উপজেলার ২৬টি সাইক্লোন শেল্টার ও ৮১টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৩১ হাজার মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেন। সকল আশ্রয় শিবিরে ২০ মেট্রিক টন চাউল এবং ২ লক্ষ টাকার শুকনা খাবার পরিবেশন করে শুক্রবার ও শনিবার দুপুর পর্যন্ত খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া ১২টি মেডিকেল টিমের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা, পানি শোধন ট্যাবলেট প্রদান করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা জানান, বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান পরিবর্তন করায় দুর্যোগ সংকেত ৪ এ নেমে এসেছে। আর কোন শঙ্কা না থাকায় আশ্রয় কেন্দ্র থেকে সকলকে বাড়ি ফিরতে বলা হয়েছে।

Leave a Reply