কলারোয়া খাদ্য গুদামে চাল ক্রয়ে অনিয়ম, গুদাম কর্মকর্তা প্রত্যাহার
কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় খাদ্য গুদামে চাল ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে খাদ্য কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, কলারোয়ার অসাধু মিল মালিক সিন্ডিকেট গুদাম কর্মকর্তার সহায়তায় বাজারের পুরানো এবং টিআর কাবিখার চাল এনে খাদ্য গুদাম ভর্তি করার কাজ শুরু করে। গেল আউশ ও সদ্য সমাপ্ত আমন মৌসুমে কলারোয়ায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু উৎপাদন মৌসুমে মোটা এক বস্তা ধানের দাম মাত্র এক সপ্তাহের জন্য ১০৫০ টাকা হয়। আর সারা মৌসুম এবং বর্তমানে স্থানীয় বাজারে ৬০ কেজির বস্তা মোটা ধান সাড়ে ৯শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমন মৌসুমে ৬০ কেজি ধানে ৪২ কেজি পর্যন্ত চাল হয়। কিন্তু বস্তায় ৪০ কেজি চাল হিসাব করে প্রতিকেজি চালের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৪ টাকা। এক বস্তা ধানের কুড়া এবং ক্ষুদ (বাদ পড়া মরা ও ভাঙ্গা চাল) আরো দেড়’শ টাকা বিক্রি হয়। কেজি প্রতি আরো ২ টাকা খরচ ধরে চালের মূল্য দাড়ায় ২৬ টাকা। ফলে সরকারের কাছে ৩৬ টাকা দরে চাল বিক্রয় করে কেজি প্রতি ১০ টাকা মুনাফা হয়। কিন্তু এই মুনাফায় সন্তুষ্ট না হয়ে কতিপয় অসাধু মিল মালিক গুদাম কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বাজার থেকে কম দামে নিম্ন মানের চাল কিনে গুদামে সরবরাহ করতে থাকে।
চলতি ক্রয় মৌসুমে প্রথম দফায় কলারোয়া খাদ্য গুদামে ৮’শ ২৯ মেট্রিক টন চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এই চাল ক্রয়ের জন্য খাদ্য বিভাগ কলারোয়ার ১৪টি রাইচ মিলের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে মিল মালিক সমিতির সভাপতি অহিদুজামানের মিলের বয়লার অকেজো। বাকী মিলগুলো সচল থাকলেও অসাধু মিল মালিকরা আরো বেশি মুনাফার আশায় অসাধু পন্থায় সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করছে। বেশির ভাগ মিলে এলাকার লোকজন ভাড়ায় ধান শুকিয়ে মাড়াই করে নিয়ে যায়। ফলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অধিকাংশ মিল বিভিন্ন বাজার থেকে পুরানো চাল কিনে এনে এবং বিভিন্ন উপজেলায় টিআর কাবিখা খাতে প্রদত্ত চাল এনে কলারোয়া সরকারি গুদামে সরবরাহ করছে।
প্রতক্ষ্যদর্শী সূত্র জানায়, মিল থেকে সরবরাহ করা চালের বস্তার মুখে সেলাই এর উপর ঝুল ময়লা জমে আছে। অসংখ্য ছেড়া ফাটা সেলাই করা বস্তায় চাল ভরে গুদামে আনা হয়। কোন কোন বস্তার তলায় পট্টি দিয়ে তার ভিতর চাল আনা হয়েছে। পরে কলারোয়ার ২নং গুদামে খারাপ বস্তা পাল্টে ভাল বস্তায় চাল ভরার কাজ শুরু হয়। তদন্তে আরো চাঞ্চল্যকর দুর্নীতি বের হয়ে পড়বে বলে সূত্র জানায়।
এদিকে, বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়ায় খুলনা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার গুদাম কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এবিষয়ে গুদাম কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, জুটমিল থেকে নতুন বস্তা সরবরাহ না পাওয়ায় মহাপরিচালকের নির্দেশে পুরানো ছেড়া ফাটা সেলাই করে জোড়াতালি দেওয়া বস্তায় চাল সরবরাহ নেওয়া হয়েছে। তবে ময়লা, ছেড়া ফাটা, জোড়াতালি দিয়ে সেলাই করা বস্তা পাল্টানোর জন্য ভাল বস্তা এখন কোথায় পাওয়া গেছে তার কোন উত্তর তিনি দিতে পারেননি। টন প্রতি ৩ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে বাজারের টিআর কাবিখার চাল ক্রয়ের অভিযোগও গুদাম কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান অস্বীকার করেন। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনিরুজামানের মোবাইলে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply