ইয়ং টাইগার্স অ-১৬ বিভাগীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতা: সাতক্ষীরাকে হারিয়ে ফাইনালে যশোর
রাইয়ান সাকিল: সাতক্ষীরায় সরকারি কলেজ মাঠে ইয়ং টাইগার্স অ-১৬ জাতীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতার প্রথম সেমিফাইনালে যশোর জেলার মুখোমুখি হয় সাতক্ষীরা জেলা। এ ম্যাচে যশোরের দেওয়া টার্গেট পূরণ করতে ব্যর্থ হয় সাতক্ষীরা জেলা। ফলে যশোরের কাছে ৮ রানে হেরে ইয়ং টাইগার্স অ-১৬ জাতীয় ক্রিকেট প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেন তারা। সকালে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেন যশোরের অধিনায়ক মারুফ হোসেন। ব্যাটিংয়ে নামেন সানি ও সাদমান। দলীয় ১৫ রানে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে যশোরের। সাতক্ষীরার অধিনায়ক আশিকুরের বলে রকিবুলের হাতে ক্যাচ আউট হয়ে বিদায় নেন ওপেনার সানি। এরপর ৩ রানের মধ্যে আবারও আশিকুরের আঘাত পড়ে উইকেটে। এবার শূন্য রানে ফেরান দলের আরেক ওপেনার সাদমানকে। সাদমানের আউটের পর নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে নামেন সাকিব। অন্যপ্রান্তে থাকা সিফাতকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৩০ রানে জুটি গড়েন তিনি। সেই আশিকুরে তৃতীয় শিকার হন সিফাত। এই গতি বোলারের কাছে পরাস্ত হয় যশোরের ব্যাটসম্যানরা। তার বোলিং তোপে ২৯.১ ওভারে সবকয়টি উইকেট হারিয়ে ৯৮ রান সংগ্রহ করে যশোর জেলা। যশোরের হয়ে সর্বোচ্চ ২২ রান করেন সাকিব হোসেন। এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭ রান করেন সিফাত। সাতক্ষীরার হয়ে দুর্দান্ত বল করেন অধিনায়ক আশিকুর জামান। ৯.১ ওভার বল করে ৩ মেডেনসহ ২৫ রান দিয়ে আশিক ৬টি, আদনান ২টি, তানজীম ও শরিফ ১টি করে উইকেট লাভ করেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় সাতক্ষীরা জেলা। দলীয় ৪ রানে বিদায় নেন ওপেনার কৌশিক। এরপর উইকেটে নামেন রকিবুল। দলের আরেক ওপেনার তানভীরকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ২২ রানের জুটি গড়েন তিনি। আরিফের বলে ক্যাচ আউট হন এই ওপেনার। শুরুর ধাক্কা সামাল দিয়ে ব্যাট করতে থাকেন রকিবুল। অপরদিকে ভয়ংকর হয়ে উঠেন আরিফ। তার বলে এল বি ডব্লিউর ফাঁদে পড়ে আউট হয়ে যান রকিবুল। রকিবুলে আউটের পর চাপের মুখে পড়ে দলটি। চাপ সামলে দলের হাল ধরেন পঞ্চম জুটি। ওসমান ও মিরাজ মিলে এই জুটিতে ৪০ রান। কিন্তু দলীয় ৭৪ রানে ক্রিজে রান আউটে হয়ে এই দুই ব্যাটসম্যান।
এরপর আর কোন ব্যাটসম্যান উইকেট দাঁড়াতে পারেনি। জয়ের জন্য মাত্র ৮ রান দূরে থেকেই ৯০ রানে অলআউট হয় সাতক্ষীরা জেলা। ফলে সাতক্ষীরাকে ৮ রানে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে ফাইনালে উঠেছে যশোর জেলা। সাতক্ষীরার হয়ে সর্বোচ্চ ২২ রান করেন রকিবুল হাসান। যশোরের পক্ষে জয় ৪টি, মেহেদি ২টি, রাজ ও সাদমান ১টি করে উইকেট শিকার করেন।
খেলায় আম্পায়ার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন শেখ আখরুজ্জামান ও আবু হাসান। স্কোরার ছিলেন শেখ তৌফিকুর হাসান । শনিবার (২৬ জানুয়ারি) একই মাঠে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নড়াইল জেলা দলের মুখোমুখি হবে কুষ্টিয়া জেলা দল।

Leave a Reply